Ticker

6/recent/ticker-posts

গর্ভবতী মহিলাদের কি কি খাওয়া নিষেধ



 গর্ভবতী মহিলাদের কি কি খাওয়া নিষেধ

প্রতিটি মানুষের জন্যই দৈনিক পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার খাওয়া খুবই প্রয়োজন এবং গর্ভাবস্থায় এটার প্রয়োজনীয়তা আরো অনেক বেশি। প্রতিটি নারীর জন্য গর্ভাবস্থা সময়টা খুবই সেনসিটিভ। এই সময় নারীদেরকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হয়। গর্ভধারণের পর থেকেই নিজের এবং গর্বের সন্তানের সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। আর যত্নের জন্যে অন্যতম প্রধান অংশ হল নিয়মিত খাদ্যভাস।


এই সময় খাবারের মাঝে পরিমাণ মতো পুষ্টি ,ভিটামিন থাকা প্রয়োজন। কেননা এই সময় গর্ভের সন্তান এই খাবার থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি ,মিনারেল এবং ভিটামিন পেয়ে থাকে। গর্ভের সন্তানের কথা চিন্তা করে অনেক সময় না বুঝে অনেক ধরনের খাবার খেয়ে ফেলি যা আমাদের গর্ভে সন্তানের জন্য এবং মা দুজনের জন্যই অনেক বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় অবশ্যই আমাদের খাবারের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। 


চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক গর্ভাবস্থায় কি কি খাবার আমাদের এড়িয়ে চলতে হবে বা কি কি খাবারের প্রতি আমাদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। 


সূচিপত্র :

  • গর্ভবতী মহিলাদের কি কি খাওয়া নিষেধ 
  • গর্ভাবস্থায় যেসব খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে 
  • গর্ভাবস্থায় যেসব ফল খাওয়া উচিত না 
  • গর্ভাবস্থায় যেসব ফল খাওয়া যাবে

গর্ভাবস্থায় যেসব খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে 


চা / কফি

একজন গর্ভবতী নারী কতটুকু ক্যাফেইন গ্রহণ করতে পারবে তা নিয়ে এখনো অভিজ্ঞদের মাঝে অনেক সন্দেহ রয়েছে। তবে কিছু কিছু চিকিৎসক বলে থাকেন যে -একজন গর্ভবতী নারী প্রতিদিন 200 মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণ করতে পারবে। সাধারণত ক্যাফেইন অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা যেসব কারণে নিষেধ করে তাহলো ক্যাফেইন সরাসরি মায়ের প্লাসেন্টা  তে প্রবেশ করে বেবির হৃদপিণ্ডে ভূমিকা রাখে। 


পনির বা চিজ

আমরা মোটামুটি কম বেশি সবাই বার্গার খেতে অধিক পছন্দ করে থাকি। আর সে বার্গারের ভিতরে যদি চিজ না থাকে তাহলে সেটার আসল স্বাদ পাওয়া যায় না। গর্ভবতী মায়েদের স্বাভাবিকভাবে একটু বেশি খাবার খেতে হয় আর এই সময় অনেক গর্ভবতী মায়েরাই বার্গার খাওয়া শুরু করেন।আর তখনই তৈরি হয় আসল সমস্যা। কারণ গর্ভবতী মায়েরা এই সময় চিজ বা পনির দিয়েই বার্গার খেয়ে থাকে। আর এই চিজ সাধারণত অপস্তরিত অবস্থায় থাকে। আর এই অপস্তরিত খাবার গর্ভবতী মা ও তার শিশুর জন্য খুবই ক্ষতির কারণ হয়ে যায়। অপাস্তরিত বলতে কাঁচা দুধ কে বুঝানো হয়েছে। 


কলিজা

কলিজা দিয়ে তৈরি খাবার প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। আর এই অতিরিক্ত ভিটামিন এ গর্ভাবস্থার প্রথমদিকে খুবই ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। এই সময় আপনার জন্য কতটুকু ভিটামিন গ্রহণ করা উচিত তা একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে খেতে পারেন। অনেকেই এই সময় অতিরিক্ত ভিটামিন খেয়ে থাকে এর কারণ হলো তাদের ধারণা বেশি ভিটামিনযুক্ত খাবার বাচ্চার জন্য খুবই ভালো। এটা একটি ভ্রান্ত ধারণা। আমাদের সবার মনে রাখা উচিত খাবারের প্রত্যেকটা ব্যাপার আপনার গর্বের সন্তানের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই না জেনে বা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করে কোনো কিছুই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত না। 


অপাস্তরিত দুধ

অপাস্তরিত দুধ এটা শুনে হয়তো অনেকেই একটু আশ্চর্য হয়েছেন যে এটা আবার কেমন ধরনের দুধ। আসলে এখানে অপস্তরিত দুধ বলতে কাঁচা দুধকে বুঝানো হয়েছে। আমাদের গ্রামের অনেকেই মনে করে থাকেন যে কাঁচা দুধ গর্ভবতী মহিলাকে খাওয়ালে এটা বাচ্চা ও মায়ের জন্য খুবই ভালো। যা একটি ভ্রান্ত ধারণা। আসলে এই অপস্তরিত দুধ বাচ্চা ও মা দুজনের জন্যই অনেক বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে যেতে পারে। আমরা সাধারণত অপ্রস্তরিত দুধকে  পাস্তুরিত  করি এই কারণেই যেন দুধের ভিতরে থাকা জীবাণুগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। এখন আমরা যদি এই অপস্তরিত দুধ খাই তাহলে জীবাণুগুলো সরাসরি আমাদের শরীরে চলে গেল। তাই গর্ভ অবস্থায় অবশ্যই অপাস্তরিত দুধ খাওয়া থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। 


কাঁচা ডিম

আমাদের মাঝে অনেকেই বলে থাকেন যে কাঁচা ডিম স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। তাই অনেকেই হয়তো আপনাকে  সাজেস্ট করতে পারে যে প্রতিদিন সকালবেলা একটা কাঁচা ডিম খেলে আপনার গর্ভের বাচ্চা স্বাস্থ্য সুগঠিত হয় এটা আসলে একটি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা।কাঁচা ডিম তো খাওয়াই যাবে না সাথে কাঁচা ডিমের তৈরি যে কোন খাবার যেমন মুয়ানিস , কাস্টার্ড ইত্যাদি খাবার গুলো পরিহার করতে হবে। তবে যদি  ডিম রান্না করা হয় অথবা ভালো করে ভাজি করা হয় সেই ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না। কাঁচা ডিম কেন খাওয়া উচিত নয় ?কাঁচা ডিম খেলে একটি সাল্মনেল্লা রোগের সম্ভাবনা থাকে যা শুধুমাত্র গর্ব অবস্থায় দেখা যায়। তাই গর্ভবতী অবস্থায় কাঁচা ডিম্ খাওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। 


গর্ভাবস্থায় যেসব ফল খাওয়া উচিত না


আনারস গর্ভকালীন সময়ে প্রথম তিন মাসে আনারস এড়িয়ে চলুন। কারণ আনারস খাওয়ার ফলে জরায়ুতে সংকোচন হয়ে থাকে। যার ফলে অনেক সময় গর্ভপাত ঘটে যায়। আনারসে এক ধরনের ব্রোমেলাইন থাকে। এই ব্রোমেলাইন  হল এক ধরনের এনজাইম যা প্রোটিনকে ভেঙে দেয়। যার ফলে জরায়ু নরম হয়ে যায় এবং অকাল প্রসব হতে পারে। এজন্য গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস আনারস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। 


আঙ্গুর গর্ভাবস্থায় আঙ্গুর খাওয়াও পরিহার করতে হবে। কারণ আঙ্গুরে যৌগিক রেজভেরট্রোল থাকে যা গর্ভবতী নারীর জন্য বিষাক্ত হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের মতামত রয়েছে। গর্ব অবস্থায় কালো আঙ্গুর এর চামড়া হজম করা অনেক বেশি কষ্টকর। কারণ গর্ভাবস্থায় হজম ব্যবস্থা খুবই দুর্বল থাকে। তাই এই সময় এটা এড়িয়ে চলা উচিত। 


পেঁপে পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি ও ভিটামিন রয়েছে ,তথাপি গর্ভবতী নারীদের জন্য এই ফলটা এতটা উপযুক্ত নয়। কারণ পেঁপে সাধারণত শরীরের তাপমাত্রা অনেক গুণ বাড়িয়ে তুলে। এই ফল লাটেক্স সমৃদ্ধ ,যার কারণে জরায়ুর সংকোচন রক্তপাত ও গর্ভপাত ঘটার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। আর এটা ভ্রূণের  স্বাভাবিক বিকাশ ঘটতেও বাধাগ্রস্থ করে। তাই গর্ভকালীন সময়ে এই ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকায় উত্তম। 

তেতুল গর্ভকালীন সময়ে আমাদের টকের  কথা মনে হলেই সাধারণত সবাই তেতুলের কথায় ভেবে থাকে। তবে গর্ভকালীন সময়ে তেতুল খাওয়াও অনেক ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ তেতুলে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ,যা গর্ভবতী নারীদের এড়িয়ে চলা  উচিত। অতিরিক্ত পরিমাণে তেঁতুল খেলে শরীরের প্রোজেস্টেরনের উৎপাদন কমে যায় ,ফলে এই প্রোজেস্টেরনের উৎপাদন কম এর কারণে গর্ভপাত ও  হতে পারে। এমনকি ভ্রূণের  কোষের ক্ষতি হয়ে থাকে। তাই গর্ভকালীন সময়ের প্রথম তিন মাসে বেশি তেতুল খাওয়া উচিত নয়। আর এটা এড়িয়ে যেতে পারলে আরো বেশি ভালো। 


তরমুজ সাধারণত আমরা সবাই কম বেশি গরমকালে প্রচুর পরিমাণে তরমুজ খেয়ে থাকি। তরমুজ আমাদের শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি দেহ থেকে সব ধরনের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। তবে এর ক্ষতিকারক দিক রয়েছে। বিশেষ করে যারা গর্ভবতী তারা তরমুজ খেলে সব ধরনের টক্সিন ধ্বংসের পাশাপাশি ভ্রূণের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদিও এই ফলটা গর্ভবতীর জন্য বেশি একটা খারাপ নয়। তবে এর যে  খারাপ প্রভাব রয়েছে তা শরীরে পড়তে পারে। তাছাড়া অতিরিক্ত তরমুজ সেবনের কারণে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। কখনো কখনো তরমুজ মূত্রবর্ধক বৈশিষ্ট্য শরীর থেকে টক্সিন এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় যেসব পুষ্টি থাকে সেগুলো বের করে দিতে পারে। আর যেহেতু এটা খেলে শরীর ঠান্ডা হয় তাই গর্ভবতী নারীদের সর্দি লেগে যেতে পারে। তাই গর্ভকালীন সময়ে তরমুজ খাওয়ার প্রতিও বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত। 


কলা গর্ভবতী নারীদের অনেক সময় কলা খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়। তবে শুধুমাত্র তাদেরকেই বিরত থাকতে বলা হয় যারা গর্ভাবস্থায় এলার্জি বা ডায়াবেটিসে ভোগেন। কারণ কলাতে থাকে চিটিনেস, এটা একটা লাটেক্স জাতীয় উপাদান। যা এলার্জেন হিসাবে পরিচিত। এটা শরীরের উত্তাপ কে বাড়িয়ে দেয় ,যার ফলে অনেক বিশেষজ্ঞ রায় এলার্জিযুক্ত নারীদের কলা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেন। আর যেহেতু কলাতে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে সেহেতু ডাইবেটিস রোগীদের কলা খেতে নিষেধ করে থাকেন। 


ক্যানড টমেটো বিভিন্ন সুপার শপগুলোতে ক্যানড টমেটো পাওয়া যায়। গর্ভকালীন সময়ে সকল ধরনের টিন জাত খাবার পরিহার করা ভালো। কারণ এসব টিন  জাত খাবারে থাকতে পারে ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ। আর এসব প্রিজারভেটিভ গর্ভবতী মহিলাদের জন্য খুবই ক্ষতির কারণ। 


গর্ভাবস্থায় যেসব ফল খাওয়া যাবে


গর্ভকালীন সময়ে বিভিন্ন ফলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে রয়েছে আপেল ,ডালিম ,নাশপাতি ,আম ,কমলা লেবু ,এবাকোডা, পেয়ারা ইত্যাদি।  তবে এই ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হল আপনার যদি কোন স্বাস্থগত  সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার চিকিৎসক অথবা পুষ্টিবিদের সাথে আগে পরামর্শ করে নিয়ে তারপরেই এসব ফল খাবেন। প্রতিদিন কমপক্ষে একজন গর্ভবতী নারীর দুই থেকে চারটি তাজা ফল খেতে পারেন। 



সাধারণত একজন নারী  গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই তার সকল কনসেন্ট্রেশন চলে যায় গর্ভের বাচ্চার দিকে। এ সময় অনেকেই অনেক কথা বলে থাকে, বিশেষ করে খাবারের ব্যাপারে।  অনেকে এসে বলবে এটা খাও, ওটা খাওয়া যাবেনা, এটা করো ,ওটা করা যাবে না ,আপনাকে সবার কথায় কান দেওয়া যাবে না। কারণ তারা কেউ এসব বিষয়ে অভিজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ নয়। আপনি একজন বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আপনার খাবার তালিকা তৈরি করে নিতে পারেন। মনে রাখবেন একজন গর্ভবতী নারীর খাদ্যাভাসই পারে একজন সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে। 

Post a Comment

0 Comments