Ticker

6/recent/ticker-posts

ঈদ উল আযহার নামাজ পড়ার নিয়ম



 ঈদ উল আযহার নামাজ পড়ার নিয়ম


সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে ঈদ মানে খুশি ঈদ মানে আনন্দ। মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসব হলো ঈদ।  প্রতিবছর মুসলমানরা দুইটি ঈদ পালন করে থাকে একটি হচ্ছে ঈদ-উল-ফিতর এবং অন্যটি হচ্ছে ঈদ উল আযহা। বছরে এই দুই ঈদে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঈদের জামাত আদায় করে থাকে।  


অনেকেই হয়তো জানেনা ঈদের নামাজ কিভাবে আদায় করতে হয়।  ঈদুল আযহার নামাজ অন্যান্য নামাজের মতই আদায় করতে হয়। এ নামাযের মধ্যে রুকু আছে সিজদা আছে ,তাশাহুদ আছে। ঈদের নামাজ দুই রাকাত জামাতে আদায় করতে হয় এবং আদায় করা ওয়াজিব। এখানে পার্থক্য হচ্ছে শুধুমাত্র অতিরিক্ত ছয় তাকবীর দিতে হয়। ঈদুল আযহার নামাজ কিভাবে আদায় করবেন তা সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।


সূচিপত্র :

  • ঈদ উল আযহার নামাজ পড়ার নিয়ম
  • ঈদ উল আযহার গুরুত্ব
  • ঈদুল আযহা নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও তাকবীর
  • ঈদ উল আযহার তাকবীর
  • ঈদ-উল-আযহা নামাজের সুন্নত সমূহ
  • ঈদ-উল-আজহার মুস্তাহাব সমূহ
  • বাংলাদেশে ঈদ-উল-আযহা ২০২৩ কবে, কত তারিখে



ঈদ উল আযহার গুরুত্ব

ঈদ-উল-আজহার সময় একটি অন্যতম কাজ হচ্ছে কুরবানী করা। কুরবানী মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যে ব্যক্তির সামর্থ্য রয়েছে কুরবানী করার তার উপর কুরবানী ওয়াজিব। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় কুরবানী সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে- মহান রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের আশায় নির্ধারিত তারিখের মধ্যে হালাল কোন পশু আল্লাহর নামে জবাই করা। 


ইসলামে কুরবানি এটা নতুন কোন প্রথা নয়। বরং এটা আদিকাল থেকে হয়ে আসছে। হযরত আদম (আ:) এর যুগে কুরবানীর সূচনা হয়েছিল।


আরো পড়ুন কুরবানির মাসআলা


হযরত আদম (আ:) এর সন্তানদের মধ্যে অর্থাৎ হাবিল কাবিলের মধ্যে বিবাহ শাদী নিয়ে যখন বিরোধ দেখা দিল তখন আল্লাহ তাআলা তাদের এখলাসের সঙ্গে হালাল পশু কুরবানী করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বললেন তোমাদের মধ্যে যার কুরবানী আমার নিকট কবুল হবে তার কাছে মেয়ে বিবাহ দেওয়া হবে।


হাবিল ও কাবিল আল্লাহ কুরবানীর নির্দেশ পেয়ে  তারা কুরবানী করল এই সময় হাবিলের কুরবানী আল্লাহর কাছে কবুল হয়েছিল। কাবিল এর টা  কবুল হয়নি। কাবিলের কুরবানী কবুল না হওয়ার কারণে সে হাবিলের উপর অনেক ক্ষিপ্ত হয়েছিল এবং বলেছিল আমি তোমাকে হত্যা করে ফেলবো।


এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- হে নবী আপনি তাদের নিকট যথাযথভাবে আদম (আ:) এর পুত্রদ্বয়ের কথা আলোচনা করুন ,যখন তাঁরা মহান রবের নিকট তাদের কুরবানীকে পেশ করল তখন একজনের কবুল হলো অন্যজনের হলো না। যার  কুরবানী কবুল হলো না সে ক্ষিপ্ত হয়ে অন্য জনকে বলল আমি তোমাকে খুন  অর্থাৎ হত্যা করে ফেলবো। পালনকর্তা একমাত্র মুত্তাকীদের কুরবানি কবুল করেন। (সূরা মায়িদা: 27 )


কুরবানীর গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে মহান আল্লাহ কুরআন কারীমে পেশ করেন -আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানীর নির্ধারণ করেছি যাতে তারা হালাল পশু জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে। ( সূরা হাজ :34) আল্লাহ তাআলা কুরআন কারীমে আরো ইরশাদ করেন যে নিশ্চয়ই আমার নিকট কুরবানীর পশুর গোশত ও রক্ত কিছুই কবুল হয় না তবে আমার নিকট পৌছে একমাত্র তাকওয়া। ( সুরা হজ :37)


ঈদুল আযহা নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও তাকবীর


নিয়ত 


نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ تَعَالىَ رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ الْعِيْدِ الْفِطْرِ مَعَ سِتِّ التَكْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ



উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকাআতাইন সালাতিল ইদিল ফিতরি মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াঝিবুল্লাহি তাআলা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াঝঝিহান ইলা ঝিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি 'আল্লাহু আকবার।


অর্থ :আমি ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি- 'আল্লাহু আকবার'।


আরো পড়ুন কোরবানি করার নিয়ম ও পদ্ধতি


আমরা অনেকেই মনে করে থাকি নিয়ত আরবিতে করা জরুরি। এটা আসলে আমাদের ভুল ধারণা। আমরা যে কোনো ভাষাতেই নিয়ত করতে পারব।


ঈদ-উল আযহা নামাজের নিয়ম


ঈদ-উল-আজহার নামাজ দুই রাকাত। যাতে কোনো ইকামত নেই। ইমামের সঙ্গে তাকবীরে তাহরীমা "আল্লাহু আকবার " বলে উভয় হাত বাধতে হবে।  তাকবীরে তাহরীমা পর আমাদের ছানা পড়তে হয়।  ছানা :- সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা ঝাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুক।


এরপর তিন তাকবীর দেওয়া। এক তাকবীর থেকে অন্য তাকবীর ৩ তসবিহ  পরিমাণ সময় বিরত থাকা। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবীরের সময় উপহার হাত উঠিয়ে আবার ছেড়ে দিতে হয়। যখন তৃতীয় তাকবীর দেওয়া হবে তখন উভয় হাত তাকবীরে তাহরীমার মত বেঁধে নিতে হয়। এরপর আউযুবিল্লাহ -বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে অন্য একটা সূরা মিলাতে হয়। এরপর অন্যসব নামাজের মত রুকু সেজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত শেষ করা। 


এরপর ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা এবং অন্য আরেকটি সূরা মিলানোর পর অতিরিক্ত ৩ তাকবীর দিতে হয়। এই ক্ষেত্রেও ঠিক প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবীরে মত উভয় হাত উঠিয়ে  ছেড়ে দেওয়া এবং তৃতীয় তাকবীর দিয়ে তাকবীরে তাহরীমার মত হাত  নিতে হয়। এরপর রুকুর তাকবীর দিয়ে রুকুতে যাওয়া, সেজদা আদায় করা। এরপর  বৈঠকে বসে তাশাহুদ, দুরুদ ,দোয়া মাসুরা ,পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা। 


আরো পড়ুন কোরবানির মাংস খাওয়ার নিয়ম


সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করার পর ইমাম মিম্বরে উঠে দুটি খুতবা দিবেন। দুটি খুৎবাহর মাঝের ইমাম সামান্য সময় বসবে। প্রথম খুতবা দেওয়ার সময় ৯ তাকবীরের সাথে খুতবা শুরু করবে এবং দ্বিতীয় খুতবা সময় ৭ তাকবীরের সাথে খুতবা শুরু করবে। খুতবা শেষে ঈদুল আযহার কোরবানির হুকুম  আহকাম বিষয়ে মুসল্লিদের স্মরণ করিয়ে দিবে।


ঈদ উল আযহার তাকবীর


ঈদের নামাজের সালাম ফেরানোর পর মুসল্লিগণ তাকবীর পড়বে। নিচে আরবি সহ বাংলা উচ্চারণ দেওয়া হলো :


اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَروَلِلهِ الْحَمْد


উচ্চারণ: ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’



ঈদ-উল-আযহা নামাজের সুন্নত সমূহ


ঈদ উল আযহার দিনে কিছু সুন্নত কাজ রয়েছে। সেগুলো আমরা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করব। যেমন:- 


  1. ঈদুল আযহার দিনে কিছু না খেয়ে ঈদগাহে গিয়ে নামাজ পড়া সুন্নত। আর যে ব্যক্তি কুরবানী করবে তার জন্য পশু  জবাই না হওয়া পর্যন্ত কিছু না খাওয়া সুন্নত। 
  2. ঈদের নামাজ পড়ার জন্য ঈদগাহে যাওয়ার সময় এবং ফিরে আসার সময় উচ্চস্বরে তাকবীর পড়া সুন্নত। 
  3. ঈদুল আযহার নামাজ ঈদ-উল-ফিতর অপেক্ষা অধিক সকালে পড়া সুন্নত। 
  4. পুরুষদের জন্য উচ্চ আওয়াজে তাকবীর দেওয়া সুন্নত।


ঈদ-উল-আজহার মুস্তাহাব সমূহ


ঈদুল আযহার সুন্নতের পাশাপাশি কিছু মুস্তাহাব ও রয়েছে। এগুলো আমরা মেনে চলার চেষ্টা করব |


  1. ইমাম ব্যতীত  অন্যান্য সকল মুসল্লিগণ সকাল সকাল ঈদগাহে যাবে এবং প্রথম কাতারের দিকে অগ্রসর হবে। 
  2. যদি ঈদগাহ বেশি দূরে না হয় অর্থাৎ যদি সম্ভব হয় তাহলে পায়ে হেঁটে এক পথ দিয়ে যাবে এবং অন্য পথ দিয়ে ফিরে আসবে। 
  3. ঈদুল আযহার নামাজ সকাল-সকাল আদায় করা মুস্তাহাব। 
  4. ঈদের সময় পরস্পর পরস্পরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করা মুস্তাহাব। 
  5. ঈদে আনন্দিত হওয়া এবং আনন্দ প্রকাশ করা মুস্তাহাব।


বাংলাদেশে ঈদ-উল-আযহা ২০২৩ কবে, কত তারিখে


উল্লেখ্য যে মুসলিম ধর্মালম্বীরা জিলহজ্ব মাসের 10 তারিখে ঈদুল আযহা পালন করে থাকে। সেই হিসেবে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ২৮ জুন  বুধবার ঈদ উল আজহা  পালিত হবে।


ঈদ মানে হাসি ঈদ মানে খুশি।  ঈদের দিন হচ্ছে আমাদের সকল দুঃখ-কষ্ট ভুলে আনন্দ প্রকাশ করার দিন।  ঈদ সবার জীবনে বয়ে আনুক অপার খুশি এই কামনাই করি। অগ্রিম ঈদ মুবারক।




Post a Comment

0 Comments