Ticker

6/recent/ticker-posts

ডেঙ্গু হলে যা খেতে হবে



 ডেঙ্গু হলে যা খেতে হবে

আমাদের দেশে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় ত্রাসের নাম হচ্ছে ডেঙ্গুজ্বর। ঢাকা সহ আমাদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে কয়েক শত মানুষ। এটা নবজাতক সহ যেকোনো বয়সের মানুষেরই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। একদিকে করোনার মহামারী অন্যদিকে ডেঙ্গুর পাদুর্ভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। ডেঙ্গু জ্বর বর্তমানে একটা চ্যালেঞ্জের বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়ে সচেতন থাকাটা অনেক জরুরী। 


সূচিপত্র:

ডেঙ্গু হলে যা খেতে হবে 
ডেঙ্গু কি 
এডিস মশার জন্মস্থল 
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর যেসব খাবার খাওয়া উচিত  
ডেঙ্গু জ্বর হলে যে খাবার গুলো খাওয়া উচিত নয়


ডেঙ্গু কি


ডেঙ্গু হচ্ছে এক ধরনের ভাইরাসজনিত রোগ। ডেঙ্গু ভাইরাসের চার ধরনের সেরোটাইপ থাকে। সাধারণত এডিস মশার মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে থাকে। সব এডিস মশার কারণেই যে ডেঙ্গু ভাইরাস হবে এমন নয়। যেসব এডিস মশা ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করে শুধুমাত্র সেইসব এডিস মশার কারণে ডেঙ্গু হয়ে থাকে। ডেঙ্গু ভাইরাস বহন কারী মশা কামড়ানোর চার থেকে দশ দিনের মধ্যে এই ভাইরাস দেহে বংশবৃত্তি করে। দেহে বংশবৃদ্ধি করার মাধ্যমে এই রোগের সৃষ্টি হয়। সাধারণত আমাদের মানবদেহে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ থাকে দেড় লক্ষ থেকে চার লক্ষ মত। যখন আমাদের শরীরে ডেঙ্গুর তীব্রতা বাড়ে সাথে সাথেই এই প্লাটিনাটের পরিমাণ কমে যেতে থাকে। 


এডিস মশার জন্মস্থল 


এডিস মশা সাধারণত আবদ্ধ পানিতে বংশবিস্তার করে থাকে। অর্থাৎ যেই পানি স্থির থাকে নড়াচড়া করে না এরকম পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। আমাদের আশেপাশের টবের পানি, নারিকেলের খোলা, এসির নিচে জমে থাকা পানি, কমোডের পানি ইত্যাদিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। আবার আমাদের পাশে কেউ যদি ডেঙ্গু জ্বরে  আক্রান্ত হয় তখন যদি কুনো মশা আক্রান্ত ব্যক্তি কে কামড়ায় তখন সেই মশা ডেঙ্গু জীবাণু বহনকারী মশা হিসেবে পরিগনিত  হয়। আর এই ডেঙ্গু জীবাণু বহন কারী মশা যখন সুস্থ মানুষকে কামরায়  তখন সেই ব্যক্তি ও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। আর এভাবেই ডেঙ্গু জ্বর আমাদের চারপাশে সবার মাঝে ছড়াতে  থাকে। 


ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর যেসব খাবার খাওয়া উচিত


ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথেই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে। তবে ডেঙ্গু জ্বর দেখা দিলে আপনার খাবারের প্রতিও বিশেষভাবে মনোযোগী হতে হবে। ডেঙ্গু জ্বর হলে যে খাবারগুলি খাওয়া উচিত সেগুলো নিচে দেওয়া হল :


কমলা ডেঙ্গু জ্বর হলে সর্বপ্রথম আমাদের জ্বর কে নিয়ন্ত্রণ করার কাজ করতে হবে। কমলা ও কমলার রস ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজে আসতে পারে।  আমরা জানি কমলাতে  রয়েছে ভিটামিন সি এবং এন্টি অক্সিডেন্ট। আর এই দুইটি উপাদান ডেঙ্গু জ্বরের নিয়ন্ত্রণে খুব ভালো কাজ করে থাকে। তাই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে বেশি বেশি কমলা খাওয়া উচিত।


ডালিম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ফলে আমাদের শরীরে রক্তে প্লাটিলেটের  সংখ্যা কমে যেতে থাকে এবং শরীর অনেক বেশি দুর্বল ও ক্লান্তি চলে আসে। ডালিমে রয়েছে অনেক বেশি পরিমাণে ভিটামিন। আর ভিটামিনের পাশাপাশি রয়েছে পরিমাণ মতো মিনারেল। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর যদি আপনি নিয়ম করে ডালিম খেতে থাকেন তাহলে রক্তে প্লাটিলেটের  সংখ্যা বেড়ে যাবে। আর পাশাপাশি ডালিম খাওয়ার ফলে আপনার ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভূতি ও আস্তে আস্তে চলে যাবে।  তাছাড়া এই ফলটি প্রাচীনকাল থেকেই রোগ নিরাময়ের পথ্য হিসাবে ব্যবহারিত হয়ে আসছে। 


হলুদ ডেঙ্গু জ্বর থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য হলুদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে ,আপনি যদি এক গ্লাস দুধের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশে পান করতে থাকেন তাহলে এটি আপনাকে অতি দ্রুত সুস্থ করে তুলবে। তাই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর এই খাবারটি খেতে ভুলবেন না। 


ডাবের পানি  ডাবের পানিতে রয়েছে ইলেক্ট্রোলাইটসের মত প্রয়োজনীয় পুষ্টি।  ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে তরল পদার্থের শূন্যতা সৃষ্টি হয়। সাথে সৃষ্টি হয় ডিহাইড্রেশন। এ সময় আমাদের অনেক বেশি পরিমাণে তরল পান করা উচিত। এই ডিহাইড্রেশন থেকে মুক্তির জন্য বেশি বেশি ডাবের পানি পান করলে উপকার পাওয়া যায়। 


মেথি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকেরই সঠিকভাবে ঘুম আসে না। সে ক্ষেত্রে মেথি ডেঙ্গু জ্বরের জন্য অনেক কাজে আসে। মেথি আপনাকে অতি সহজেই ঘুমিয়ে যেতে সহায়তা করবে। সেই সাথে সহায়তা করে অতিরিক্ত মাত্রা জ্বর কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো মেথি গ্রহণ করার পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত। 


পেপে পাতার জুস ডেঙ্গু জ্বরে  আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য অনেক বেশি উপকারী  হচ্ছে পেঁপে পাতার জোস্। কেননা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর রুগীর শরীরে প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যেতে থাকে। আর পেপে পাতায় থাকে পাপাইন ওকিমোপেইনের  মতো এনজাইম সমৃদ্ধ যা হজমে অনেক বেশি সহায়তা করে। আর এই পেঁপে পাতার জুস খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের প্লেটলেটের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে দেয়। তাই ডেঙ্গুজরে আক্রান্ত হওয়ার পর প্লেট প্লেটের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে ত্রিশ এম এল  পেপে পাতার তৈরির জুস খেতে পারেন। আপনি চাইলে ঘরে বসেই পেপে পাতার জুস তৈরি করতে পারবেন। 


পালং শাক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যায়। যেহেতু পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি  এসিড বিদ্যমান রয়েছে। আর এটি খাবার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে অনেক বেশি সহায়তা করে। তাই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য পালং শাক অনেক বেশি উপকারী। তাছাড়া পালং শাক বেশি খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের অতি দ্রুত প্লেট বৃদ্ধি পেতে থাকে। 


ব্রুকলি  আমাদের শরীরে প্লেটলেট বৃদ্ধি করে ভিটামিন কে সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ফলে। আর ব্রকলিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে। ব্রুকলি  হচ্ছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজ  সমৃদ্ধ খাবার। আমরা যদি কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তাহলে অবশ্যই বেশি করে ব্রুকলি  খাব। এটা আমাদের শরীরের প্লেটলেট এর সংখ্যা বৃদ্ধি করে দিবে। 


কিউইফল কিউই ফলটিতে অনেক বেশি পরিমাণে ভিটামিন পাওয়া যায়। ভিটামিনের সাথে সাথে এই ফলটিতে রয়েছে পটাশিয়াম। এই ফলটি খাওয়ার ফলে ইলেকট্রোলাইট স্তর এবং আমাদের শরীরের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলটি খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তাই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে এই ফলটি বেশি বেশি খাবো। 


ডেঙ্গু জ্বর হলে যে খাবার গুলো খাওয়া উচিত নয়


তৈলাক্ত ও ভাজা খাবার আমাদের অনেকেরই তৈলাক্ত ও ভাজাযুক্ত খাবারের প্রতি অনেক বেশি আগ্রহ রয়েছে। ডেঙ্গু জ্বরে  আক্রান্ত হওয়ার পর অবশ্যই তৈলাক্ত ও ভাজা খাবারগুলো না খাওয়াই উত্তম। কেননা এই খাবারগুলো খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। 


ক্যাফিন যুক্ত পানীয় ডেঙ্গু জ্বরে  আক্রান্ত হলে অনেক বেশি তরল খাবার খেতে হবে। তবে সেই সাথে অবশ্যই ক্যাফিন যুক্ত তরল খাবার গুলো এড়িয়ে চলতে হবে।  কেননা ক্যাফিন যুক্ত পানীয় খাবারগুলো আমাদের হার্ড রেট বাড়িয়ে দিতে পারে। এবং সেই সাথে আমাদের শরীরে ক্লান্তি নিয়ে আসতে পারে। 


মসলা জাতীয় খাবার ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই মসলাযুক্ত খাবার গুলো পরিহার করতে হবে। কেননা এই ধরনের খাবার অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে পাকস্থলীর দেয়াল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এই সময় মসলাযুক্ত খাবার গুলো না খাওয়াই উচিত। 


Post a Comment

0 Comments