Ticker

6/recent/ticker-posts

গরমে মধুর উপকারিতা



 গরমে মধুর উপকারিতা

স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শরীরের যাবতীয় রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে মধুর গুণ অপরিসীম। আমাদের হরযত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম মধু কে বলেছেন সকল রোগের মহাঔষদ। চিকিৎসাক্ষেত্রে বিশেষ করে আয়ুর্বেদ এবং ইউনানী চিকিৎসা ক্ষেত্রে মধুকে বলা হয়ে থাকে সকল রোগের মহা ঔষধ।


এটা যেমন শরীরের জন্য বল কারক, তেমনি সুস্বাদু ও উত্তম উপাধায়ক খাদ্য। আর প্রাচীনকাল থেকেই পারিবারিকভাবে পুষ্টিকর ও শক্তিবর্ধক পানীয় হিসেবে সব দেশের সকল পর্যায়ে মানুষ অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে এই মধু ব্যবহার করে আসছে। যাদের যৌন সমস্যা রয়েছে সেই সমস্যায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে মধু। যৌন শক্তি বাড়াতে সপ্তাহে কমপক্ষে তিন থেকে চার দিন এক চামচ খাঁটি মধু এক গ্লাস গরম পানিতে মিশিয়ে খেতে পারেন। এটা আপনার যৌন শক্তিকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দিবে। 


সূচিপত্র:

  • গরমে মধুর উপকারিতা 
  • মধু খাওয়ার উপকারিতা 
  • গরমের মাঝে মধু খাওয়ার উপকারিতা 
  • মধু খাওয়ার নিয়ম 
  • খালি পেটে মধু খাওয়ার উপকারিতা


মধু খাওয়ার উপকারিতা


বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত যে ১৮১ টির বেশি রাসায়নিক উপাদান পাওয়া যায় এই প্রাকৃতিক মধুতে। যা কখনোই কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব নয়। এক চামচ মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ,নানা ধরনের রোগের উপশমসহ জীবনী শক্তি বৃদ্ধি করতে অনেক সহায়তা করে থাকে।


মধুতে রয়েছে নানা ধরনের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান যেমন ভিটামিন এ, সি ,ডি ,ই ,কে  সহ কমপ্লিট ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ,খনিজ পদার্থ যথা ম্যাগনেসিয়াম ,সালফার ,ফসফরাস ,আইরন, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন ,পটাশিয়াম, সোডিয়াম, কপার ও ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি। এছাড়া ১৯ টি এমিনো এসিড, গ্লুকোজ, সুক্রোজ ও মাল্টোস নামের প্রাকৃতিক সুগার এই মধুতে বিদ্যমান রয়েছে।


যা আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সব সময় পালন করে থাকে। মধুতে কোন ধরনের কোলেস্টেরল নাই যার ফলে সুস্থ ও অসুস্থ যে কেউ মধু খেতে পারে। সম্প্রীতি বৈজ্ঞানিক গবেষকরা মধুপন্ন সামগ্রীকে সুপার ফুড এর  অন্তর্ভুক্ত করেছে। মধু মানুষের রূপচর্চায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া মধুতে রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য সুবিধা। 



গরমের মাঝে মধু খাওয়ার উপকারিতা


ওজন হ্রাসে সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত মধু গরম জলে মিশিয়ে খাওয়ার ফলে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে শরীরে মেদ  জড়ার প্রক্রিয়া তুরান্নিত হয়। যার ফলে ওজন কমতে বেশি সময় লাগে না।  ফলে যাদের অতিরিক্ত ওজনের কারণে অনেক বেশি চিন্তায় থাকেন, তারা এই ঘরোয়া উপায়টি কাজে লাগাতে পারেন। 


দাঁতের স্বাস্থ্য মধুতে এমন কিছু পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে যেগুলো মানবদেহের শরীরে প্রবেশ করার পর দাঁতকে যেমন শক্তপোক্ত করে, তেমনি মুখ গহবরে  উপস্থিত ক্ষতিকর যেসব ব্যাকটেরিয়া থাকে তাদেরকে মেরে ফেলে। যার ফলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয় ,সাথে ডেন্টাল যেসব প্রবলেম মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা থাকে সেগুলো অনেক কমে যায়। 


চুলের সৌন্দর্যে মধু একাধিক গবেষণায় পরিলক্ষিত হয়েছে যে যারা নিয়মিত মধু খেয়ে থাকে ,তাদের চুলের গোড়ায় পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়ে যায়। যার ফলে হিয়ার ফলের মাত্রা কমতে শুরু করে এবং সাথে সাথে চুলের সৌন্দর্য অনেক বেশি বৃদ্ধি পায় ,যেগুলো চোখে পড়ার মতো। 


ক্যান্সার রোগের ক্ষেত্রে মধুর ভিতরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট। যা শরীরের ভিতর থেকে টক্সিন উপাদান কে বের করে দেয়। আর শরীর থেকে টক্সিন উপাদানকে বের করে দিয়ে ,ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়।  যার ফলে ক্যান্সার রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে না। 


হজমের ক্ষেত্রে অনেকগুলো গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে নিয়মিত মধু খেলে স্টোমাতে যে উপস্থিত গ্যাস রয়েছে সেগুলো বেরিয়ে যায়। যার ফলে হজম ক্ষমতার অনেক বেশি উন্নতি ঘটতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই বদহজম ও  বুক জলার  মতো সমস্যাগুলো খুব দ্রুত কমে যায়। 


ত্বকের সৌন্দর্য যদি নিয়ম করে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন পরিমাণ মতো দারু  চিনি পেস্ট নিয়ে তাতে মধু মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন তাহলে স্কিনের যেকোনো ধরনের সমস্যা খুব দ্রুত কমে যায়।  আর সেই সাথে কোষের  উপরের স্তরে জমতে থাকা মৃত কোষের স্তরগুলো সরে যেতে থাকে।  ফলে শরীর ত্বক উজ্জ্বল ও প্রাণোচ্ছল হয়ে ওঠে। এতে করে আমাদের বয়সের ছাপ ও কমতে থাকে। 


হার্ট এর ক্ষেত্রে শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টরেল বা এলডিএল মাত্রা কমাতে দারুচিনি ও মধু অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয় মধুতে উপস্থিত এন্টিঅক্সিডেন্ট হাটের অন্দরে যে প্রদাহ থাকে তা অনেক অংশে কমিয়ে দেয়। যার ফলে কোন ধরনের হার্ড ডিজিজ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। সেইসঙ্গে কমে যায় হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা। 


ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আমাদের বর্তমান সমাজে ডায়াবেটিস এর রোগীর অভাব নেই।  আপনার যদি ডায়াবেটিস থেকে থাকে, তাহলে আজ থেকেই দারুচিনি ও মধু একত্রে খাওয়া শুরু করুন। কেননা এই দুইটি প্রাকৃতিক উপাদান আমাদের শরীরের ইনসুলের কর্মক্ষমতা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে রক্তের শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায় ,যাতে করে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার যে সম্ভাবনা থাকে তা বহু গুনে কমিয়ে দেয়। 


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আপনি যদি নিয়মিত মধু খেতে থাকেন ,তাহলে শরীরের বেশ কিছু উপাদান এর পরিমাণ বাড়তে থাকে। যা আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলে।রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আপনার শরীরের সকল ক্লান্তিও দূর করে দেয়। তাই নিয়মিত বেশি বেশি মধু পান করুন। 


খালি পেটে মধু খাওয়ার উপকারিতা


মধু খাওয়া সবচেয়ে উত্তম সময় হচ্ছে সকালবেলা খালি পেটে মধু খাওয়া। সকাল বেলা খালি পেটে মধু খাওয়ার ফলে বেশ কিছু উপকার পাওয়া যায়।  যেমন গরম পানি ও লেবু একসঙ্গে মিশিয়ে মধু খেলে তা দেহের ভিতর যেসব বিষাক্ত পদার্থ থাকে, তা বের করে দেয়।


এছাড়া খালি পেটে মধু খাওয়ার ফলে ওজন কমাতে সাহায্য করে। কোলেরেস্টলের পরিমাণ অনেক  কমিয়ে দেয়। মধুর যে মিনারেলস ও এনজাইম রয়েছে তা দেহের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে এবং মধু আমাদের শরীরে অ্যান্টি এক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে। তাই খালি পেটে মধু খাওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। 



মধু খাওয়ার নিয়ম


নানা ভাবে মধু খাওয়া যায়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নিয়ম নিচে দেওয়া হল :


👉প্রাচীন সভ্যতা থেকেই মধু নানা ভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে।  মধুতে রয়েছে অনেক বেশি পরিমাণে মিনারেল, ভিটামিন ও এনজাইম যা মানবদেহের শরীরকে বিভিন্ন অসুস্থতা থেকে রক্ষা করে থাকে। প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু খেলে আমাদের শরীরের ঠান্ডা, কফ, কাশি ইত্যাদি যেসব সমস্যা থাকে তা খুব দ্রুত কমে যায়। 


👉শরীরে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক গুণে বাড়িয়ে তুলে মধু খাওয়ার মাধ্যমে। সকালবেলা নিয়মিত মধু খেলে ওজন কমাতে অনেক সাহায্য করে। বিশেষ করে যদি সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস ও পানি মিশ্রণ করে একসাথে খাওয়া যায় ,তাহলে ওজন কমে যায় কিছুদিনের মধ্যেই। তাছাড়া এটা খাওয়ার ফলে লিভার পরিষ্কার থাকে। 


👉আপনার শরীরের রক্তনালীর সমস্যা দূর করার জন্য মধুর সঙ্গে দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে করে রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১০ ভাগ কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। মধু ও দারুচিনির এই মিশ্রণ নিয়মিত খাওয়ার ফলে হার্ট এটাকের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়। 






















 

 







Post a Comment

0 Comments