Ticker

6/recent/ticker-posts

বড়দের ডায়রিয়া হলে করণীয় কি



 বড়দের ডায়রিয়া হলে করণীয় কি























x

বর্তমান আমাদের দেশে বিশ্বের তাপদাহ বেশ কিছুদিন যাবত অসহনীয় হয়ে উঠছে। যার ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে ডায়রিয়া ও আমাশয় জনিত যেসব রোগ রয়েছে সেগুলোর পাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। দূষিত পানি পান করা এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের ফলে সাধারণত ডায়রিয়া হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।  যেকোনো ধরনের জীবাণু পেটে ঢুকার কারণে ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা  হয়ে থাকে। আর ডায়রিয়া হলে সেটা অল্প কয়েক দিনের মাঝেই সেরে যায়। তবে ডায়রিয়া থেকে যদি আমাদের মাঝে মারাত্মক পানি শূন্যতা দেখা দেয় তবে তা মৃত্যুর কারণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক ডায়রিয়ার লক্ষণ চিকিৎসা ও প্রতিকার সম্পর্কে। 


সূচিপত্র:

বড়দের ডায়রিয়া হলে করণীয় কি

ডায়রিয়া হওয়ার লক্ষণ ও উপসর্গ সমূহ

পানি শূন্যতা হওয়ার লক্ষণ সমূহ

যেসব কারণে ডায়রিয়া হয়

ডায়রিয়া হলে করণীয় সমূহ

ডায়রিয়া হলে যেসব খাবার খাওয়া উচিত

ডায়রিয়ার প্রতিরোধে করণীয় সমূহ

ডায়রিয়া হলে কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত


ডায়রিয়া হওয়ার লক্ষণ ও উপসর্গ সমূহ


ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানা এই দুটি শব্দকে আমরা সাধারণত একই অর্থ ব্যবহার করে থাকি। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় পায়খানা নরম বা পাতলা হওয়া মানেই যে আপনার ডায়রিয়া হয়েছে এরকম ধারণাটি সঠিক নয়। সারাদিনের ভিতরে তিন বা তার বেশি নরম বা পাতলা পায়খানা হলে তাকেই সাধারণভাবে ডায়রিয়া বলা হয়ে থাকে। এছাড়া যদি কারো স্বাভাবিকের তুলনায় ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হয় তাহলে তাকেও ডায়রিয়া হিসাবে ধরে নেওয়া যায়। ডায়রিয়া হওয়ার যেসব লক্ষণ দেখা যায়  তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :


  • হঠাৎ করে পায়খানা চাপ আসা 
  • যদি পায়খানা চাপ আসে তাহলে দ্রুত টয়লেটে যাওয়া কিংবা অপেক্ষা করতে না পারা। মোট কথা হল পায়খানা নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা। এমনকি দেখা যায় অনেক সময় পোশাকে পায়খানা লেগে যায়। 
  • তাছাড়া তলপেটে তীব্র ব্যথা এবং কামড় অনুভব করা 
  • অনেক সময় বমি বমি ভাব হওয়া। অনেকের ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব নাও হতে পারে। 
  • ডায়রিয়া হওয়ার ফলে শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া। 
  • আর যদি সংক্রমণের কারণে ডায়রিয়া হয় তাহলে আরো কিছু লক্ষণ থাকতে পারে যেমন: পায়খানা করার সময় তার সাথে রক্ত যাওয়া ,পায়খানার সাথে জ্বর বা ঠান্ডা লাগা ,এরকম হলে হালকা মাথাব্যথা করতেও পারে এবং বমি কিংবা বমি বমি ভাব হওয়া। 


পানি শূন্যতা হওয়ার লক্ষণ সমূহ


ডায়রিয়া হলে পায়খানা ও বমির পাশাপাশি মূত্র ও ঘামের সাথে সোডিয়াম ,ক্লোরাইড ,পটাশিয়াম এবং বাইকার্বনেট শরীর থেকে বের হয়ে যায়। আর এগুলো যথাযথভাবে পূরণ না হওয়ার কারণে আমাদের মাঝে পানি শূন্যতা দেখা যায়। পানি শূন্যতার উল্লেখযোগ্য লক্ষণসমূহ :

  • আপনার ঘন ঘন পিপাসা লাগতে পারে 
  • মুখ জিব্বা ও গলা শুকিয়ে আসতে পারে 
  • প্রস্রাবের পরিমাণ কম অথবা একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে 
  • প্রস্রাবের রং গাঢ় বর্ণ বিশিষ্ট হয় 
  • আপনি ক্লান্তি বোধ করতে পারেন 
  • আপনার চোখ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কোটরে ঢুকে যায় 
  • অনেক সময় বেশি শরীর দুর্বল হয়ে যায় ,দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস এবং নারী পালস  খুব দ্রুত হয়
  • ডায়রিয়া রোগী নিস্তেজ ও অসার হয়ে যায় 
  • এবং অনেক সময় পেট ফুলে যায় 
  •  যদি পানিশূন্যতার পরিমাণ বেশি হয় তাহলে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে 
  • শরীরের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া বা ত্বক কুচকে যাওয়া 
  • শরীরের চামড়া টেনে ছেড়ে দিলে যদি  কুঁচকে  থাকে তাহলে বুঝতে হবে রোগীর পানি শূন্যতা পরিমান অনেক বেশি। 
  • মাঝে মাঝে চোখে ঝাপসা দেখা। 


যেসব কারণে ডায়রিয়া হয়

সাধারণত ডায়রিয়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল :

  1. জীবাণু সংক্রমণিত হওয়ার ফলে ডায়রিয়া হতে পারে 
  2. দূষিত পানি  পান করার মাধ্যমেও ডায়রিয়া হতে পারে 
  3. ডায়রিয়া হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে দূষিত খাবার খাওয়া এবং দূষিত পানি  পান করা 
  4. তাছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বসবাস করলে কিংবা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলেও ডায়রিয়া হতে পারে 
  5. আমরা অনেক সময় বাহিরে ভ্রমণ করতে যাই , আর ভ্রমণে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে আমরা খাবার কিনে খাই ,যার ফলে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 


ডায়রিয়া হলে করণীয় সমূহ


  1. ডায়রিয়া হলে আমাদের সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে শরীর থেকে যে পরিমাণ লবণ ও পানি বেরিয়ে যাচ্ছে তা পূরণ করা। এজন্য রোগীকে বারবার খাবার স্যালাইন ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে। 
  2. ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী যে কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে তার কারণ বের করে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া
  3. রোগীর যতবার পাতলা পায়খানা বা বমি হবে ততবারই তাকে স্যালাইন খাওয়ান। 
  4. রোগীকে স্বাভাবিক ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে 
  5. যদি ডায়রিয়া আকার অনেক বেশি হয় তাহলে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। 


ডায়রিয়া হলে যেসব খাবার খাওয়া উচিত


  • ডায়রিয়া হলে আপনাকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। 
  • দিনে কমপক্ষে প্রথম অবস্থায় আট থেকে ১০ গ্লাস তরল খাবার খেতে হবে । 
  • প্রত্যেকবার টয়লেট থেকে আসার পর অবশ্যই পরিমাণমতো পানি পান করতে হবে উচ্চ কোটেশন যুক্ত খাবার গুলো বেশি করে খেতে হবে
  • তাছাড়া চামড়া ছাড়া মুরগি বা টার্কিও ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে অনেক সাহায্য করে। 
  • ডায়রিয়ার প্রতিরোধে করণীয় সমূহ
  • অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে 
  • বেশি পরিমাণে পানি ও লবণ গ্রহণ করা জরুরী
  • যদি গরম অনেক বেশি হয় এরকম পরিবেশে কাজ করা যাবে না। আর যদি করতেই হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছুক্ষণ পরপর ঠান্ডা পরিবেশে বিশ্রাম নিতে হবে। 
  • বদ্ধ পরিবেশে কাজ করা যাবে না। কাজ করার জায়গায় অবশ্যই পরিমাণ মতো আলো বাতাস চলাচল করতে পারে এরকম ব্যবস্থা নেওয়া 
  • নিজের পরিচ্ছন্নতা অর্থাৎ পায়খানা থেকে বের হয়ে বা খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া ,নখ কাটা, পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা, নিয়মিত গোসল করা ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে 
  • তৈলাক্ত ও পচা বাসি খাবার গ্রহণ পরিহার করতে হবে 
  • অস্বাস্থকর পরিবেশে খাবার গ্রহণ করা যাবে না 
  • অবশ্যই নিরাপদ পানি পান করতে হবে 
  • সুষম খাবারের বিকল্প নেই 
  • শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে 
  • আর যদি সম্ভব হয় তাহলে রোটা  ভাইরাসের ভ্যাকসিন দিতে হবে 
  • স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরী 
  • আর যদি ডায়রিয়া শুরু হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই খাবার স্যালাইন খাওয়া শুরু করতে হবে এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। 


ডায়রিয়া হলে কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত


আপনি যদি ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হন নিচের লক্ষণগুলো দেখামাত্রই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ নিতে হবে। লক্ষণ গুলো হল :


  1. পায়খানার সাথে রক্ত অথবা আঠালো মিউকাস যায় 
  2. যদি তীব্র পেট ব্যথা বা পেট কামড় থাকে 
  3. ডায়রিয়ার অবস্থা যদি দিন দিন অবনিত হয় 
  4. আপনার পানি শূন্যতা যদি পূরণ না হয় 
  5. ডায়রিয়া হওয়ার পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে যদি জ্বর থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। 

কেননা এই লক্ষণগুলো গুরুতর অবস্থা নির্দেশ করে, তাই ঘরোয়া চিকিৎসার পাশাপাশি অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করতে হবে। 



ডায়রিয়া রোগ থেকে বাঁচার জন্য আমাদের সর্বপ্রথম সবার অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। আমাদের সবাইকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। কোন জীবাণু যেন আমাদের পানির মাধ্যমে খাবার না আসে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং সেই জীবাণুযুক্ত খাবার বা পানি যেন আমরা মুখে না ঢোকে সে বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। এজন্য নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে এবং আমরা যে পানিটা গ্রহণ করব তা অবশ্যই বিশুদ্ধ করে গ্রহণ করব। খাবার আগে অবশ্যই ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। যদি আমরা বাহিরে যাই তাহলে অবশ্যই খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সাথে নিয়ে যাব অর্থাৎ নিরাপদ পানি নিশ্চিত করাটা অত্যন্ত জরুরি। বাসি, পচা খাবার এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। তাহলে আমরা ডায়রিয়া থেকে মুক্তি পাব। 

Post a Comment

0 Comments