Ticker

6/recent/ticker-posts

টাইফয়েড হলে কি খাওয়া উচিত



 টাইফয়েড হলে কি খাওয়া উচিত

টাইফয়েড জ্বর হলো এক ধরনের সালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। সাধারণত টাইফয়েড রোগে লক্ষণ হালকা থেকে তীব্রতর  হয়ে থাকে। টাইফয়েড রোগের সময় আমাদের কি কি খাওয়া উচিত আর কি কি খাওয়া উচিত না সেই সম্পর্কে আজকে জানার চেষ্টা করব। 


এখন যেহেতু বর্ষাকাল আর বর্ষাকাল এলেই টাইফয়েড জ্বর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে টাইফয়েড জ্বর সাধারণত দূষিত খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের ফলে হয়ে থাকে। টাইফয়েড জ্বর হওয়ার লক্ষণসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শরীরের তাপমাত্রা অধিক হারে বৃদ্ধি পাওয়া ,মাথা ব্যথা করা ,ডায়রিয়া ,সর্দি কাশি হওয়া, শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা, বমি বমি ভাব হওয়া, ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি।  এছাড়া টাইফয়েড হলে শরীরে রক্তস্বল্পতাও দেখা দিতে পারে। 


সূচিপত্র :

  • টাইফয়েড হলে কি খাওয়া উচিত 
  • টাইফয়েড হলে যেসব খাবার খাবেন 
  • টাইফয়েড হলে যেসব খাবার খাওয়া উচিত নয় 
  • টাইফয়েড জ্বরে ঘরোয়া যত্ন



টাইফয়েড হলে যেসব খাবার খাবেন


এই সময়টাতে সাধারণত প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। ভাত সহজে হজম হয়ে থাকে ,তাই এই সময় ভাতের সাথে হালকা মসলায় রান্না করা মাছ, চিকেন ও সবজি খাওয়া উত্তম। যেহেতু মুগ ডালের খিচুড়ি সহজেই হজম হয় ,তাই মুখের রুচি পরিবর্তন এর জন্য খিচুড়ি খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া মুগ ডালের দোসাও শরীরের জন্য খুবই ভালো পথ্য।


ডিমের সিদ্ধ অথবা পোচ খেতে পারেন।মধু দিয়ে তৈরিকৃত কাস্টার্ড খাওয়া যেতে পারে , এটা শরীরের জন্য খুবই পুষ্টিকর এবং উপাদেও খাদ্য। এছাড়া পরিজ ও ইডলি জাতীয় খাবার টাইফয়েড হওয়ার পর দ্রুত আরোগ্য হওয়ার জন্য সহায়তা করে। এছাড়া জলীয় খাবারের পরিমাণ যত বেশি খাওয়া যায় ততই আপনার শরীরের জন্য ভালো।


জলীয় খাবারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডাবের জল ,পাতি লেবু, পুদিনার শরবত, টাটকা ফলের রস, ধয়ের গোল ,অথবা বাটার মিল্ক নিয়মিত খেতে পারে।  কেননা টাইফয়েড হওয়ার পর একদিকে জ্বর ও পেটের সমস্যার কারণে প্রচুর পরিমাণ পানি  শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তাই এই সময় জলীয় খাবার খাওয়া খুবই জরুরী। 



টাইফয়েড হলে যেসব খাবার খাওয়া উচিত নয়


আপনি টাইফয়েড রোগ  থেকে আরোগ্য হওয়ার পরেও হজম ক্ষমতা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে কিছুটা সময় লাগে এবং ডাক্তাররা খাবারে কিছুদিন বিধি-নিষেধ দিয়ে থাকে। তাই খাবারের ব্যাপারে টাইফয়েড হওয়ার পর নিয়ম মেনে চলা ভালো।


সাধারণত যেসব খাবার পরিহার করা উচিত তা হল : হাই ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না ,কেননা এটা হজমের সমস্যা করতে পারে।  কিছুদিন সালাত জাতীয় যেসব খাবার রয়েছে এগুলো পরিহার করা উত্তম।  কাঁচা পেঁয়াজ, ব্রকলি, বাঁধাকপি এগুলো একদমই খাওয়া চলবে না।  কেননা এগুলো হজমে অনেক সমস্যা করে থাকে।


ব্রাউন রাইস কিনোয়া, বাজরা, ওটস এই ধরণের খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। মুসুর ডাল, রাজমা, ব্ল্যাক বিনস, ঘুগনি ইত্যাদি পরিহার করা অতি উত্তম। ভাজাভুজি বিশেষ করে যেসব খাবার ডিপ ফ্রাই করা হয় এগুলো খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। এছাড়া পটেটো চিপস, ডোনাট ,তেলে ভাজা ,সিঙ্গারা ইত্যাদি খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।


ফ্ল্যাক্সের বীজ, চিয়ার বীজ, কুমড়োর বীজ ইত্যাদি খাবার গুলো এই সময়টাতে পরিহার করতে হবে। শুকনো লঙ্কা বা লঙ্কা দিয়ে রান্না করা খাবার আমাদের হজমের নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করে। তাই রান্না করার ক্ষেত্রে অল্প কাঁচা লঙ্কা বা সামান্য গোলমরিচ দিয়ে রান্না করা খাবার খাওয়া যেতে পারে। 


টাইফয়েড জ্বর থেকে সেরে ওঠার পর নিয়মিত এই পাঁচটি খাবার খেয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন


ডাবের পানি টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে জলের বা তরলের খুব অভাব রক্ষা করা যায়। টাইফয়েড জ্বর হওয়ার ফলে অনেক রোগীর মধ্যে ডায়রিয়ার মত সমস্যা দেখা দেয় এবং শরীরের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এই সময় চিকিৎসকরা সাধারণত অধিক পরিমাণে জল পান করতে বলে থাকে। তাই এই পরিস্থিতিতে ডাবের পানি টাইফয়েড রোগীর শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী। 


কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার অনেক বেশি প্রয়োজন। টাইফয়েডে আক্রান্ত কোনো রোগী যদি রেগুলার কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খায় তাহলে সেগুলো হজম করতে কোন সমস্যা হয় না। যার ফলে রোগীর শরীর প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেয়ে থাকে। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারের মধ্যে সিদ্ধ আলু ,ভাত এসব খাবার রোগীর পেট ভরাতে আর শরীরের পুষ্টি জোগাতে অনেক বেশি সাহায্য করে এবং সাথে এগুলো দ্রুত হজম হয়ে যায় খুব সহজেই। 


শুকনো আঙ্গুর টাইফয়েড আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার পর তার স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য শুকনো আঙ্গুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুকনো আঙ্গুর ইউনানী ওষুধ হিসাবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যখন রোগীর প্রচন্ড পরিমাণে জ্বর থাকে সেই সময় শুকনো আঙ্গুর চার পাঁচটি ভিজিয়ে খেতে পারেন। এটা রোগীর শরীরের জন্য খুবই উপকারী খাবার। 


অধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার টাইফয়েডে আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্য ফিরিয়ে পাবার জন্য উচ্চ ক্যালোরি সম্পন্ন খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। সাধারণত চিকিৎসকরা টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীদের উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কেননা এই জ্বরে  আক্রান্ত রোগী শরীর অনেক বেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে ওজন কমতে শুরু করে। যার ফলে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার গুলি শরীরের শক্তি যোগাতে সাহায্য করে থাকে। কলা, মিষ্টি আলু অথবা পিনাট বাটার এর মত খাবার গুলো রোগীকে  খাওয়ানো যেতে পারে ,এগুলো শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী। 


দুগ্ধজাত খাবার টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীর জন্য দুগ্ধজাত খাবারদাবার গুলো  শরীরের জন্য খুবই কার্যকরী।  দুগ্ধজাত খাবার দাবার রোগীর শরীরের দুর্বলতা কাটাতে অনেক বেশি সহায়তা করে। রোগীর শরীরকে শক্তি দিতে টক দই ,ছানার মত দুগ্ধ জাতীয় খাবার গুলো খাওয়ানো যেতে পারে। এগুলো থেকে রোগী তার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেয়ে থাকে। 


টাইফয়েড জ্বরে ঘরোয়া যত্ন


পানি পান টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে রোগীকে যতটা সম্ভব বেশি পরিমাণে পানি পান করতে হবে। শুধু পানি নয় ,এইসঙ্গে যেকোনো ধরনের তরল খাবার যেমন ফলের রস, হারবাল চা, ডাবের পানি এই তালিকায় থাকতে পারে। টাইফয়েড হওয়ার পর ডায়রিয়া হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে ,তাই ডায়রিয়া যেন না হয় সেজন্য অনেক বেশি তরল খাবার খাওয়া প্রয়োজন। তরল খাবার গ্রহণের ফলে শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে যার ফলে শরীর খুব দ্রুত সুস্থ হবে। 


তুলসী পাতা অনেক সব রোগের ঔষধ বলা হয় তুলসীপাতাকে। টাইফয়েডের জন্য একটি ঘরোয়া ঔষধ হলো তুলসী পাতা। তাছাড়া অনেক ধরনের আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরিতে তুলসী পাতা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। টাইফয়েড এর ক্ষেত্রেও তুলসী পাতা যথেষ্ট উপকারী। তুলসী পাতা প্রথমে গরম পানিতে হালকা ফুটিয়ে নিতে হবে ,এতে করে বাহিরের ধুলোগুলো চলে যাবে। তারপর তুলসীপাতার সাথে অল্প পরিমাণে মধু বা আদার রস অথবা গোলমরিচের গুঁড়ো দিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তুলসী পাতা ব্যাকটেরিয়া তাড়াতে অনেক বেশি সহায়তা করে থাকে। 


আদা বলা হয়ে থাকে শরীরের যেকোনো সমস্যার মহাওষুধ হলো আধা। আধার ভিতরে অনেক বেশি পরিমানে আন্টি অক্সিডেন্ট থাকে আন্টি অক্সিডেন্ট রক্ত কে পরিষ্কার করতে অনেক বেশি সহায়তা করে। তাছাড়া আধা কিডনিতে থাকা অযাচিত পদার্থ গুলোকেও বের করে দেয়। যার ফলে শরীর পরিষ্কার হয়ে যায়। শরীর এর জন্যে কাঁচা আদা সবচেয়ে বেশি উপকারী। এজন্যে আদা শরীরে যত বেশি ডুকবে তত বেশি শরীর জন্য উপকারী। 


ঠান্ডা জলের পট্টি জ্বর যখন অনেক বেশি পরিমাণে হয় তখন ঠান্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে মাথায় দিয়ে রাখতে হয়। এতে শরীরের তাপমাত্রা অনেকাংশে কমে যায়। তবে যদি তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায় ,সে ক্ষেত্রে এটা আর কাজে লাগে না। তখন ঠান্ডা পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে দিতে হবে ,সাথে সারা শরীর ঠান্ডা পানি দিয়ে কাপড় ভিজিয়ে মুছে দেওয়া যেতে পারে। এতে করে জ্বর শরীর থেকে খুব দ্রুত নেমে যায় ।


তবে টাইফয়েড জ্বরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ,পরিস্কার পোশাক পরা, নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করা ,সাথে অবশ্যই ভালোভাবে হাত ধৌত করা ,ঘরের জিনিসপত্র সব সময় পরিষ্কার রাখা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির জিনিসপত্রগুলো আলাদা করে রাখা। এতে করে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। 


Post a Comment

1 Comments