Ticker

6/recent/ticker-posts

শিশুর পায়খানা না হলে করনীয়



 শিশুর পায়খানা না হলে করনীয়

প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়া ব্যাপারটা আমাদের সবার কাছেই খুবই সাধারণ এবং স্বাভাবিক একটা বিষয়। যদিও এর মর্ম সেই ব্যক্তি জানেন যিনি বিভিন্ন অসুখে ভোগে থাকে। তবে আমাদের নবজাতকদের জন্য এই বিষয়টা প্রতিটা অভিভাবকের ক্ষেত্রেই উদ্যোগের কারণ হয়ে থাকে।


আমাদের অভিভাবকের মনে বাঁধতে পারে নানা ধরনের প্রশ্ন। কেন নবজাতক সময়মতো মাল ত্যাগ করছে না ?সে কি কোন অসুখে ভুগতেছে কিনা ?তার খাবার বা তাকে কোন ওষুধ খাওয়াবো কিনা ?এরকম হাজারো প্রশ্ন প্রতিটি অভিভাবকের মনেই হয়ে থাকে। আমাদের এই লিখাতে অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আপনাদের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করব। 


সূচিপত্র:

  • শিশুর পায়খানা না হলে করণীয় 

  • ছোট বাচ্চাদের পায়খানা না হলে করণীয় 

  • নবজাতক শিশুর পায়খানা না হলে করণীয় 

  • ৬ মাস- ৫ বছরের ছোট বাচ্চাদের পায়খানা না হলে করণীয়


ছোট বাচ্চাদের পায়খানা না হলে করণীয়


ছোট বাচ্চাদের যদি পায়খানা ঠিকমতো না হয় তাহলে এর করনীয় সম্পর্কে আমাদের প্রতিটা অভিভাবকেরই জানা খুবই জরুরী। নবজাতক পায়খানা যদি ঠিকমতো না হয় তাহলে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের মধ্যে  থাকে আমাদের মায়েরা। তারা এই বিষয় নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করে এবং বাচ্চাদের খাবার কমিয়ে দিয়ে থাকে। তবে বাচ্চা যদি ঠিকমতো পায়খানা না করে তাহলে ঘরোয়া কিছু ফর্মুলা প্রয়োগ করে তা ঠিক করে নেয়া যায়। তবে জেনে রাখা ভালো একটি নবজাতক শিশু প্রথম দিকে সাধারণত তিন দিনে একবার পায়খানা করতে পারে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে একদিনে 10 থেকে 20 বার পায়খানা করলেও সেটা স্বাভাবিক বলা চলে। 


আরো করুন বাচ্চাদের স্বাস্থ্য ভালো করার উপায়


শিশু যখন শুধু মায়ের বুকের দুধ পান করে সেই সময় তারা দিনে 10 থেকে 20 বার পায়খানা করতে পারে। আবার দিনে একবারও করতে পারে। তবে আমাদের একটা বিষয় খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরী যে বাচ্চার পায়খানা যদি না হয় তাহলে তার পেট অনেক শক্ত হয়ে আছে কিনা। যদি আমরা দেখি পায়খানা না হওয়া সত্ত্বেও  পেট নরম তাহলে সেটা স্বাভাবিক। আবার যদি দেখা যায় যে পায়খানা ঠিকমতো হচ্ছে না কিন্তু বায়ু ঠিকঠাক নির্গত হচ্ছে তাহলে সেটাও স্বাভাবিক বলা যায়। কেননা যদি পায়খানার সাথে সাথে বায়ু নির্গত স্বাভাবিক না থাকে এবং পেট শক্ত হয়ে যায় তাহলে কিন্তু সেটা অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গেছে। 


নবজাতক শিশুর পায়খানা না হলে করণীয়


একটি নবজাতক শিশু যখন ৫-৬ দিন পার হয়ে যাওয়ার পরেও পায়খানা না করে থাকে ,নবজাতকের পেট ফুলে যায় ,পেট শক্ত হয়ে যায় এবং বায়ু স্বাভাবিকভাবে নির্গত না হয় বা দুর্গন্ধযুক্ত বায়ু নির্গত হয় তাহলে কিছু ঘরোয়া ফর্মুলা প্রয়োগ করে সেটা ঠিক করে নেয়া যায়।


পেট মালিশ করা

পায়খানা না হওয়ার কারণে যদি শিশুর পেট শক্ত হয়ে যায় তাহলে শিশুর পেটে আলতো হাতে মালিশ করতে হবে।  নাভির চারপাশে বৃত্ত আকারে হাত ঘুরাতে হবে বা মালিশ করতে হবে। আলতো হাতে ২ থেকে ৫ মিনিট এই মালিশটি করলে পেট নরম হয়ে যায় এবং নবজাতকের পায়খানা হতে সাহায্য করে থাকে। 


পায়ের ব্যায়াম

শিশুর পায়ের ব্যায়ামের মাধ্যমেও তার এই সমস্যাটি দূর করা যায়। সেই ক্ষেত্রে নবজাতকের পা দুটোকে আস্তে করে ধরে ধীরে ধীরে সামনের দিকে এবং পিছনের দিকে করতে থাকুন। বলা চলে অনেকটা সাইকেল চালানোর মতো। এটা সাধারণত দুই থেকে তিন মিনিট ধরে করতে থাকুন। যার ফলে পেটে আস্তে করে চাপ পড়বে এবং  নবজাতকের পায়খানা হতে সাহায্য করে।


আরো পড়ুন শিশুদের জ্বর হলে করণীয়


ঘন ঘন খাওয়ানো

যদি দেখেন আপনার শিশু পায়খানা ঠিকমতো হচ্ছে না তাহলে আপনি আপনার শিশুকে বেশি বেশি করে বুকের দুধ খাওয়াতে থাকেন। বুকের দুধ আপনার শিশুর পায়খানা নরম করে এবং পায়খানা নরম হওয়ার কারণে সহজে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে থাকে। তাই যখন দেখবেন আপনার শিশুর পায়খানা স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে না তখন শিশুকে বেশি বেশি বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন। 


পবনমুক্তাশন

অনেক সময় শিশুদের পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমে আর শিশুদের পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমা হওয়ার কারণে শিশুর পায়খানা সহজেই হতে চায় না। আর আমাদের এই গ্যাস নির্গত হওয়ার জন্য সাহায্য করতে হবে। সেইজন্যে প্রথমে শিশুর বাম পা  বুকের সাথে লাগিয়ে নিন তারপর ধীরে ধীরে শিশুর পা সোজা করতে হবে এবং ঠিক আগের মতই ডান পা বুকের সাথে লাগিয়ে তারপর আস্তে আস্তে সোজা করতে হবে। তারপর দুই পা একসাথে  বুকের সাথে লাগিয়ে নিয়ে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে যদি দুই তিন বার করা হয় তাহলে শিশুর পেটে জমে থাকা বায়ু নির্গত হবে এবং পেট থেকে বায়ু নির্গমনের মাধ্যমে শিশুর পায়খানা হতে সাহায্য করবে। 


খাদ্যের পরিবর্তন

আপনার নবজাতক শিশুর যখন পায়খানা স্বাভাবিক না হবে তখন মায়েদের আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে খেতে হবে। কারণ আপনার শিশু আপনার বুকের দুধ খেয়ে থাকে।  তাই বাচ্চার পেট নরম হওয়ার জন্য এমন সব খাবার খাওয়া উচিত যেগুলো বুকের দুধের মাধ্যমে আপনার বাচ্চার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করবে। 


আরো পড়ুন নবজাতক শিশুদের ঠান্ডা লাগলে করণীয়


নবজাতক শিশুদের অর্থাৎ যেসব শিশুদের বয়স শূন্য থেকে ছয় মাস তাদের তেমন একটা বেশি পায়খানার সমস্যা হয় না। তবে শিশুর বয়স যখন ছয় মাস পার হয়ে যায় অর্থাৎ শিশু যখন বাহিরের খাবার গ্রহণ করা শুরু করে তখন শিশুদের নানা ধরনের হজমের সমস্যা দেখা দেয়। 


৬ মাস -৫ বছরের ছোট বাচ্চাদের পায়খানা না হলে করণীয়


যখন একটা বাচ্চা ছয় মাস বয়স হয় তখন থেকেই তাকে বাইরের খাবার খাওয়ানো শুরু হয়ে থাকে। আর বাইরের খাবার খাওয়ানোর ফলে বাচ্চার হজমের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা যায়। যদি এই সময় বাচ্চাদের পায়খানা না হয় তাহলে কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে এর সমস্যার সমাধান করা যায়। 


গরম পানিতে লেবু ও মধু 

পায়খানা নরম হতে অনেকটাই সাহায্য করে যদি শিশুকে গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে খাওয়ানো যায়। তাই আপনার শিশুর যদি কুষ্ঠ কাঠিন্য সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে তাকে প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু ও এক চামচ লেবুর রস এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে তাকে খেতে দিন। কয়েক দিন খাওয়ার পরেই পায়খানার সমস্যা দূর হয়ে যাবে। 


ফাইবার যুক্ত খাবার

আমাদের একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে বাচ্চার খাবারে যেন ফাইবারের পরিমাণ অধিক হয়ে থাকে। ফাইবার বাচ্চাদের শরীরে অনেকটা স্পঞ্জ এর মত কাজ করে। যদি খাবারে ফাইবারের পরিমাণ বেশি হয় তাহলে পানি শোষণ ক্ষমতা বেশি হয়। যার ফলে পায়খানা নরম হয়ে থাকে এবং তা খুব সহজেই নারী ভুঁড়ি দিয়ে বাহিরে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। ফাইবার যুক্ত খাবারের মধ্যে যেসব খাবার রয়েছে যেমন পুঁইশাক, লাল শাক, পালং শাক, পেঁপে, ডাটা,টমেটো ,পটল ,আলু ,বরবটি  ইত্যাদি। আবার শস্যদানা হিসেবে রয়েছে চাল ,ডাল ,গম ভুট্টা ইত্যাদি।  এসব ফাইবার যুক্ত খাবার শিশুদের পায়খানা নরম করে থাকে তাই এসব খাবার তাকে বেশি বেশি করে খেতে দিন। 


আরো পড়ুন শিশুর টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা


অভিভাবকদের করণীয় 

অনেক সময় যখন বাচ্চাদের পায়খানা হয় না তখন আর তারা পায়খানা করতে চায় না। কেননা যখন বাচ্চাদের পায়খানা অনেক শক্ত হয় তখন তারা পায়ুপথে ব্যথা পায়।  যার ফলে দেখা যায় বাচ্চারা পায়খানা না করেই উঠে দাঁড়ায়। পরে পায়খানা আর হয় না। তাই অভিভাবকদের কাজ হচ্ছে শিশুকে  জড়িয়ে ধরে রাখতে হবে সে যেন ভয় না পায় দাঁড়িয়ে না যায় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। 


পরিশেষে আমরা আজকে আপনার শিশুর পায়খানা না হলে করণীয় সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়ে একটি আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করেছি। আশা রাখছি আপনাদের দৈনন্দিন জীবনে এটি অনেক সহায়তা করবে। এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য বা মতামত থাকে তাহলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন আমরা দ্রুত রিপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করব। 


Post a Comment

1 Comments

  1. (৬ মাস) এর কোন ঔষধ আছে কি না...?

    ReplyDelete