Ticker

6/recent/ticker-posts

অতিরিক্ত গরমে করণীয় ও বর্জনীয়


 

অতিরিক্ত গরমে করণীয় ও বর্জনীয়

বাংলাদেশ হচ্ছে গ্রীষ্মপ্রধান দেশ। আমরা এই গরম আবহাওয়া সাথে সেই ছোটবেলা থেকেই বেশ মানিয়ে নিয়েছি। বলতে গেলে আমরা অনেকেই গরমে  বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ ফিল করে থাকি। আমাদের বাংলা বছরটা শুরু হয় গ্রীষ্মকাল দিয়ে আমরা সবাই শীতের পর গ্রীষ্মকালের  জন্য অপেক্ষা করি। কেননা  বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ফল এই গ্রীষ্মকালে পাওয়া যায়। যার কারণে আমরা গ্রীস্মকালকে  বলে থাকি মধুমাস।

বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই মধুমাস আর নেই। কারণ গত কয়েকবছরে আবহাওয়ার যে  পরিবর্তন হয়েছে তা খুবই ভয়ংকর  এবং অসহনীয় যা আমাদের  স্বাভাবিক জীবনে খুবই প্রভাব ফেলছে। আর গত কয়েকদিনের কথা বলতে গেলে তো সারাদেশের তাপমাত্রার যে  বিপর্যয় তাতে অবস্থা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে।

সূচিপত্র:

  • অতিরিক্ত গরমে করণীয়
  • অতিরিক্ত গরমের কারণ
  • অতিরিক্ত গরম যাদের জন্য ক্ষতিকর
  • অতিরিক্ত গরমে কি কি সমস্যা হয়
  • অতিরিক্ত গরমে সুস্থ থাকার উপায় সমূহ
  • অতিরিক্ত গরমে বর্জনীয় কাজ সমূহ


অতিরিক্ত গরমের কারণ

আমরা বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করলে হয়তো জেনে থাকবো যে অতিরিক্ত পরিমাণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে অধিক পরিমাণে গরম অনুভূত হচ্ছে। এর পিছনে কারণ হচ্ছে বছরের ২ টা সময় পৃথিবীর যে বিষুবরেখা তা সূর্য বরাবর অবস্থান করে থাকে। এতে সূর্যের যে সূর্য রশ্মি আছে তা সরাসরি পৃথিবীপৃষ্ঠে এসে পড়ে। যার ফলে আমরা অধিক পরিমাণে গরম অনুভব করি।

বছরের দুইটা সময় হচ্ছে মে মাসের ২২ থেকে ২৮এবং সেপ্টেম্বরের ২২ থেকে ২৮।  দিন ও রাত সমান থাকে এই দুইটা সময়। বর্তমানে মে এর সময় চলছে। যার ফলে আমরা স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক পরিমাণ বেশি গরম অনুভব করছি।


অতিরিক্ত গরম যাদের জন্য ক্ষতিকর

এই অতিরিক্ত গরম আমাদের সবার জন্য অসহনীয় হলেও কিছু কিছু মানুষের জন্য খুবই ক্ষতির কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যেমন ৬০বছরের অধিক বয়স্ক মানুষ এদের জন্যে গরম খুবই ভয়াবহ সমস্যার সৃষ্টি করেছে।  এরপর রয়েছে দশ বছরের কম শিশু। এছাড়া যারা দীর্ঘমেয়াদি রোগে  ভুগছেন যেমন হার্ট  ও ডায়াবেটিসের রোগী। এবং যারা সরাসরি সূর্যের নিচে কাজ করে তাদের জন্য অতিরিক্ত গরম অধিক সমস্যার সৃষ্টি করে।

অতিরিক্ত গরমে কি কি সমস্যা হয়

অতিরিক্ত গরমের কারণে আমাদের এই সময় নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাই এই সময় আমাদের সতর্ক হয়ে চলতে হবে। তা না হলে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন হিট স্ট্রোক ,পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া, ঘামাচি ,হাম ,গরম জনিত সর্দি কাশি ,প্রস্রাবের সংক্রমণ ইত্যাদি। তাই এ সকল সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য আমাদের সচেতনভাবে চলতে হবে।

অতিরিক্ত গরমে সুস্থ থাকার উপায় সমূহ

আমরা অনেকেই বাহিরে ভাজাপোড়া ও মসলাযুক্ত খাবার খেয়ে থাকি। এই গরমের সময় আমাদের যতটুকু সম্ভব বাইরের ভাজাপোড়া এবং অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা। 

আমাদের প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। সুস্থ থাকার জন্যে দিনে কমপক্ষে ৩থেকে ৪ লিটার পানি পান করা আবশ্যক। পানির পাশাপাশি যদি সম্ভব হয় তাহলে স্যালাইন, ডাবের পানি ,লেবুর শরবত এবং  গ্লুকোজ বেশি বেশি পান করুন। ফলে আমাদের শরীরে যে পরিমাণ ঘাম বের হয়ে যায় তার পানির চাহিদা পূরণ করবে। 

আমরা যদি রোদের মধ্যে বাহিরে যাই তাহলে অবশ্যই একটি ছাতা ব্যবহার করব এবং চেষ্টা করব সাথে এক বোতল পানি নিয়ে যাওয়ার জন্য।

বাহিরে যাওয়ার সময় লক্ষ্যণীয় বিষয় যেটা সেটা হল আরামদায়ক কাপড় পরিধান করে যাওয়ার চেষ্টা করব। সেক্ষেত্রে সুতির পোশাক এবং  হালকা রঙের পোশাক বাছাই করুন। এতে করে আপনার গরম কম লাগবে ফলে সারাদিন আপনার শরীর পাবে  আরাম ও স্বস্তি। 

নিয়মিত গোসল করতে হবে এবং কখনোই অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করা যাবে না অর্থাৎ অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ থেকে এই গরমের সময় বিরত থাকতে হবে। আমরা যারা অতিরিক্ত চা-কফি পান করে থাকি তাদেরও এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে। 

আমাদের অনেকেরই একটি বদ অভ্যাস রয়েছে সেটি হল বাহির থেকে এসেই আমরা ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খেয়ে ফেলি। এটা মোটেও করা যাবে না। 

আমরা অনেকেই মাংস অনেক বেশি পছন্দ করি। এ সময় মাংস খাওয়ার পরিমাণ কিছুটা কমাতে হবে। এছাড়া মাংসের পাশাপাশি বিরিয়ানি, পোলাও, খিচুড়ি এবং ফাস্টফুড জাতীয় খাবার গুলো একটু পরিহার করতে হবে।

আমরা এই গরমের সময় খাবার হিসাবে বেছে নিতে পারি দই, চিড়া ,কলা, রুটি, সিদ্ধ ডিম, পাউরুটি ,সবজি, নরম খিচুড়ি ইত্যাদি। এগুলো আমাদের শরীরের জন্য এই গরমের সময় খুবই উপকারী। 

আমরা অনেকেই এই গরমের সময় পান্তা ভাত খেয়ে থাকি।  এটা অবশ্যই আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। আমাদের শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। গরমের সময় যদি আমাদের ঠান্ডা সর্দি কাশি হয় তাহলে চেষ্টা করব বেশি বেশি ভিটামিন সি জাতীয় টক ফল যেমন কমলা, আনারস ,পেয়ারা ইত্যাদি খাওয়ার। 

গরমের সময় যদি আমাদের গলা ব্যথা অনুভূত হয় তাহলে এর জন্য আমরা গরম পানিতে হালকা মধু ,আদা, দারুচিনি এবং লবঙ্গ মিশিয়ে খাব এতে অবশ্যই উপকার আসবে।

আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করব ঠান্ডা পরিবেশে বা ঘরে অবস্থান করতে। প্রয়োজন না থাকলে অকারনে দিনে বিশেষ করে দুপুর ১২ টা থেকে বিকাল ৩ টা  বাইরে না যাওয়ায় ভালো। যদি বের হতেই হয় তাহলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করতে হবে।

অতিরিক্ত গরমে বর্জনীয় কাজ সমূহ

আমরা অনেকেই অতিরিক্ত গরমের কারণে সফট অথবা হার্ড ড্রিঙ্কস নিয়ে থাকি। আমাদের এই সময়ে এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা ড্রিংস আমাদের শরীরের পানি  কে নিরুদিত  করে যার ফলে শরীরে পানি স্বল্পতা তৈরি হয় এবং ঘন ঘন পানি পিপাসা পায়। গলা আস্তে আস্তে শুকিয়ে আসে। তাই এই অতিরিক্ত গরমে তৃষ্ণা  মেটাতে অবশ্যই ড্রিঙ্কস পান না করে বেশি বেশি পানি পান করুন।

আমরা অনেকেই পানি  পিপাসার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে পানি পান করে থাকি। আমাদের এই দিকে নজর রাখতে হবে যে, দূষিত পানিতে কিন্তু পানিবাহিত রোগ হতে পারে। এজন্য পানি পান করার ক্ষেত্রেও অধিক সতর্ক থাকতে হবে। আমরা যদি বাহিরের পানি পান করি তাহলে সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই মিনারেল ওয়াটার পান করতে হবে।

এরপর আসে আমাদের ফাস্টফুড ও তেল জাতীয় খাবার। অবশ্য এগুলোকে এই গরমের সময় পরিহার করতে হবে। কেননা ফাস্টফুড এবং তেল চর্বি জাতীয় খাবার শরীরের জন্য মারাত্মক খারাপ। গরমের মধ্যে তেলে ভাজা রিচ ফুড   এগুলো খাওয়া যাবে না। কেননা এ জাতীয় খাবার আপনি যত বেশি খাবেন তত বেশি গরম লাগবে। তাই এই সময়ে এই ধরণের খাবার না খাওয়াই ভালো। আমাদের বাহিরের খাবার বা স্ট্রিট  ফুড খাবার বর্জন করতে হবে।

স্যালাইন খাওয়ার সময় অধিক সতর্ক থাকতে হবে।আমরা অনেকেই আছি গরমের কারণে হয়তো চাইলেও ঘরে থাকতে পারি না। কারণ আমাদের শারীরিক পরিশ্রম করতে হয় অর্থাৎ কাজের জন্য বাইরে যেতেই হয়। আবার আমাদের মাঝে অনেকেই আছে দিন আনে দিন খায়। সে ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে শরীরের পানি  ও লবণের স্বল্পতা যেন না হয়। সেজন্য স্যালাইন খেতে হবে। এই জন্য আমরা একটা কাজ করতে পারি ,বাইরে চলাচলের সময় কাছে সবসময় স্যালাইন রাখতে পারি। যখন শরীর দুর্বল মনে হবে সে ক্ষেত্রে আমরা সাথেসাথেই একটা স্যালাইন খেয়ে নিতে পারি। এতে দুর্বলতা অনেকাংশেই কমে যাবে।

এ বিষয়ে লক্ষণীয় প্যাকেটের গায়ে যত টুকু পরিমান পানি দেওয়ার কথা এর চেয়ে কম পরিমাণ পানি দিয়ে স্যালাইন খাওয়া যাবে না । কেননা শুধু স্যালাইনের গুড়া খেলে বা কম পানি দিয়ে স্যালাইন খেলে এতে লবণের ঘনত্ব বেড়ে যায়। আর লবন এর ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ার কারণে আমাদের কিডনির ক্ষতি হতে পারে। 

অতিরিক্ত গরমের সময় আমরা আমাদের বাড়ীর শিশু ও বৃদ্ধ মানুষদের প্রতি বিশেষ নজর রাখবো এবং নিজেও সচেতন থাকবো। একমাত্র আমাদের  সচেতনতাই পারে এই গরম থেকে নিজেকে সুস্থ রাখতে। নিজের সুস্থ থাকি পরিবারের সকল কেই সুস্থ রাখি। ধন্যবাদ  সবাইকে।


Post a Comment

0 Comments