Ticker

6/recent/ticker-posts

কিডনিতে পাথর হলে করণীয় সমূহ কি?



 কিডনিতে পাথর হলে করণীয় সমূহ কি?

ভূপৃষ্ঠে প্রাকৃতিক খনিজ উপাদানসমূহ নিয়ে যেমন নিয়মিত তৈরি হচ্ছে পাথর ,তেমনি  আমাদের মানব দেহের বিভিন্ন উপাদান ও খনিজ  দিয়ে শরীরের বেশ কয়েকটি অঙ্গে পাথর তৈরি হতে পারে।  কিডনির পাথর এটা আমাদের বর্তমান সমাজের খুব সাধারণ একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারী অথবা পুরুষ যে কেউ এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


শরীরের এই পাথর ক্ষতিগ্রস্ত করছে আমাদের শরীরের কিডনিকে।  আর যখন অনেক দেরিতে ধরা পড়ে তখন অনেকেই মৃত্যুর সন্নিকটে পৌঁছে যায়। আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছু অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণ করার ফলে নিজেরাই আমাদের অজান্তে এই রোগ শরীরে বাঁধিয়ে নেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অস্বাস্থ্যকর খাবার ,অনিয়মিত ঘুম এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভাবে অনেক সময় আমাদের শরীরের জটিল রোগের সৃষ্টি করে।


কিডনিতে পাথর এই রোগে আমাদের চারপাশে কেউ না কেউ  ভুক্তভোগী। যদি কিডনিতে পাথর এই রোগের সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না করা হয় তাহলে কিডনির ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে ওঠে।


সূচিপত্র :

  • কিডনিতে পাথর হলে করণীয়সমূহ কি?
  • কিডনিতে পাথর কেন হয়
  • কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণসমূহ
  • কিডনিতে পাথর হলে করণীয়
  • কিডনির পাথরের চিকিৎসা


কিডনিতে পাথর কেন হয়?

বর্তমান বিশ্বে কিডনিতে পাথর তৈরি হওয়ার কারণ জানার জন্য অনেক গবেষণা হয়েছে এবং অনেক গবেষণা এখনো অব্দি চলছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের ধারণা করা হয় প্রস্রাবে দ্রব অত্তদিক  ঘন হওয়ার ফলে পাথরের কনা বা ক্রিস্টাল তৈরি হয়।  এ অবস্থা তৈরি হওয়ার কারণ হচ্ছে শরীর থেকে যদি প্রতিনিয়ত পানি কমে যায় অর্থাৎ ডিহাইড্রেশন হয়। 


সাধারণত বলা হয়ে থাকে পাথর তৈরীর প্রধান কারণ হচ্ছে ডিহাইড্রেশন। আমরা অনেকেই গরমে আবহাওয়ায়  কাজ করে থাকি  এবং অত্যধিক গরম আবহাওয়া কাজ করার পরেও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করি না। যার ফলে শরীরে পানির পরিমাণ কমে গিয়ে পাথর তৈরির আশঙ্কা অনেক বেশি। তাই যে সকল দেশের মরুভূমি অথবা মধ্যপ্রাচ্যের গরম দেশগুলোতে এমনকি আমাদের এই উপমহাদেশের কিছু কিছু স্থানে প্রচুর পরিমাণে কিডনি রোগী দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া কিডনিতে পাথর  হওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে প্রস্রাবে বারবার সংক্রমণ হওয়া। আমাদের শরীরের কিছু খনিজ উপাদান রয়েছে যেগুলো পাথর তৈরিতে বাধা দেয়। আর সেই উপাদান গুলো যদি কমে যায় তাহলে কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। 


আবার মানবদেহে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলোর পরিমাণ যদি আমাদের প্রস্রাবে বেড়ে যায় তাহলেও কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি পরিমাণে বেড়ে যায়।  যেমন প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম ও ইউরিক এসিড বেশি পরিমাণে বের হয়ে যাওয়া। যেকোনো কারণে যদি মূত্র প্রবাহ ব্রাধাগ্রস্ত হয় এবং মূত্র তন্ত্রের জন্মগত কোন সমস্যা থাকলেও পাথর তৈরি হতে পারে। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের মেটাবলিক কারণ যেমন পেরাথাইরয়েড গ্রন্থির অত্যধিক কার্যকারিতা অথবা টিউমার রক্তে ও প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বাড়িয়ে দেয়। আর এই ক্ষেত্রে দুই দিকের কিডনিতেই পাথর তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে জন্মগত মেটাবলিক কারণ যেমন সিসটিনিউরিয়া এবং জ্যানথিনিউরিয়া কিডনিতে পাথর হওয়ার জন্য অন্যতম কারণ। সাধারণত পাথর কিডনিতে তৈরি হওয়ার পর প্রস্রাবের নালী বা মূত্রথলিতে নেমে আসে।


আরো পড়ুন কিডনি রোগীর খাদ্য তালিকা


কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণসমূহ 


কিডনির পাথর সাধারণত খনিজ ও এসিড লবণ ধারা তৈরি হয়ে থাকে। কিডনি রোগের একটি লক্ষণ হল অনেক ব্যথা ও অস্বস্তি হওয়া।  তবে এর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হল পিঠের নিচে বা পেটে তীব্রতর ব্যথা অনুভব করা। আর এই ব্যথা আমাদের শরীরে হঠাৎ করে আসে এবং প্রায়ই যন্ত্রণাদায়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া কিডনিতে পাথর হওয়ার আরো অনেক লক্ষণ রয়েছে। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক কিডনি রোগের বাকি লক্ষণ সমূহ গুলোকে। 

  1. তলপেটে নিচে এবং কুঁচকিতে অসহনীয় ব্যথা অনুভব হওয়া 
  2. কখনো কখনো বমি বমি ভাব কিংবা বমি হওয়া 
  3. পাঁজরের নিচের অংশে অসহ্য ব্যাথা হওয়া এবং এই ব্যথার তীব্রতা মাঝে মাঝেই উঠানামা করা 
  4. প্রস্রাব করার সময় ব্যথা হওয়া এবং লাল ,কালচে লাল কিংবা বাদামী ধরনের প্রস্রাব নির্গত হওয়া 
  5. ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া অর্থাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণে প্রস্রাব হওয়া 
  6. দুর্গন্ধ ও ফেনা যুক্ত প্রস্তাব হওয়া
  7. কেঁপে কেঁপে জ্বর আসা


কিডনিতে পাথর হলে করণীয়


কিডনিতে পাথর হওয়ার পর এর চিকিৎসা ও উপসর্গগুলো উপশম করার জন্য আপনি বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে পারেন।  আপনার চিকিৎসক হয়তো আপনাকে নিচের কাজগুলো সুপারিশ করতে পারে। যেমন:- 

  • প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা ,
  • কিডনিতে পাথর হওয়ার ফলে যে ব্যথা সে ব্যথা কমানোর ঔষধ সেবন করা ,
  • একটি হিটিংপ্যাড  অথবা গরম স্নান করা
  • এবং সাথে পাথরকে পাস করানোর চেষ্টা করা। 

তবে আপনার যদি কিডনিতে পাথর হয়ে থাকে তাহলে প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটি উপায়। এটি আপনার সিস্টেম থেকে পাথরকে ফ্ল্যাশ করতে অনেক বেশি সাহায্য করে থাকে। তাছাড়া পাথরকে দ্রবীভূত করার জন্যে লেবুর রস পান করতে পারেন।


কিডনির পাথরের চিকিৎসা

 

সাধারণত চিকিৎসকরা দুটি উপসর্গ দেখে দুইটি সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে। একটি হল কিডনির অবস্থানে ব্যথা এবং অন্যটি হলো রক্তবর্ণের সাথে প্রস্রাব হওয়া। আর এই দুটির কারণ হিসেবে সাধারণত ডক্টর গণ কিডনির ইনফেকশন ও অন্যটি কিডনিতে পাথর হিসেবে অভিহিত করেন। তাই সঠিক নিশ্চয়তার  জন্য এক্সরে আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং প্রস্তাবের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার পরেই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।


কখনো কখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করার মাধ্যমে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায় তাহলে অস্ত্রপ্রচারই হচ্ছে এর একমাত্র উপায়। আমরা অনেকেই ধারণা করে থাকি কিডনিতে পাথর হলেই অপারেশন করতে হবে। এটা সঠিক নয়।

পাথরের অবস্থান ,আকার, ধরন,  কার্যকারিতা এবং প্রস্রাবের পথে প্রতিবন্ধকতার উপর এটার  চিকিৎসা নির্ভর করে থাকে। কিডনিতে পাথর এই সমস্যাটি যদি ছোট অবস্থায় ধরা পড়ে তাহলে সাধারণত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথা নাশক ওষুধ সেবন এর মাধ্যমে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি গ্রহণ করার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সহজ।  কারণ সাধারণত ছোট আকৃতির পাথরগুলো প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যেতে সক্ষম। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিডনির পাথর অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার বা যন্ত্রের ব্যবহার হয়ে থাকে। 

আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রচার না করেও শুধুমাত্র ওষুধ সেবন করার মাধ্যমে পাথর বের করা কিংবা পাথর যেন আর বড় না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় অস্ত্রপ্রচার  করার পরেও আবার পাথর হওয়া সম্ভাবনা থাকে। সেই ক্ষেত্রে যদি দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ গ্রহণ করা হয় তাহলে এর সুফল পাওয়া যায়।


তবে আমাদের একটি কথা বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন যে ,যদি দৈনিক আট  থেকে দশ গ্লাস বিশুদ্ধ  পানি পান করা হয় তাহলে শরীর থেকে উপযুক্ত পরিমাণে বজ্র পদার্থ প্রস্তাবের সাথে বের হয়ে যেতে সক্ষম এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি এবং জটিলতাকে অনেকাংশেই কমিয়ে আনতে পারে। 


তবে কিডনির পাথর অপসারণের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে পিসিএনএল। এই পদ্ধতিতে সাধারণত ছোট একটি ছিদ্রের মাধ্যমে পিঠের দিক দিয়ে যেকোনো আকার ও প্রকৃতির পাথর ভেঙে ১০০ শতাংশ বের করা সম্ভব হয়ে থাকে। উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি আমাদের দেশেও কিডনির পাথর বের বা অপসারণ করার জন্য এসব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এখন আর পেট কেটে বা সার্জারি করে কিডনি অপসারণ হয় না বললেই চলে। এখন আর রোগীকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন পরে না এবং ২ দিনের মাজেই রোগী বাসায় চলে যেতে পারে।



Post a Comment

0 Comments