Ticker

6/recent/ticker-posts

কিডনিতে পানি জমলে করণীয়



 কিডনিতে পানি জমলে করণীয়

কিডনি বা মূত্রনালী হলো মানুষের শরীরের প্রাথমিক বা মূল্যবান অঙ্গ, যা মূত্র উৎপাদন এবং শরীর থেকে অপসারণের কাজ করে থাকে । কিডনি কাজ করার  ক্ষমতা হারিয়ে ফেললে  বা অন্যান্য কারণে কিডনির কাজ সঠিকভাবে করতে অসমর্থ হলে কিডনিতে পানি জমে যেতে পারে। এই সময়ে কিছু প্রাথমিক করণীয় আমাদের কিডনিকে সুস্থ রাখতে পারে।


সূচিপত্র:

  • কিডনিতে পানি জমলে করণীয়
  • যেসব কারণে কিডনিতে পানি জমে
  • কিডনিতে পানি জমার পর করণীয় সমূহ
  • কিডনিতে পানি জমলে ঘরোয়া চিকিৎসা সমূহ
  • কিডনিকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম কতটা গুরুত্বপূর্ণ
  • কিডনি কে সুস্থ রাখার জন্য পানি পান কেন জরুরী


যেসব কারণে কিডনিতে পানি জমে 


কিডনিতে পানি জমার বেশকয়েকটি  কারণের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ নিচে আলোচনা করা হলো :

অল্প পানি পান করা: যদি আপনি প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে পানি পান না করে থাকেন, তবে কিডনির পরিষ্কারক ক্রিয়াকলাপ ঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ  হতে পারে। এটি কিডনির স্বাভাবিক ফাংশন আটকানোর একটি প্রধান কারণ বলা যেতে  পারে।

কিডনির সমস্যা: কিডনির বিভিন্ন ধরনের রোগ এবং সমস্যা থাকতে পারে, যা কিডনির পরিষ্কারক ক্রিয়াকলাপকে  প্রভাবিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কিডনি স্টোন, কিডনি ইনফেকশন, কিডনির অস্তিত্বের সমস্যা, কিডনি অসুখ, ইত্যাদি কারণে কিডনিতে পানি জমতে পারে।

মধ্যবর্তী রোগ : মধ্যবর্তী রোগ হলো এমন রোগ যার লক্ষণ বা প্রভাব সঙ্গে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে এবং ধীরে ধীরে গভীর হয়ে যায়। এই রোগের লক্ষণগুলি প্রাথমিক অবস্থায় খুব স্পষ্ট নয় বা সাধারণ সময়ে কয়েক বছরের জন্য গোপন থাকতে পারে।কিছু মধ্যবর্তী রোগ কিডনির পরিষ্কারক ক্রিয়াকলাপকে  প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে কিডনিতে পানি জমতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ হার্মোনের সমস্যা: কিছু হার্মোন কিডনির প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, যেমন এ্যান্টিডায়রেটিক হরমোন (ADH)। যদি এই হার্মোনে কোনো সমস্যা থাকে, তবে কিডনিতে পানি জমতে প্রভাবিত করতে পারে। 


কিডনিতে পানি জমার পর করণীয় সমূহ

  • ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা : যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে  এবং আপনার সমস্যা বা লক্ষণগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হবে । ডাক্তার আপনার সমস্যা নির্ধারণ করবেন এবং উপযুক্ত পরামর্শ প্রদান করবেন।
  • অধিক পরিমান পানি পান করুন: প্রথমে আপনি অধিক পানি পান করতে পারেন। ব্যক্তির দৈনিক পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করলে কিডনির পরিষ্কারক ক্রিয়াকলাপ সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে ।
  • প্রয়োজনে অধিক বিশ্রাম নিন: আপনার কিডনি সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করতে বিশেষ বিশ্রাম প্রয়োজন হয় । তাই প্রয়োজনমতো  নিয়মিত ঘুমানো এবং আরাম করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • পুষ্টিকর খাবার খাওয়া : স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খেতে চেষ্টা করুন। স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট নেয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার পুষ্টির  প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন।
  • ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন: যেকোনো নির্দেশিত কাজ  বা প্রেস্ক্রিপশন অনুসরণ করা অনেকবেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি সমস্যা বা পানি জমাতে যে কোনো প্রকার ঔষধ প্রয়োজন হলে, ডাক্তার এর কাছে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত।


কিডনিতে পানি জমলে ঘরোয়া চিকিৎসা সমূহ

কিডনিতে পানি জমলে  বা হাইড্রেশনের সময়ে ঘরোয়া চিকিৎসা বা সাধারণ প্রাথমিক যত্নের মাধ্যমে অনেক উপকার পেতে পারেন। চলুন এবার কিডনিতে পানিজমলে ঘরুয়া চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক :


  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা : দিনে কমপক্ষে 8 গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন । আপনি আপনার সাথে অথবা পাশে একটি পানির বোতল রাখতে পারেন যাতে প্রতিদিন সময় মতো  পানি পান করতে পারেন ।
  • পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করুন: পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য ফটকা পানি বা নীল পানি পান করা উচিত। এটি আপনার কিডনির পরিষ্কারক ক্রিয়াকলাপ সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করতে পারে।
  • স্বাস্থ্যকর আহার গ্রহণ করুন: পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ এতে করে  আপনি সুস্থ থাকবেন এবং আপনার কিডনি ভাল ভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিক খাবার যেমন ফল, সবজি,  ও পুষ্টিকর প্রোটিনের সোর্স যেমন মাছ, মাংস ও ডাল খান। সবজি খাওয়ার ক্ষেত্রে  যেমন মিষ্টি আলু, গাজর, ফুলকপি ও পালং শাক এবং অন্যান্য সবজি খেতে পারেন ।
  • পুষ্টিকর সাপ্লিমেন্ট নিন: কিছু সময়ে আপনি ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে পুষ্টিকর সাপ্লিমেন্ট নেয়ার মাধ্যমে আপনার পুষ্টিকর প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন। এটি কিডনির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করতে পারে।
  • নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম : নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম ও ব্যায়াম করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে আপনি  সুস্থ থাকবেন  এবং কিডনি সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন কিডনিতে পাথর হলে করণীয় সমূহ কি?


কিডনিকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম কতটা গুরুত্বপূর্ণ

কিডনি সুস্থ রাখতে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক ব্যায়াম কিডনির স্বাভাবিক ফাংশন বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং কিডনির সার্বিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। এটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা নিম্নলিখিত:


রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে: নিয়মিত ব্যায়াম করা কিডনির সার্কুলেশন বৃদ্ধি করে এবং রক্তের প্রয়োজনীয় পানি পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এটি রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে এবং এটি হাইপারটেনশন (উচ্চ রক্তচাপ) সম্পর্কে জনপ্রিয় একটি অনুশীলন বিধি।


কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে: নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম কিডনির ক্ষমতা স্থায়ী রাখতে সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি বা বেড়ে চলা কম করে, যা কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।


ওজন নিয়ন্ত্রণ করে: শারীরিক ব্যায়াম বৃদ্ধি করার মাধ্যমে  ওজন নিয়ন্ত্রণ করা যায় , যা অতিরিক্ত ওজনের সাথে সম্পর্কিত কিডনি সমস্যা এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।


ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ করে: ব্যায়াম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, যা কিডনির সুস্থ রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস এবং কিডনির সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।


স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে: ব্যায়াম স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করতে পারে, যা কিডনি স্বাস্থ্য এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।


কিডনি কে সুস্থ রাখার জন্য পানি পান কেন জরুরী

কিডনি সুস্থ রাখার জন্য পানি পান খুবই জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ। এটির কিছু কারণ নিম্নলিখিত:

  1. কিডনির পরিষ্কারক ক্রিয়াকলাপ: পানি কিডনির পরিষ্কারক ক্রিয়াকলাপ সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। কিডনির মাধ্যমে  শরীরের যত বজ্র পদার্থ রয়েছে তা  সরিয়ে দেয় এবং মূত্রের মাধ্যমে বিষাক্ত পদার্থ বিসর্জন করে। এই প্রক্রিয়া কিডনির স্বাভাবিক পরিষ্কারক ক্রিয়া বজায় রাখে এবং মডিউলেশন স্তর স্থায়ী রাখে।
  2. কিডনির ফাংশন সঠিকভাবে চালিত রাখা: পানি উপাদান সমূহ  কিডনির ক্ষমতা স্থায়ী রাখতে সাহায্য করে। যদি শরীরে প্রতিদিনের প্রয়োজন মতো পানি পান না করা হয় , তবে কিডনি সঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ  হতে পারে এবং কিডনির ফাংশন এ ব্যাঘাত ঘটতে  পারে।
  3. কিডনি স্বাস্থ্যকর রাখতে ব্যক্তির সার্বিক স্বাস্থ্য উন্নত করা: প্রাকৃতিক খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম এবং শরীরের সঠিক  শুদ্ধি করার মাধ্যমে ব্যক্তির সার্বিক স্বাস্থ্য উন্নত করা গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকারের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন কিডনির কার্যক্রম সঠিকভাবে চালিত রাখতে সাহায্য করে এবং কিডনির স্বাভাবিক ফাংশন বজায় রাখে।
  4. বিশেষ অবস্থায় পানি পান করা: যখন আপনি অতিরিক্ত গরমে  বা কাজে বা শারীরিক ব্যায়ামে প্রচুর ঘাম শরীর থেকে বের হয়ে যায় , এই  অবস্থায় পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে আপনি পানি পান  বৃদ্ধি করতে পারেন এবং প্রয়োজনে অধিক পানি পান করতে পারেন।
  5. কিছু ঔষধের পারিভাষিক প্রভাব: কিছু ঔষধ কিডনির প্রক্রিয়া প্রভাবিত করতে পারে এবং পানি সংক্রমণ বা জমার কারণ হতে পারে।

মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, ব্যক্তির স্বাস্থ্য অবস্থা, কিডনির সামঞ্জস্যপূর্ণ ফাংশন এবং অন্যান্য সম্পর্কিত সাধারণ স্বাস্থ্য বিষয়ে ডাক্তারের পরামর্শ ও নির্দেশনা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো সমস্যার সম্মুখ হওয়ার ক্ষেত্রে, প্রথমেই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।


উপরে উল্লিখিত সব উপকারিতা গুলো সহজেই অর্জন করা সম্ভব না। তাই  সুস্থ রক্তচাপ, সুস্থ ওজন, সুস্থ কোলেস্টেরল  নিয়ন্ত্রণ এর জন্য প্রতিদিনের শারীরিক ব্যায়াম অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেইসাথে, কিডনির সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিনে পানির বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যকর আহার গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


এই সমস্যার সাথে মোকাবিলা করা বা পানি জমানোর সমস্যার সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য  সাধারণ কিছু প্রাথমিক সতর্কতা আপনাকে  সুস্থ রাখতে পারে । যদি সমস্যা বা লক্ষণগুলি দীর্ঘদিন থাকে বা গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন ।


মনে রাখতে হবে যে , উপরে উল্লেখিত পরামর্শগুলি শুধুমাত্র সাধারণ অবস্থা বা সামান্য কিডনি সমস্যার জন্য প্রয়োজন। যদি কোনো অস্বাভাবিক  কিডনি সমস্যা থাকে বা পানি জমার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয় , তবে অবশ্যয় একটি বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।



Post a Comment

0 Comments