Ticker

6/recent/ticker-posts

নবজাতকের পাতলা পায়খানা হলে করণীয়


 

নবজাতকের পাতলা পায়খানা হলে করণীয়

প্রিয় পাঠকগন, আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমাদের জীবনে নবজাতক বা শিশুর সুস্থতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার।  একজন নবজাতক বা শিশু যখন অসুস্থ হয় তখন তাদের সমস্যার কথা কাউকে বলতে পারেনা। ফলে প্রতিটা অভিবাভক অনেক বেশি উদ্বিগ্ন থাকে।  চলুন আজকে আমরা শিশুদের অনেক সমস্যার মধ্যে শিশুদের পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হলে এর প্রতিরোধ ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। 


সূচিপত্র: 

নবজাতকের পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হয়েছে কিভাবে বুঝবেন ?

যেসব লক্ষণ দেখে বুঝা যাবে শিশুর পানি শূন্যতা হয়েছে

যেসব কারণে নবজাতকের ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হয়

নবজাতক শিশুর পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হলে করণীয় সমূহ

 

নবজাতকের পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হয়েছে কিভাবে বুঝবেন ?


আসলে আপনার শিশুর কোনটা স্বাভাবিক বিষয় আর কোনটা অস্বাভাবিক তা আপনাকে বুঝতে  হবে। নবজাতক শিশুরা সাধারণত বারবার পায়খানা করে সে ক্ষেত্রে দেখা যায় সে যতবার দুধ খায় ঠিক ততবারই পায়খানা করতে পারে এবং প্রায় সময়ই তাদের পায়খানায় বেশ নরম হয়ে থাকে। বিশেষ করে যেসব বাচ্চা বুকের দুধ খায় তাদের পায়খানা তরল হওয়া সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাছাড়া একজন নবজাতকের মা হিসেবে তিনি কি খাচ্ছেন তার উপরেও নির্ভর করে সেই নবজাতকের পায়খানার গতিপ্রকৃতি। 


আপনার নবজাতক শিশুটি যখন একটু বড় হয় তখন সে ধীরে ধীরে বাহিরের খাবার কিংবা কিছুটা শক্ত খাবার খেতে শুরু করে। তখন শক্ত খাবার খাওয়ার ফলে আপনার শিশুর পায়খানা শক্ত হতে শুরু করবে। তবে যেই ঘটনায় ঘটুক না কেন বাচ্চার খাদ্যভাসের উপর নির্ভর করে নবজাতক পায়খানা কেমন হবে। 


আর উপরোক্ত এই বিষয়গুলোর কারণেই আপনার বাচ্চার ডায়রিয়া হয়েছে কিনা তা বুঝতে খুব কঠিন হয়ে পড়ে। মোট কথা হলো আপনার বাচ্চার পায়খানা নরম হওয়া মানেই কিন্তু তার ডায়রিয়া হয়নি। তাই বাচ্চার পায়খানা নরম হলে এই বিষয় নিয়ে চিন্তিত হওয়ার তেমন কিছু নেই। তবে যদি হঠাৎ এমন পরিবর্তন হয় যে আপনার বাচ্চা স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ পায়খানা করে তার তুলনায় বেশি পায়খানা করছে এবং প্রতিবারের পায়খানা তরল পানির মত হয় তবে সম্ভবত এটা ডায়রিয়া হতে পারে। এছাড়াও আপনার নবজাতক  শিশুর ডায়রিয়া হলে জ্বরের সাথে আপনার বাচ্চার অতিরিক্ত কান্নাকাটির বিষয়টি তো থাকবেই, সাথে শরীরের রেশ ইত্যাদি ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। 


তবে বেশিরভাগ সময়ই আমাদের দেশের মায়েরা বুঝতে পারেন যে তার শিশুর ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হয়েছে কিনা ?কেননা আমাদের দেশের মায়েরা তাদের সন্তানের ব্যাপারে অনেক বেশি সতর্ক ও যত্নবান। এছাড়াও বর্তমান সমাজে নতুন অভিভাবকরা আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন হয়ে থাকে। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডায়রিয়া মারাত্মক আকার ধারণ করার পূর্বেই তা বুঝে ফেলার কারণে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে দ্রুত ভালো হয়ে যায়। 


ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত শিশুর জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে পানি শূন্যতা। কেননা ডায়রিয়ার কারণে সৃষ্ট পানি শূন্যতা খুবই মারাত্মক এমনকি এটা জীবনঘাতী  হয়ে থাকে। তাই অবশ্যই খেয়াল রাখুন ,ডায়রিয়া হোক বা না হোক বাচ্চা যেন সবসময় পর্যাপ্ত পানি অথবা পানি  জাতীয় যেসব খাবার রয়েছে সেগুলো গ্রহণ করে। 



যেসব লক্ষণ দেখে বুঝা যাবে শিশুর পানি শূন্যতা হয়েছে


শিশুর যখন পানি শূন্যতা হয় তখন তার মধ্যে অস্থিরতার ভাব দেখা যায়। সাথে খিটখিটে মেজাজ অথবা শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়ে। নবজাতকের চোখ ভিতরে ঢুকে যায়। এছাড়া আপনার শিশু অনেক বেশি তৃষ্ণার্ত কিংবা একেবারেই কিছু খেতে চাইবে না। সেই সাথে শিশুর চামড়া ঢিলে হয়ে যেতে পারে। যদি আপনার নবজাতক শিশুর মধ্যে পানি শূন্যতার লক্ষণ থাকে তাহলে অবশ্যই শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে। কিংবা যদি সম্ভব হয় তাহলে বাড়িতে চিকিৎসা নিতে হবে। 



যেসব কারণে নবজাতকের ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হয়


আপনার নবজাতক শিশুর ডায়রিয়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ডায়রিয়া ,ভাইরাসের ফলে ডায়রিয়া, ছত্রাক এর কারণে ডায়রিয়া ,কৃমি  জনিত ডায়রিয়া ,প্রোটোজোয়া জনিত ডায়রিয়া অথবা অনেক সময় যেমন যেকোনো ধরনের ঔষধের রিএকশন এর ফলে ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া গঠিত ডায়রিয়া অর্থাৎ ফুড পয়জন সম্পর্কিত ডায়রিয়া বেশি হয়ে থাকে। 



নবজাতক শিশুর পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হলে করণীয় সমূহ


যখন একজন নবজাতক শিশু পাতলা পায়খানা কিংবা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় তখন শিশুটি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। আর অধিক মাত্রার পাতলা পায়খানার কারণে শিশুর শরীরে পানি শূন্যতা দেখা যায়। তাই শিশুর ডায়রিয়া হলে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য। 


আপনার শিশুকে ডায়রিয়া থেকে নিরাময়ের জন্য খাবার স্যালাইন অনেক বেশি ভূমিকা পালন করে থাকে। আপনি ইচ্ছে করলে এটি বাসায় তৈরি করে নিতে পারেন।  আর বাসায় খাবার স্যালাইন তৈরি করার জন্য এক লিটার পানি ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে এবং সেটা ঠান্ডা করে নিতে হবে। তারপর সেই পানিতে ছয় চা চামচ চিনি ও হাফ চা চামচ লবণ দিয়ে মিক্সড করে নিতে হবে। এটা সম্পূর্ণ মিশে যাওয়ার পর শিশুকে খাওয়াতে হবে। এছাড়াও বাজারে অনেক ওষুধের দোকানেই শিশুর জন্য খাবার স্যালাইন পাওয়া যায় তা থেকে সংগ্রহ করে নিতে পারেন।


আপনার শিশুর পাতলা পায়খানা হলে তাকে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি ডাবের পানিও খাওয়াতে পারেন। কেননা ডাবের পানিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর উপকারিতা এবং এই ডাবের পানি আপনার শিশুকে পাতলা পায়খানা থেকে মুক্তি দিতে পারে। কেননা এই ডাবের পানি মানব দেহ থেকে বেরিয়ে যাওয়া পানি শূন্যতা পূরণ করতে অনেক বেশি সাহায্য করে। 


যদি আপনার বাচ্চার বয়স ৬ মাসের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে তাহলে আপনি আপনার শিশুকে বুকের দুধের পাশাপাশি তাকে অল্প অল্প করে  ফুটিয়ে রাখা ঠান্ডা পানি খাওয়াতে পারেন। যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রতি ঘন্টায় তাকে কয়েকবার চুমুক দিয়ে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন খাওয়ানোর যেতে পারে। ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন হলো এক ধরণের পাউডার ,যা আপনি ১ লিটার ফুটানো ঠান্ডা পানিতে মিক্সড করে নিতে পারেন। 


একটি শিশুর যখন পাতলা পায়খানা হয় তখন তার শরীরের পটাশিয়াম হারিয়ে ফেলে। তাই আপনার শিশুর পাতলা পায়খানা হলে তাকে কলা খাওয়াতে পারেন। কারণ আমরা জানি কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন এ ছাড়াও অনেক ধরনের পুষ্টিগুণ। তাই কলা খাওয়ানোর ফলে আপনার শিশু শারীরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে। 


যদি আপনার শিশু ছয় মাসের বেশি হয়ে থাকে তাহলে তাকে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবারগুলো খাওয়াতে হবে। আমাদের দেশে অনেক পরিবারের অভিভাবক রাই তাদের শিশুকে ডায়রিয়া হলে মাছ ,মাংস ,ডাল, কলা, শাকসবজি ইত্যাদি খেতে দিতে চায় না। তারা সেসময় শুধুমাত্র চালের গুড়া, বার্লি বা জাউভাত খেতে দেয়। আমাদের মনে রাখতে হবে অসুস্থ অবস্থায় যদি শিশুকে স্বাভাবিক খাবার না খাওয়ানো হয় তাহলে পরবর্তীতে শিশু অনেক বেশি অপুষ্টি দেখা দিতে পারে। 


শিশুর খাবারের মধ্যে আপনি কাঁচকলা সেদ্ধ করে নরম ভাতের সাথে অথবা খিচুড়ির সঙ্গে দিতে পারেন। আর প্রতিদিনের খাবারটা প্রতিদিনই তৈরি করে নিতে হবে। সারাদিন কমপক্ষে ছয়বার অথবা তিন চার ঘন্টা পর পর আপনার শিশুকে খাওয়াতে পারেন। অল্প পরিমাণ খাওয়ালে শিশুর পক্ষে খাবার হজম করা সহজ হবে।  তাকে কখনোই চিনি মেশানো ফলের রস বা চিনিসহ পানীয় দেওয়া যাবে না। তাতে করে তার পেটের গোলমাল আরো বেশি বেড়ে যেতে পারে। 



শিশুর পাতলা পায়খানা যেন না হতে পারে সেজন্য আমাদের অবশ্যই সবাইকে অনেক সতর্ক থাকতে হবে। এ কারণে সবাইকে ভাল মত হাত দোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, শিশু এবং তার মায়ের নিয়মিত নখ কাটতে হবে ,প্রতিদিন গোসল করা এবং বাচ্চাকে দুধ দেওয়ার আগে অবশ্যই স্তন  ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া। জন্মের  পর থেকে ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানোই উত্তম। কারণ এই বুকের দুধ জীবাণুমুক্ত এবং শিশুদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে অনেক সহায়তা করে থাকে। 


Post a Comment

0 Comments