Ticker

6/recent/ticker-posts

ডেঙ্গু জ্বর হলে করণীয়



 ডেঙ্গু জ্বর হলে করণীয়

আমাদের বাংলাদেশে সাধারণত জুন জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের আক্রান্ত অনেক বেশি পরিমাণে হয়ে থাকে। বর্ষাকালের সময় যেকোনো ধরনের জ্বর  আমাদের দেশের ডেঙ্গুর কথা মনে করিয়ে দেয়। আর এখন যেহেতু বর্ষাকাল সেহেতু আমাদের ডেঙ্গুর কথা মনে রাখতে হবে সবসময় , কেননা বর্ষাকালে ডেঙ্গুর উৎপাত অনেক বেশি পরিমাণে বেড়ে যায়। আর ডেঙ্গু থেকে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক আমাদের ডেঙ্গু জ্বর হলে যেসব করণীয় সেগুলো সম্পর্কে। 


সূচিপত্র :


ডেঙ্গু জ্বর হলে করণীয় 
ডেঙ্গু জ্বর কি 
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বুঝবেন কিভাবে 
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর করণীয় 
শরীর থেকে জ্বর নামার পর করণীয় কি
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কাদের বেশি



ডেঙ্গু জ্বর কি


ডেঙ্গু জ্বর হলো একটি এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত গ্রীষ্মকালীয় রোগ। এটা এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে আমাদের শরীরে ছড়িয়ে থাকে। একটি এডিস  মশা কামড়ের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ গুলো  আমাদের মাঝে দেখা দেয়। সাধারণত ডেঙ্গু জ্বরে  আক্রান্ত হওয়ার পর দুই থেকে সাত দিনের মাঝে ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে থাকে।


আবার অনেক ক্ষেত্রে রোগটি  মারাত্মক রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়ে থাকে। যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষয়ী জ্বর  বলা হয়। আর এই রক্ত ক্ষয়ী  জ্বরের ফলে রক্তপাত হয় ,রক্ত অনুচক্রিকার মাত্রা অনেক কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে থাকে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে দেখা যায়। কয়েক প্রজাতির এডিস মসকে অর্থাৎ স্ত্রী মশা ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করে। 



ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বুঝবেন কিভাবে


সাধারণত আমরা  যখন ডেঙ্গু জ্বরের আক্রান্ত হই তখন আমাদের শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত হয়ে যায়। অর্থাৎ আমাদের শরীরের তাপমাত্রা তখন ১০২ থেকে ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়ে থাকে। জ্বরের সাথে আরো নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। যেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তীব্র শরীর ব্যাথা, মুখে ব্যাথা, মাংসপেশিতে ব্যথা ,চোখের চারপাশে এবং পেছনে ব্যথা ,বমি  বমি ভাব অথবা বমি হওয়া ,পেটে ব্যথা ,ক্ষুধামন্দ হওয়া,কুষ্ঠ কাঠিন্য, মুখের স্বাদের  পরিবর্তন হওয়া এবং গায়ে লালচে ভাব আসা।


এসময় যদি আপনার শরীরে জ্বর আসে তাহলে আর দেরি না করে শুরুতেই ডেঙ্গু টেস্ট করে নিতে হবে এবং প্রয়োজনে সিভিসি , জিওটি টেস্ট  করে নিতে হবে। কারণ যদি এগুলো সঠিক সময়ে  না করা হয় তাহলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই অনেক জটিলতা সৃষ্টি হবে।  আপনি যদি আপনার শরীরে এসব লক্ষণ দেখতে পান তাহলে অবশ্যই দ্রুত ডেঙ্গুর জন্য যেসব  চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন সেগুলো নিতে ভুলেও দেরি করবেন না। 


ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর করণীয়


যদি আমরা ডেঙ্গুচরে আক্রান্ত হয়ে যাই তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় প্রাথমিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা শুরু করা উচিত। আর যেসব মানতে হবে তা হল :


জ্বর কমানো ডেঙ্গুর উচ্চ মাত্রার জ্বর কমানোর জন্য শুধু প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করাই উত্তম। প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ ছয় থেকে আট ঘন্টা পর পর জ্বরের মাত্রা বুঝে ব্যবহার করতে থাকুন। একদিনে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ টি ট্যাবলেটের বেশি ব্যবহার করা হলে আপনার লিভারের ক্ষতি সহ নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। আপনার শরীরের অতিরিক্ত জ্বর কমাতে কোনভাবেই অ্যাসপিরিন অথবা ব্যথা নাশক এনএসএইড গ্রুপের ঔষধ ব্যবহার করা যাবে না। আর ওষুধ ছাড়াও যদি জ্বর কমাতে চান তাহলে সেই ক্ষেত্রে মাথায় পানি ঢালা, শরীর মুছে দেওয়া অথবা ডেঙ্গু জ্বরে  আক্রান্ত রোগীকে  গোসল করাতে পারেন।


পানি পান করা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে.ডেঙ্গু রোগে  আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতিদিন কমপক্ষে আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করা উচিত। ডেঙ্গু জ্বরের প্রধান চিকিৎসা বলা হয়ে থাকে ফলুইত রিপ্লেসমেন্ট অথবা তরল ব্যবস্থাপনা। পানির সাথে সাথে আপনি খেতে পারেন ওর স্যালাইন , ডাবের পানি ,ফলের শরবত ,ভাতের মার ,দুধ অর্থাৎ তরল জাতীয় খাবার। 


বিশ্রাম করা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অনেক বেশি বিশ্রাম করা। সাধারণত ডেঙ্গু রোগে যারা আক্রান্ত হয় তাদের শারীরিক দুর্বলতা থাকে অনেক বেশি। এই রোগে উপসর্গগুলো দেখা দেওয়ার সাত  থেকে দশ  দিন পর্যন্ত কোন ভারী কাজ করা যাবে না। তবে রোগী ইচ্ছে করলে তার স্বাভাবিক হাঁটাচলা ও দৈনন্দিন কাজগুলো করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর বাড়িতে অবস্থান করা এবং সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম নেওয়া। 


অন্যান্য ঔষধ যেসব ব্যক্তি ডেঙ্গু জ্বরের আক্রান্ত হয় তাদের মাঝে অনেকের  জ্বরের পাশাপাশি বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া ইত্যাদি হয়ে থাকে। আর এসব উপসর্গগুলো নিরাময়ের জন্য চিকিৎসক অতিরিক্ত কিছু ঔষধ দিয়ে থাকে। তবে ডেঙ্গু রোগীদের ঔষধ হিসেবে কখনোই এন্টিবায়োটিক স্টোরয়েড জাতীয় ঔষধ এর প্রয়োজন পড়ে না। 


খাবার ও পানীয় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে কোনো বাধা ধরা নিয়ম নেই। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। কেননা ডেঙ্গু জোরে আক্রান্ত হলে রোগীর প্লাসমা লিকেজ  হয়ে শরীরের পানির ঘাটতি দেখা দিয়ে থাকে। আর পানির ঘাটতি পূরণের জন্য নিয়মিত ফলের রস, পানি, ওরাল স্যালাইন, ডাবের পানি ইত্যাদি  ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ তরল পান করা উচিত। আর এসব তরল পান করলে প্লাজমা লিকেজ কম হবে। শর্করা প্রোটিন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সাধারণ খাবার কখনোই রোগীর জন্য বন্ধ করা যাবে না। তবে স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে ঘরে বানানো যেসব খাবার রয়েছে সেগুলো খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। আর অধিক পানির পানের বিষয়ে যদি কেউ অবহেলা করে তাহলে কিডনির জটিল রোগ দেখা দিতে পারে। তবে এই সময় অস্বাস্থকর স্ট্রিট ফুড ,ভাজা পোড়া ,তৈলাক্ত ধরনের যেসব খাবার রয়েছে এবং ক্যাফিন জাতীয় পানীয়  একেবারেই খাবারের রুটিন থেকে এড়িয়ে চলুন। 



শরীর থেকে জ্বর নামার পর করণীয় কি


অনেক সময় দেখা যায় চিকিৎসা বিহীন আমাদের শরীর থেকে জ্বর ছেড়ে যেতে পারে। আর যদি আমাদের শরীর থেকে জ্বর তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে নেমে যায় তাহলে আমরা অনেকেই নিজেকে সুস্থ ভেবে থাকি। এটা কোনভাবেই করা যাবে না। কেননা ডেঙ্গু জ্বর কমার পরেও অনেক অসুবিধা হতে পারে।


শরীর থেকে জ্বর ছাড়ার চার থেকে পাঁচ দিনের মাথায় শরীরের রেশ  ,এলার্জি অথবা ঘামাচির মত দেখা দিতে পারে। আর এই সময় ব্লাড টেস্ট করে রক্তে প্লেটলেটের  অবস্থা জেনে নিতে হবে। আমাদের যদি হিমোরোজিক ফিভার হয় তাহলে এই পরীক্ষাটা অবশ্যই করতে হবে। আমাদের শরীর থেকে জ্বর ছাড়ার পরের সময়টা অনেক বেশি ক্রিটিকাল। 


শরীর থেকে জ্বর কমে যাওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা মধ্যে তীব্র ব্যথা, বমি, নাক ও দাঁতের মাড়িতে রক্তক্ষরণ হলে ,যকৃত যদি বড় হয়ে যায়, রক্ত বমি হয়  প্রস্রাব যদি কমে যায় তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। আর এ সময় বিন্দু পরিমাণও অবহেলা করা যাবে না। কেননা হঠাৎ যদি এই চিকিৎসা বন্ধ করা হয় তাহলে ডেঙ্গু শক  সিনড্রোম  দেখা দিতে পারে। 



ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কাদের বেশি


সাধারণত কম বেশি সবাই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। তবে যাদের বয়স এক বছরের উপরে এবং ৬৫ বছরের উপরে ,এছাড়া গর্ভবতী নারী ,যাদের স্বাস্থ্য অধিক, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ,উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা, ডায়ালাইসিস এর  রোগী  এদেরকে শুরু থেকেই হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কেননা এদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। 


Post a Comment

0 Comments