Ticker

6/recent/ticker-posts

কুরবানির মাসআলা

 

কুরবানির মাসআলা

ইসলামে কোরবানি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইবাদতের মূল কথা হলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি এবং আনুগত্য করা। তাই আল্লাহতালার যে কোন ইবাদতের পূর্ণতার জন্য দুটি বিষয় জরুরী এবাদত  অর্থাৎ  এবাদত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করা এবং  শরীয়তের নির্দেশনা মোতাবেক মাসায়েল অনুযায়ী সম্পাদন করা।
যেহেতু কোরবানি একটা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং এটি করা ওয়াজিব। কুরবানী সম্পর্কে হাদিস শরীফে এসেছে "যে ব্যক্তি সামর্থ থাকা সত্ত্বেও এই ইবাদত পালন করে না অর্থাৎ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করে না সে যেন  আমাদের ঈদগাহে না আসে" মুস্তাদরাকে হাকিম ,হাদিস ৩৫১৯।
যেহেতু আর অল্প কয়েকদিন পরেই আমাদের এইখানে অর্থাৎ বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। আমরা অনেকেই কুরবানী করব কিন্তু কুরবানী সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই সঠিক ধারণা নেই। আমরা যেন সঠিক নিয়মে পশু ক্রয় করে আল্লাহর উদ্দেশ্যে বা আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য কুরবানী করতে পারি এবং কুরবানীর মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে আপনাদের অবগত করার জন্য কিছু জরুরী মাসায়েল উল্লেখ করা হলো।
সূচিপত্র :

  1. কুরবানির মাসআলা
  2. কুরবানির মাসআলা মাসায়েল সমূহ
  3. কুরবানী যার উপর ওয়াজিব
  4. নেসাবের মেয়াদ
  5. কুরবানীর পশুতে আকিকা অংশ
  6. কুরবানীর পশুতে শরিকের সংখ্যা
  7. কুরবানীর পশুর বয়স সীমা

কুরবানির মাসআলা মাসায়েল সমূহ

কুরবানী যার উপর ওয়াজিব

প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিটি মুসলিম , সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর নারী ,যিনি ১০ জিলহজ ফজরের থেকে ১২ই জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তার যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি নেসব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছে তার জন্য কুরবানী করা ওয়াজিব। সোনা ,রোপা ,অলংকার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি ,প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাড়ি,ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কোরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবে আনায়ন অর্থাৎ হিসাব যোগ্য। আর হিসাবের পরিমাণ হলো স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫)ভরি , রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫)ভরি ,টাকা পয়সা এবং অন্যান্য বসতির ক্ষেত্রে নিসাবের মূল্য সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫)তোলা রুপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া।


সে ক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো যদি সোনা অথবা টাকা পয়সা এগুলোর কোন একটি যদি পৃথকভাবে নেসাবের  পরিমাণ না থাকে কিন্তু এই ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত একাধিক বসতি মিলে এটার পরিমাণ যদি সাড়ে 52 তোলার পরিমাণ এর সমপরিমাণ হয় তাহলে তার ওপর কুরবানী করা ওয়াজিব। "(আলমুহিতুল বোরহানি ,হাদিস ৮/৪৫৫।)"

নেসাবের মেয়াদ

আমরা অনেকেই মনে করে থাকি কুরবানীর নেসাব হয়তো সারা বছরের টা  হিসাব করতে হয় কিন্তু আসলে কোরবানির নেসাব  পুরো বছর থাকা জরুরী নয় বরং কুরবানীর তিনদিনের মধ্যে যেকোনো দিন থাকলে কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যাবে।  "(বাদায়েউস সানায়ে ,  হাদিস ৪/১৯৬, রদ্দুল মুনতাহার ,হাদিস৬/৩১২।)" 


কুরবানী করতে না পারলে

কেউ যদি সময় মত কুরবানী করতে না পারে তাহলে তার জন্য মাসআলা হল কুরবানীর উপযুক্ত একটি ছাগলের সমপরিমাণ মূল্য সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব।  আবার অনেকেই কুরবানীর পশু কিনে কিন্তু কোন এক কারণে কুরবানী দিতে পারে না সেই ক্ষেত্রে মাসালা হলো পুরো পশু টাই সদকা করে দেওয়া। "(হাদিস-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৪; হাদিস-ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫।)" 


আরো পড়ুন ঈদ উল আযহার নামাজ পড়ার নিয়ম


কোরবানির সময়

কুরবানী মোট তিন দিন করা যায়। জিলহজ্ব মাসের ১০,১১ ও ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তবে জিলহজের ১০ তারিখেই কুরবানী করা সবচেয়ে উত্তম। তাই আমরা চেষ্টা করব জিলহজের ১০ তারিখেই কুরবানী করার জন্য। "( হাদিস-মুয়াত্তা মালেক ১৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৮, ২৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯ )"


যেসব পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে

গরু, মহিষ ,ছাগল, ভেড়া ,উট ও দুম্বা দ্বারা কুরবানী করা জায়েজ রয়েছে ,এছাড়াও এসব গৃহপালিত পশু ব্যতীত অন্যান্য পশু যেমন বন্য গরু ,হরিণ ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী করা জায়েজ নেই। “(হাদিস-কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫)”


দরিদ্র ব্যক্তির কুরবানী করা

সাধারণত দরিদ্র ব্যক্তির উপর ইসলামে কুরবানি করা ওয়াজিব নয় কিন্তু কোন দরিদ্র ব্যক্তি যদি কোরবানির নিয়তে কোন পশু ক্রয় করে থাকে তাহলে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায়। "(হাদিস-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯২)"


মুসাফিরের জন্য কুরবানী

যারা কুরবানীর সময় বা দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে অর্থাৎ 48 মাইল বা প্রায় 78 কিলোমিটার দূরে যাওয়ার  নিয়তে নিজের এলাকা ত্যাগ করেছে তার ওপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। "(হাদিস-ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৪, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫)"


কখন থেকে কুরবানী করা যাবে

জুমা ও ঈদের নামাজ যেসব এলাকায় লোকদের উপর ওয়াজিব তাদের জন্য কুরবানী করা ঈদের নামাজের আগে জায়েয নয়। অবশ্য যদি বৃষ্টিবাদল বা অন্য কোনো ওজরের প্রথমদিন ঈদের নামাজ না হয় তাহলে ঈদের নামাযের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম দিনেও কুরবানী করা জায়েয। "(হাদিস-সহীহ বুখারী ২/৮৩২, কাযীখান ৩/৩৪৪, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮)"


কোরবানি রাতে করা

জিলহজ্ব মাসের ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত রাতেও কুরবানী করা জায়েয রয়েছে। তবে সেই ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে দিনে কুরবানী করা উত্তম।"(মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ১৪৯২৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/২২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, কাযীখান ৩/৩৪৫),"


আরো পড়ুন কোরবানি করার নিয়ম ও পদ্ধতি


কুরবানীর পশুর বয়স সীমা

উটের  ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫ বছর, গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুই বছর ,দুম্বা ভেড়া ও ছাগলের ক্ষেত্রে কমপক্ষে 1 বছর। তবে ভেড়া ও দুম্বার ক্ষেত্রে এক বছরের কম হলেও করা যাবে। তবে শর্ত থাকে যে তাদের দেখতে যদি এমন হৃষ্টপুষ্ট মনে হয় যে তাদের এক বছর হয়ে গেছে তাহলে কুরবানী করা যাবে। তবে ৬ মাসের কম হওয়া যাবে না।  উল্লেখ ছাগলের ক্ষেত্রে ১ বছরের কম হওয়া যাবে না। "(হাদিস-কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫-২০৬)"


কুরবানীর পশুতে শরিকের সংখ্যা

ছাগল ,ভেড়া ও দুম্বার ক্ষেত্রে একজনের জন্য একটাই দিতে পারবে। এসব পশু তে একজনের বেশি দিলে কুরবানী হবে না।  তবে গরু, মহিষ ও উটের জন্য একটা পশুর ক্ষেত্রে সাতজন শরীক হতে পারবে। "(হাদিস-সহীহ মুসলিম ১৩১৮, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৯, কাযীখান ৩/৩৪৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭-২০৮)"


সাত শরিকে কুরবানী

এই ক্ষেত্রে সবার অংশই সমান হতে হবে। কারো এক অংশ , কারো দেড় অংশ , কারো আধা অংশ এগুলো করলে কোরবানি হবেনা।  অর্থাৎ সবার সমান অংশ হতে হবে। (হাদিস-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭)


কুরবানীর পশুতে আকিকা অংশ

কুরবানীর পশু গরু,মহিষ ও উটে আকিকার নিয়ত  করে আকিকা করতে পারবে।  এতে আকিকা ও কুরবানি দুটোই সহি হবে। "(হাদিস-হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২)"


কুরবানীর পশু

কুরবানীর জন্য অবশ্যই হৃষ্টপুষ্ট পশু দ্বারা কুরবানী করা উত্তম। "(হাদিস-মুসনাদে আহমদ ৬/১৩৬, আলমগীরী ৫/৩০০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩)"


খোঁড়া পশুর কোরবানি

যে পশুর একটা পা ভাঙ্গা বা যে পশু তিন পায়ে ভর করে চলে এক পায়ে ভর করতে পারেনা এমন পশু কুরবানী করা জায়েজ নয়। "(হাদিস-জামে তিরমিযী ১/২৭৫, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩, আলমগীরী ৫/২৯৭)"


দাঁত ছাড়া পশুর কুরবানী

যে পশুর  একটি দাঁত ও নেই বা এমন পশু যার দাঁত  এত কম যে সে ঘাস বা খাদ্য চিবিয়ে খেতে পারে না  এরকম পশু কুরবানী করা জায়েয নয়। "(হাদিস-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৫, আলমগীরী ৫/২৯৮)"


অসুস্থ ও দুর্বল পশুর কুরবানী

কুরবানীর জন্য নির্বাচন করা এমন পশু যে কুরবানীর স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারেনা এরকম পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েজ নয়। "(হাদিস-জামে তিরমিযী ১/২৭৫, আলমগীরী ৫/২৯৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪)"


শিং  ভাঙ্গা বা ফাটা পশুর কুরবানী

যে পশুর শিং সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে বা শিং  মাথা থেকে উঠানোর ফলে মস্তিষ্কের সমস্যা হয়েছে এমন পশু কুরবানী করা জায়েজ নয়।  তবে যদি পুরোপুরি মাথা থেকে উঠে না পড়ে তাহলে কুরবানী করা জায়েয রয়েছে। "(হাদিস-জামে তিরমিযী ১/২৭৬, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪,)"


লেজ বাঁ কান কাটা পশুর কুরবানী

যে পশুর কান বা লেজ অর্ধেকের বেশি কেটে গেছে এমন পশুর  কুরবানী জায়েয নয়। তবে যদি অর্ধেকের কম কেটে থাকে তাহলে তা জায়েজ রয়েছে। তবে কোন পশুর কান  বা লেজ জন্ম থেকেই ছোট থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে জায়েজ রয়েছে। "(হাদিস-জামে তিরমিযী ১/২৭৫, মুসনাদে আহমদ ১/৬১০, ইলাউস সুনান ১৭/২৩৮, কাযীখান ৩/৩৫২,)"


অন্ধ পশুর কুরবানী

যে পশুর দুটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে অথবা একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছে এরকম পশুর কুরবানী করা জায়েয নয়। "(হাদিস-জামে তিরমিযী ১/২৭৫, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ২৯৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪)"


কোরবানির গোশত ,চর্বি বিক্রি করা

কুরবানীর গোশত, চর্বি এগুলা বিক্রি করা জায়েজ নয়। তবে কেউ যদি বিক্রি করে তাহলে তার পূর্ণ মূল্য সদকা করে দিতে হবে। "(হাদিস-ইলাউস সুনান ১৭/২৫৯; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫; কাযীখান ৩/৩৫৪; আলমগীরী ৫/৩০১)"


কোরবানির পশু জবাই কারী কে পারিশ্রমিক দেওয়া

যে কোরবানির পশু জবাই করে তাকে পারিশ্রমিক দেওয়া জায়েজ রয়েছে। তবে কোরবানির গোশত বা কোন অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েজ নয়।  "(হাদিস-কিফায়াতুল মুফতী ৮/২৬৫)"


গর্ভবতী পশুর কোরবানি

যদি কোন পশু গর্ভবতী হয় তাকে কুরবানী করা জায়েয রয়েছে। তবে যদি গর্ভপাতে সময় খুবই সন্নিকটে থাকে তাহলে কুরবানী করা মাকরুহ।  লক্ষ্যনীয় বিষয় জবেহ এর  পর যদি বাচ্চা হয় তাহলে বাচ্চা জীবিত সদকা করে দেওয়া উত্তম। অথবা বাচ্চা জবেহ করলে তার মাংস সদকা করে দিতে হবে। "(হাদিস-ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, খ-৫, পৃ. ৩০১)"


কোরবানির পশু কেনার পর ত্রুটি দেখা দিলে

পশু কেনার পর যদি এমন কোনো দোষ দেখা দেয় যে কুরবানী করা জায়েয হবেনা তাহলে আরেকটি পশু ক্রয় করে কুরবানী দিতে হবে। তবে যদি কুরবানীদাতা দরিদ্র  হয় সেই ক্ষেত্রে ত্রুটিযুক্ত পশুই কুরবানী করা জায়েজ হবে। "(হাদিস-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, ফাতাওয়া নাওয়াযেল ২৩৯, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫)"


কোরবানির গোশত দিয়ে খানা খাওয়া

অর্থাৎ কুরবানীর দিন সকাল থেকে কিছু না খেয়ে কুরবানী করে তার গোশত দিয়ে খানা খাওয়া সুন্নত। এই সুন্নত শুধুমাত্র ১০ জিলহজ্বের জন্য। "(হাদিস-জামে তিরমিযী ১/১২০, শরহুল মুনয়া ৫৬৬, আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৬,)"


হাজীদের উপর ঈদুল আযহার কুরবানী

যে হাজী কুরবানীর দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে তাদের জন্য কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। তবে এই তিন দিনের যেকোনো একদিন মুকিম হলে সাথে  সামর্থ্যবান থাকলে  কুরবানী করা ওয়াজিব হবে। "(হাদিস-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৩, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫,) "


নিজের কুরবানীর গোশত খাওয়া

অর্থাৎ যে ব্যক্তি কুরবানী করে সেই ব্যক্তির কোরবানিকৃত পশুর গোশত খাওয়া মুস্তাহাব। "(হাদিস-সূরা হজ্ব ২৮, সহীহ মুসলিম ২২/১৫৯, মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৯০৭৮)" 


কুরবানীর পশু চুরি বা মরে গেলে

যার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব তার কুরবানীদেয়ার জন্যে ক্রয় কৃত পশুটি  যদি চুরি হয়ে যায় বা মারা যায় তাহলে আরেকটি পশু ক্রয় করে কুরবানী করা ওয়াজিব। আর  যদি গরিব হয় তাহলে কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। "(হাদিস-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯)"


কুরবানীর পশু গোস্ত বিধর্মীদের দেওয়া

কুরবানীর কৃত পশুর গোশত যদি অন্য ধর্মের মানুষকে দেওয়া হয় তাহলে সেটা জায়েজ। অর্থাৎ আমরা চাইলে হিন্দু বা অন্য ধর্মের লোকদের কুরবানীর গোশত দিতে পারবো।  "(হাদিস-ইলাউস সুনান ৭/২৮৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০)"


জবাইয়ের পর পশু

জবাইয়ের পর পশু নিস্তেজ হওয়া না পর্যন্ত পশুর চামড়া ছিলা মাকরূহ। এমন কি কোনো অঙ্গ কাটাও মাকরূহ । "(হাদিস-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩)"


কুরবানীর গোশত জমিয়ে রাখা 

কুরবানীকৃত পশুর গোশত ৩ দিনের অধিক জমিয়ে রেখে খাওয়া জায়েজ রয়েছে। "(হাদিস-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, সহীহ মুসলিম ২/১৫৯, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৮)


কুরবানীর গোশত বন্টন

যারা শরিকে কুরবানী করে তাদের ওজন করে কুরবানী গোশত বন্টন করতে হবে , অনুমান করে গোশত ভাগাভাগি করা যাবে না। "(হাদিস-আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৭) 

কুরবানীর গোস্ত এক তৃতীয়াংশ গরিব মিসকিন, এক তৃতীয়াংশ পাড়া প্রতিবেশী এবং আত্মীয় স্বজন দের দেওয়া উত্তম। "(হাদিস-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলমগীরী ৫/৩০০)"


Post a Comment

0 Comments