Ticker

6/recent/ticker-posts

মোটা হওয়ার সহজ উপায় ঘরোয়া পদ্ধতিতে



 মোটা হওয়ার সহজ উপায় ঘরোয়া পদ্ধতিতে

আমরা এমন একটা সময়ে বসবাস করছি যেখানে অধিকাংশ মানুষই চায় সুন্দর শারীরিক গঠন। একদম চিকন বা অতিরিক্ত ওজন কেউ  চায় না। অতিরিক্ত ওজন যেমন আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াবে ঠিক তেমনি অতিরিক্ত কম ওজন সেটিও আপনার শরীরের জন্য শঙ্কার কারণ হতে পারে।  স্লিম ধরনের চিকন হওয়া ভালো তবে একদম শুকনা হওয়া কিন্তু বিপদের কারণ। অতিরিক্ত চিকন হলে আমাদের আশেপাশে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব তাদের কাছ থেকে নানা ধরনের বিদ্রুপ  ও হাসিঠাট্টা শুনতে হয়।  আবার অতিরিক্ত মোটা একই অবস্থা তৈরি হয়।


এরকম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। এখন আমরা যারা অতিরিক্ত চিকন তারা যদি মোটা হওয়ার সহজ উপায় গুলি সম্পর্কে জানা থাকে তাহলে আমাদের জন্য মন্দ হয়না। তাই মোটা হওয়ার কারণসমূহ কি কি ,কোন খাবার  খেলে ওজন বাড়ে, ওজন বৃদ্ধির ব্যায়াম গুলো কি, ওজন বাড়ানোর জন্য কোন বিষয়গুলোর উপর আমাদের অধিক সতর্ক থাকতে হবে তা নিয়ে আজকে আমরা বিস্তারিত জানব।


আরো পড়ুন ইসুবগুলের ভুষির স্বাস্থ্য উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ওজন কম হওয়ার কারণ 


যখন আমরা কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজি তার আগে অবশ্যই আমাদের জেনে নেওয়া উচিত যে কী কারণে উক্ত সমস্যাটি সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণগুলো কি কি হতে পারে।  তাহলে আমরা খুব সহজেই উক্ত সমস্যার সমাধান করতে পারবো। ঠিক তেমনি ভাবে বিভিন্ন কারণে আমাদের শরীরের ওজন কম হতে পারে। এখানে  আমরা ওজন কম হওয়ার কারণ গুলো সম্পর্কে জানব। ওজন কম হওয়া কারণসমূহ:


১.অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস,

২. জেনেটিক কারণ,

৩. মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, 

৪.ডায়রিয়া, 

৫.ক্যান্সার,

৬.ডায়াবেটিকস , 

৭.এইডস, 

৮.হাইপারথাইরয়েডিজম, 

৯.আর্থ্রাইটিস, 

১০.যক্ষ্মা, 

১১.কিডনির সমস্যা, 

১২.ফুসফুসের সমস্যা, 

১৩.ড্রাগ নেওয়া ইত্যাদি।

এছাড়া আরো বিভিন্ন  কারণে আমাদের শরীরের ওজন কম হতে পারে। সেজন্য আমরা সর্বপ্রথম আমাদের ওজন কম হওয়ার কারণ গুলো খুজে বের করে তারপরেই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবো। 


চলুন জেনে নেওয়া যাক দ্রুত মোটা হওয়ার সহজ উপায়


আমাদের মোটা হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ফলো করতে হবে। যদিও এটা আমাদের জন্য কিছুটা কষ্টসাধ্য তারপরেও মন থেকে করলে অবশ্যই আমরা মোটা হতে পারব।


আরো পড়ুন গরমে মধুর উপকারিতা


সুষম খাবার খাওয়া:- আমরা মোটা হওয়ার প্রথম ধাপে  খাবারের প্রতি একটু মনোযোগ দিব। অর্থাৎ আমাদের খাবারের মধ্যে যে খাবার গুলো অধিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ  সেগুলো যোগ করবেন। আমাদের এমনসব খাদ্য গ্রহণ করতে হবে যেগুলোতে সকল ধরনের পুষ্টি গুন্  বিদ্যমান থাকে। খাবারের মধ্যে অবশ্যই কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন ও দুধ জাতীয় খাবার রাখতে পারি। যেসব ফলমূলের মধ্যে খনিজ উপাদান বিদ্যমান সেগুলোও খেতে পারি। এখানে একটা বিষয় লক্ষণীয় ওজন বৃদ্ধিতে কার্বোহাইড্রেটের বিকল্প অন্য কিছু খুবই কম। তাই আমাদের দিনে কমপক্ষে দুইবার কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে জেনে রাখা ভালো ভাত ও রুটি হচ্ছে কার্বোহাইড্রেট এর প্রধান উৎস। তার মানে এই নয় যে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলবেন। কেননা আমাদের শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাটের দিকেও নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে আমরা আমাদের খাবারের গুনাগুন সম্পর্কে জানার জন্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারি।


ব্যায়াম করা:- খাবারের পর আমাদের যে বিষয়টির উপর নজর দিতে হবে তা হচ্ছে ব্যায়াম। আমরা অনেকেই মনে করে থাকি যে ,ব্যায়াম  শুধুমাত্র আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আমরা খাবার খেয়ে যদি বিশ্রাম নিতে থাকি তাহলে অতিরিক্ত বিশ্রামের  ফলে আমাদের ক্ষুধামন্দা তৈরী হতে পারে।  সেজন্য আমাদের প্রয়োজন রেগুলার ব্যায়াম করা। কেননা ব্যায়াম আপনার ক্ষুধা বাড়াবে, হজম প্রক্রিয়া ভালো হবে এবং ব্যায়ামের ফলে আপনার ঘুমের নিশ্চয়তা দিবে। ব্যায়ামের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আমাদের জন্য দৌড়ঝাঁপই যথেষ্ট নয়। দরকার প্রতিদিন নিয়ম করে জিম করা। জিমে অভিজ্ঞ ট্রেইনার থাকেন ,আপনার ওজন এবং আপনার চেহারা দেখে তিনি আপনাকে বলে দিবেন কোন কোন ব্যায়াম গুলো আপনার জন্য প্রযোজ্য।


অধিক হারে ক্যালোরি গ্রহণ :- আমরা হয়তো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমাদের চারপাশের লক্ষ্য করলে দেখে থাকবো ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অনেকেই অধিকহারে ক্যালরি বার্ন  করে। কিন্তু ওজন বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের ঠিক উল্টো কাজটি  করতে হবে অর্থাৎ আমাদের অধিকহারে ক্যালরি গ্রহণ করতে হবে। ক্যালোরি গ্রহণ আমাদের ওজন বৃদ্ধিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করে। দ্রুত ওজন বাড়ানোর জন্য আমাদের দিনে কমপক্ষে ছয়শো থেকে সাতশ ক্যালোরি  গ্রহণ করতে হবে। আর যদি ওজন আস্তে আস্তে বাড়াতে  চান  তাহলে সে ক্ষেত্রে চারশো  থেকে পাঁচশো  ক্যালোরি আপনার জন্য যথেষ্ঠ হবে। তবে অনেকের মতেই ধীরগতিতে ওজন বাড়ানো উত্তম।


কিছুক্ষন পর পর খাবার গ্রহণ:- আমরা এতক্ষণে আমাদের খাবারের তালিকা হয়তো করে ফেলেছি। এখন আমরা আমাদের খাবারগুলো কখন বা কতক্ষণ পর পর খাওয়া উচিৎ সেটা হয়তো অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে। আসলে প্রতিটি মানুষের জন্যই কিছুক্ষণ পরপর খাবার গ্রহণ করা উচিত। তবে যারা দ্রুত মোটা হতে চান তাদের কমপক্ষে ২ ঘণ্টা পর পর বেশি পরিমাণে খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। দুই ঘন্টা পর পর হয়তো আমরা ভারী খাবার গুলো খেতে পারব না তবে এ সময় আপনি দুধ, দই, ফল ইত্যাদি দিয়ে পুষিয়ে নিতে  পারেন। এতে আপনার শরীরের ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করতে সহায়তা করবে। এটি মোটা হওয়ার অন্যতম সহজ উপায়।


শুকনা খাবার গ্রহণ:- আমরা আমাদের খাবারের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের শুকনা খাবার রাখতে পারি। কেননা শুকনা খাবারে থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি। শুকনো খাবারের মধ্যে কাজুবাদাম ,কিসমিস, বিভিন্ন ধরনের বীজ ইত্যাদি রয়েছে। আমাদের রেগুলার শুকনো খাবার গ্রহণের মাধ্যমে সহজেই মোটা হতে অনেক সাহায্য করে। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠার পর কমপক্ষে দুটি কাজু বাদাম ও  দুটি কিসমিস খেতে হবে। এটা কোনভাবেই ভোলা  উচিত নয়। নিয়ম মেনে প্রতিদিন কিছু কিছু ড্রাই ফুড খাওয়ার মাধ্যমে  আপনি সহজেই ওজন বাড়াতে পারেন।


চিন্তা মুক্ত থাকা:-আমাদের রেগুলার খাবার ,ব্যায়াম ও কেলোরি গ্রহণের  পরপরই আরেকটি বিষয়ের উপর গভীর মনোযোগ দিতে হবে। সেটি হচ্ছে আমাদের চিন্তামুক্ত থাকতে হবে। বলা হয়ে থাকে চিন্তায়  হচ্ছে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সকল সমস্যার মূল কারণ। ওজন বাড়াতে চিন্তা মুক্ত থাকা কোনো বিকল্প নেই। যদিও আমরা চাইলেও চিন্তামুক্ত থাকতে পারি না।  তার পরেও আমাদের শতভাগ চেষ্টা করতে হবে যেন আমরা চিন্তা মুক্ত জীবন যাপন করতে পারি। 


পরিমান মতো ঘুম:-পরিমাণমতো ঘুম এটা আমাদের শরীরকে সতেজ রাখার জন্য  অপরিহার্য। দিনে কমপক্ষে আমাদের ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। এছাড়া ঘুম থেকে উঠে এগুলার ইয়োগা বা যোগাসন করতে পারেন। এগুলো আপনার ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ঠিক তেমনি ভাবে আপনাকে অনেক মানসিক প্রশান্তির দিবে। 

ওজন বৃদ্ধি, হ্রাস অথবা শারীরিক যেকোন কাজের ক্ষেত্রেই পানি খুব উপকারী। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। নিয়ম করে এই মোটা হওয়ার সহজ উপায় লক্ষ্য করলেই আপনি ওজন বৃদ্ধি করে পাবেন সুন্দর স্বাস্থ্য। নিজের যত্ন নিন ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন।


তাড়াতাড়ি মোটা হওয়ার জন্য খাবার তালিকা 


আমরা আপনাদের সুবিধার্থে খাবারের কিছু তালিকা করেছি। অর্থাৎ আপনি কোন সময় কি খাবেন বা কতটুকু পরিমান খাবেন তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হল:


সকালে যা খাওয়া যেতে পারে 


  • ১ কাপ দুধ - (১৪৬ ক্যালোরি )

  • ১ টা মাঝারি কলা - (১০৫ ক্যালোরি )

  • ১ টা ডিম্ - (৭১.৫ ক্যালোরি )

  • ১০০ গ্রাম খেজুর - (২৭৭ ক্যালোরি)


দুপুরে  যা খাওয়া যেতে পারে 


  • ১ কাপ রান্না করা ডাল  - (২৩০ ক্যালোরি )

  • ১ কাপ ত্বক দই  - (১৪৯ ক্যালোরি )

  • ১০০ গ্রাম মুরগির মাংস  - (১৭৯ ক্যালোরি)


বাদাম

 

  • কাজু বাদাম ২৮.৩৫ গ্রাম - ১৫৭ ক্যালোরি 

  • কাঠ বাদাম ২৮.৩৫ গ্রাম  - ১৬৪ ক্যালোরি 

  • পেস্তা বাদাম ২৮.৩৫ গ্রাম - ১৫৯ ক্যালোরি 

  • চিনা বাদাম ২৮.৩৫ গ্রাম  - ১৬১ ক্যালোরি


কিসমিস 

  • কিসমিস ২৮.৩৫ গ্রাম - ৮৪.৮ ক্যালোরি  


বীজ 

  • সূর্যমুখীর বিচি ২৮.৩৫ গ্রাম - ১৬৩ ক্যালোরি 

  • মিষ্টিকুমড়ার বিচি ২৮.৩৫ গ্রাম - ১৭৫ ক্যালোরি  

  • তিলের বীজ ২৮.৩৫ গ্রাম  - ১৬১ ক্যালোরি



মোটা হওয়ার জন্য যেসব ভুল করবেন না


আমরা দ্রুত ওজন বাড়ানোর জন্য অনেকেই অনেক ধরনের ভুল করে থাকি। এসব ভুলের কারণে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিল সমস্যা দেখা দেয়।  আমরা দেখে নেই মোটা হওয়ার জন্য কোন ভুলগুলো করা উচিত নয় :


মোটা হওয়ার জন্য কোন প্রকারের ঔষধের সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন নাই।  যদি আপনি কোনো ধরনের ভিটামিন বা অন্য কোন খাদ্য উপাদানের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে ইচ্ছুক হন তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 


মোটা হওয়ার জন্য অনেকেই স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই গ্রহণ করে থাকেন। এর ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। আপনি বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির কবলে পড়েন। যার ফলে  সারাজীবন ধরে  ভুগতে থাকেন।এই ভুল কখনোই করা যাবে না। 


মোটা হওয়ার জন্য অনেকেই আমরা অতিরিক্ত বাহিরের খাবার খেয়ে থাকি। যেমন পিজা ,বার্গার , বিভিন্ন ধরণের ভাজা পোড়া , কেক ইত্যাদি। আসলে আমরা ভেবে থাকি এগুলো আমাদের শরীরের জন্য কার্যকর। কিন্তু এসব শরীরের অনেক ক্ষতি করে। কেননা জাঙ্কফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর।


আমাদের হয়তো মানুষ শুকনা  বলে লোকে ঠাট্টা করে। মনে রাখবেন সুস্থতা জরুরি সেজন্য ওজন কম হলেও মন খারাপ করে উল্টা পাল্টা কোনো ওষুধ বা খাবার গ্রহণ করা যাবে না। কেননা অনেকে জীন গত কারণে মোটা হতে পারে না।  ফলে আমাদের ভালো দিকটি মাথায় রেখে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। 



আমাদের শরীরের ওজন বৃদ্ধি ,হ্রাস  অথবা শাহরিক যেকোনো কাজের জন্যেই পানির বিকল্প নেই। তাই আমাদের প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।  কোনো ভাবেই হেলা  করা যাবে না। আমাদের জীবনে নিয়ম করে এই মোটা হওয়ার সহজ উপায় গুলো অনুসরণ করলেই আশাকরি আপনি ওজন বৃদ্ধি করার মাধ্যমে পাবেন সুন্দর স্বাস্থ্য। পরিশেষে বলবো নিজের যত্ন নিন নিজে ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন ধন্যবাদ।




Post a Comment

0 Comments