Ticker

6/recent/ticker-posts

গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ গুলো কি কি



 গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ গুলো কি কি

মাতৃত্বের স্বাদ যেকোনো মহিলার কাছেই একটি পরম পাওয়া। এই অনুভূতি উপভোগ করার জন্যই বহু মহিলা মুখিয়ে থাকেন। বিয়ের পর সাধারণত মেয়েদের নানা ধরনের শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। যার ফলে নতুন অবস্থায় মেয়েরা অনেক কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। ফলে পড়তে হয় বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কবলে। আর গর্ভধারণের প্রথম তিন মাস থাকতে হয় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে।

যার ফলে একটি নারী গর্ভবতী কিনা তা সঠিক সময়ে জানা মা ও শিশু দুজনের জন্যই খুবই ভালো একটা দিক। বেশিরভাগ মহিলা বিশেষ করে দেখা যায় যারা প্রথমবার মা হচ্ছে তারা গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ নিয়ে অনেক বেশি কনফিউসড থাকেন। কিছু কিছু মায়েরা পিরিয়ড বা মাসিক মিস হলে তার এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই কিছু উপসর্গ দেখে বুঝতে পারেন যে সে গর্ভবতী। আবার অনেক মহিলারাই গর্ভবতী হওয়ার এক মাস পার হয়ে গেলেও সে বুঝতে পারে না যে তিনি গর্ভবতী বা গর্ভধারণ করেছেন। 

সূচিপত্র:

  • গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ গুলো কি কি 
  • পিরিয়ডের আগে গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ 
  • মেয়েদের গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ 
  • গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ সমূহ দেখার পর করণীয়


পিরিয়ডের আগে গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ

সাধারণত আমাদের সবার একটি ধারণা থাকে যে কোন মাসে পিরিয়ড না হলেই এটা প্রেগনেন্সির একমাত্র লক্ষণ। কিন্তু আমাদের সবারই জানা উচিত পিরিয়ড মিস হওয়ায়  কিন্তু গর্ভধারণের একমাত্র লক্ষণ নয়।অনেক সময় দেখা গিয়েছে যে একজন মহিলার রেগুলার পিরিয়ড হচ্ছে তা সত্ত্বেও সে গর্ভধারণ করেছে। 

পিরিয়ড ছাড়াও একজন মহিলার তার শরীরের নানা শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন দেখে বুঝা যায় যে তিনি গর্ভধারণ করেছেন কিনা। তবে অধিকাংশ মহিলায় সচেতনার অভাবে এই বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারে না। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক পিরিয়ড ছাড়াই শরীরের যেসব পরিবর্তন দেখে আপনি নিশ্চিত হবেন যে আপনি গর্ব ধারণ করছেন কিনা? 

মেয়েদের গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ

মর্নিং সিকনেস কে সাধারণত প্রেগনেন্সির অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ মনে করা হয়ে থাকে। এটা যেকোনো সময় হতে পারে দিনে বা রাতে। এই সমস্যাটা সাধারণত গর্ভধারণের একমাস পর থেকে দেখা দেওয়া শুরু করে। এরকমটা হলে মহিলারা খুবই অস্বস্তি অনুভব করে থাকে। এটা হওয়ার ঠিক চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর বমি শুরু হয়। ফলে এই সময় এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টরেন স্তর বৃদ্ধি পায়। আর এটা বৃদ্ধি পাওয়ায় সকালে ওঠার পর গা গুলায়  এবং বমি হয়ে থাকে। তবে বমি যে শুধুমাত্র সকালেই হবে এর কোন মানে নেই এটা দিনের যেকোনো সময় একাধিকবার হতে পারে।৮০ শতাংশ মহিলায় পিরিয়ড হওয়ার আগে থেকেই বমির সমস্যায় ভুগে থাকেন। আর ৫০ শতাংশ মহিলা ৬ সপ্তাহ বা  তার আগে থেকে এই সমস্যা পড়ে থাকেন। 

ক্লান্তি গর্ভধারণের ক্ষেত্রে অনেকের হয়তো প্রাথমিক পর্যায়ে পিরিয়ডস বন্ধ হয় না।  তবে অনেক ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করে থাকে। সেই ক্ষেত্রে কারো যদি পিরিয়ড হওয়ার আগেই ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভূত হয় তাহলে অবশ্যই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করিয়ে দেখে নিতে পারেন। কেননা ক্লান্তি ও দুর্বলতা গর্ভধারণের ইঙ্গিত দিয়ে থাকে।

শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বিভিন্ন কারণে মানুষের শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। সংক্রমণ অথবা সর্দি এই দুটো জিনিস তাপমাত্রার বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে গর্ভধারণের কারণেও মহিলাদের শরীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। প্রোজেস্টরেন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গর্ভধারণের সময় এমনটা হতে পারে। যদি এটি ২০ দিন পর শরীরের তাপমাত্রা ওভুলেশনের কারণে বৃদ্ধি পায় তাহলে এটি জীবনের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা ইঙ্গিত দিয়ে থাকে।

মাথা ব্যথা ও  মাথা ভারী হওয়া প্রেগনেন্সির শুরুর দিকে একজন মহিলার মাথাব্যথা অনুভব করতে পারে। কেননা এই সময় রক্ত সঞ্চালন ও হরমোনের স্তর বৃদ্ধি পায়। আর এই রক্ত সঞ্চালন ও হরমোনের স্তর বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গর্ব অবস্থায় এমনটা হতে পারে। এ সময় সাধারণত একজন মহিলা তীব্র মাথা ব্যথার পাশাপাশি ক্লান্তি অনুভব করে থাকে। 

বারবার শৌচালয়ে যাওয়া বারবার টয়লেটে যাওয়া এটা গর্ভধারণের একটি অন্যতম লক্ষণ। যখন একজন মহিলার অভুলেশন প্রক্রিয়ার পর তার গর্ভধারণ সম্পন্ন হয় তখন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বার প্রস্রাব হতে পারে। যেহেতু গর্ভাবস্থার সময় রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যার ফলে এই সময় কিডনি প্রচুর পরিমাণে তরল নিঃসৃত  করতে থাকে যা প্রস্রাবের মাধ্যমে বাহিরে বেরিয়ে আসে। তাই বারবার প্রস্রাব হওয়া প্রেগনেন্সির অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

মেজাজের ওঠা নামা গর্ভধারণের সময় সাধারণত নানা ধরনের হরমোনের পরিবর্তন হয়ে থাকে। আর এইসব পরিবর্তনের কারণেই মুড্ সুইং হয়ে থাকে। সে সময় দেখা যায় হঠাৎ কান্না আবার আকস্মিক ভাবে রেগে যাওয়া ,আনন্দিত হয়ে পড়া ,কখনো কখনো এক্সাইটেড হয়ে পড়া এগুলো এই সময় সাধারণ ঘটনা। যদি আপনার সাথেও এরকম কিছু ঘটে থাকে তাহলে অবশ্যই বিষয়টি এড়িয়ে চলবেন না। আপনি আপনার প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করিয়ে নিন। পাশাপাশি প্রায় সময়ই মাথা ঘোরানো বা গা গোলানো গর্ভধারণের অন্যতম একটি লক্ষণ। 

স্তনে পরিবর্তন গর্ভবতী হওয়ার প্রথম দিকে একটি উপসর্গ হলো স্তনদ্বয়ের পরিবর্তন।  যা অধিক মাত্রার হরমোনের বৃদ্ধির কারণে হয়ে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় পিরিয়ড শুরুর পূর্বেই স্তনে এক ধরনের স্পর্শকাতরতা বা ব্যথা অনুভব হয়ে  থাকে। এই লক্ষণগুলো আরো প্রকটভাবে উপস্থাপন করে যে আপনি গর্ভধারণ করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।  আপনার সাথে যদি এরকম কিছু ঘটে তাহলে অবশ্যই আপনি প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করিয়ে দেখতে পারেন। 

ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ এটা যেকোনো ধরনের সংক্রমণের কারণে এমন হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রেই এমনটা হয় না। কিছু কিছু গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে এই ডিসচার্জ হয়ে থাকে। প্রেগনেন্সির প্রথম তিন মাসে সাধারণত ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ হয়ে থাকে। এটা হরমোনের ব্যাপক পরিবর্তনের ফলেই হয়ে থাকে। 

পেটে গ্যাস হওয়া সাধারণত গর্বাবস্থার প্রথমদিকে অধিকাংশ মহিলারই পেটে গ্যাসের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। এছাড়াও পেটে গ্যাস এর পাশাপাশি প্যাট ফাঁপার অনুভূতিও হতে পারে। যেটা অনেকটা পিরিয়ড শুরুর পূর্বে যে রকম হয় ঠিক সেরকম। আর এই গ্যাসের প্রবলেম ও ব্যাপক হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকে। এ সময় আপনার কাছে আপনার কাপড় সাধারণ সময়ের চেয়ে আরও বেশি আঁটসাঁট  মনে হতে পারে। তবে যদিও আপনার জরায়ুতে এখন পর্যন্ত তেমন পরিবর্তন আসেনি। এই ক্ষেত্রে দেখা যায় নিজের বাড়িতে এই সমস্যার তেমন কোন প্রভাব ফেলে না কিন্তু বাড়ির বাহিরে বিবৃত কর পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকে। তবে এটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এটা নিয়ে দুশ্চিন্ত হওয়ার কিছু নেই। 

খাবারের স্বাদের পরিবর্তন সাধারনত অধিকাংশ মহিলার ক্ষেত্রেই গর্ভধারণের পর তাদের মুখের স্বাদ পাল্টে যায়। দেখা যায় তারা এমন কিছু শাকসবজি বা খাবার খেয়ে থাকে যা আগে কখনো খেতে পছন্দ করতেন না। আবার কোন কেন ক্ষেত্রে তাদের পছন্দের খাবারগুলো এই সময় আর মুখে ভালো লাগেনা। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো গর্ভধারণকালে দিনে বা রাতে অর্থাৎ যে কোন সময় যে কোন খাদ্যবস্তু খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগতে পারে। 

গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণসমূহ দেখার পর করণীয়

গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণসমূহ দেখা দেওয়ার পর আপনি আপনার বাসায় বসেই প্রেগনেন্সি টেস্ট করতে পারেন। আমরা দোকানে যেসব টেস্টিং কিট পেয়ে থাকি সেগুলো দিয়ে পিরিয়ড মিস হওয়ার কমপক্ষে এক সপ্তাহ পর টেস্ট করতে হবে। তা না হলে ভুল রেজাল্ট আসতে পারে। 

আবার যদি পিরিয়ডের তারিখ পার হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই আপনি টেস্ট করে থাকেন এবং নেগেটিভ রেজাল্ট আসে তবে সেই ক্ষেত্রে করণীয় হচ্ছে আপনি আরো কিছুদিন অপেক্ষা করে আবার পরীক্ষা করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সংকেত দেখে গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার অনেক আগে থেকেই বাচ্চা গঠন শুরু হয়ে থাকে।

তাই আপনি যখন থেকেই এই সুসংবাদ জানার জন্য অধীর অপেক্ষা করছেন তার আগে থেকেই আপনি আপনার নিজের যত্ন নিতে থাকুন। আর যখনই আপনি বুঝতে পারবেন আপনি গর্ভবতী, তখনই আপনি আপনার গাইনি ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।  আপনার জন্য রইল শুভকামনা।



























Post a Comment

0 Comments