Ticker

6/recent/ticker-posts

কিডনি ভালো রাখার ১০ টি উপায়



 কিডনি ভালো রাখার ১০ টি উপায়

কিডনি মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি  অঙ্গ। এই অমূল্য অঙ্গ ব্যক্তিদের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ও শরীরের সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য বজায় রাখতে মহান ভূমিকা পালন করে থাকে । কিডনির মৌলিক কাজ হলো শরীরের অবশিষ্ট বিষারণ, অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিগ্রস্ত উপাদান নিষ্কাশন এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন এবং নিউট্রিয়েন্ট সংরক্ষণ।


কিডনি সুস্থ রাখার উপায় সমূহ


কিডনি ভালো রাখার জন্য নিম্নলিখিত ১০টি উপায় মেনে চলা উচিত:


পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করা : পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করার মাধ্যমে কিডনির কাজকাম সমর্থন হয়ে থাকে, যা অবশিষ্ট বিষারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত উপাদান প্রস্তুত করে।পানিতে অবশিষ্ট বিষারণের রাসায়নিক পদার্থ বিশুদ্ধ করার মাধ্যমে কিডনির শুদ্ধি বৃদ্ধি হয়, যা কিডনির স্বাস্থ্য ভাল থাকায় সহায়ক।পানি পান করার মাধ্যমে পরিষ্কার পাচনায় সাহায্য হয়, যা পুষ্টি সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি কমিয়ে আনে।পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করার মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যা শরীরের উচ্চ তাপমাত্রা সমস্যার ঝুঁকি কমিয়ে আনে।


আরো পড়ুন কিডনিতে পানি জমলে করণীয়


লবন কম পরিমাণে খাওয়া:লবন কম পরিমাণে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রয়োজনীয় পদার্থ। এটি মুখ্যভাবে নাইট্রিয়েন্টগুলির সংরক্ষণ, রক্তচাপের নিয়ন্ত্রণ, সার্কুলেশনের সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজে সহায়ক হয়।একজন মানুষের দৈনিক ১ চামচ লবণের চাহিদা রয়েছে। এর বেশি খেলে কিডনির জন্যে অনেক ক্ষতিসাধন করে থাকে। তাই লবন খাওয়ার পরিমান কমিয়ে দিতে হবে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া:স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া কিডনির জন্য অত্যন্ত উপকারী। যেমন, উচ্চ প্রোটিন, উচ্চ সোডিয়াম, অধিক শর্করা এবং অতিরিক্ত চর্বির খাবার খাওয়া কিডনির স্বাস্থ্য প্রভাবিত করতে পারে। উচ্চ গুণমানের প্রোটিনের খাবার যেমন মাছ, মাংস, ডাল, ছাগল এবং ডেয়রী প্রোডাক্ট উপকারী।পুষ্টিকর শস্যগুলির খাওয়া সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তবে উচ্চ পোটাশিয়াম অন্তর্ভুক্ত খাবারের বিকল্প বেছে নেওয়া আরো বেশি  উপকারী।দুধ এবং দই উচ্চ গুণমানের প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামের উপকারিতা বিশেষজ্ঞের মতামত অনুসরণ করে সহায্যকারী হতে পারে।কিডনির স্বাস্থ্যকে বাড়ানোর জন্য সঠিক খাবার পরিবর্তনের জন্য সবসময় ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার স্বাস্থ্যের শর্ত এবং কিডনির সম্ভাব্য সমস্যা উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।

প্রাণিজ প্রোটিন খাওয়া থেকে বিরত থাকা: মাংস বা এই ধরনের যেসব প্রাণীজ প্রাণিজ আমিষ  রয়েছে এগুলো অতিরিক্ত খাওয়ার পরে কিডনির উপর চাপ পড়ে। পাশাপাশি চিপস, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজের খাবার এবং লবণ দিয়ে ভাজা বাদাম কিডনির জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। যেহেতু খাবারের তালিকায় অতিরিক্ত যেসব প্রোটিন রয়েছে এগুলো খাওয়ার ফলে কিডনির উপর অধিক চাপ পড়ে এবং কিডনির দুর্বল কোষ গুলো  ক্ষতি হওয়ার অনেক বেশি সম্ভাবনা থাকে তাই সব সময় প্রাণীজ প্রোটিন এড়িয়ে চলাই উত্তম। তবে এই ক্ষেত্রে আপনি ডাল জাতীয় যেসব প্রোটিন রয়েছে সেগুলো আপনার খাবার তালিকায় রাখতে পারেন।  পাশাপাশি মাছও খাওয়া যেতে পারে।


রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা : রক্তচাপ সাধারন পরিমাপের উপরে থাকলে কিডনিতে সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই বেড়ে যায়। রক্তচাপের স্বাভাবিক পরিমাপ হচ্ছে ১৩০/৮০।  তবে ১৪০/৯০ এর উপরে গেলেই কিডনির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।  তাই আপনার কিডনিকে সবসময় সুস্থ রাখার জন্য ১৩০/ ৮০ অথবা এর কম রাখার চেষ্টা করতে হবে। তবে রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম ও লবণ কম খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

ঔষধ খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা: কিডনির জন্য ঔষধ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কিছু পর্যাপ্ত প্রেসক্রিপশন মেডিসিন কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং কিডনির স্বাস্থ্য প্রভাবিত করতে পারে।কিছু অধিক প্রোটিন জনিত ঔষধ কিডনির স্বাস্থ্যে ক্ষতিকারক হতে পারে,  যেমন এন্টিব্যায়োটিক (গেন্টামাইসিন, ভ্যানকোমাইসিন), নিউট্রাসিউটিক (আসপিরিন, ইবুপ্রোফেন) এবং সিমুলেন্টেড রিলিজ ট্যাবলেট (ন্যাপ্রকসন)। তবে সুস্থ শস্য তেল এবং অলিয়োলিক অ্যাসিডের সূত্র হিসেবে তিলের তেল, জল বড়ই তেল, মসুর দালের তেল ইত্যাদি কিডনির জন্যে  উপকারী। আস্পরিন রক্তে প্রোস্টাগ্লান্ডিনের উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে, যা কিডনির কর্মক্ষমতাকে  প্রভাবিত করতে পারে। আস্পরিন নেওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। কিছু অস্বাস্থকর  ওষুধ কিডনির স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে, যেমন ইবুপ্রোফেন, এসপিরিন, এসএনএইডি বা অন্যান্য প্রোটিন জনিত ওষুধ।এই সমস্ত ঔষধের ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কিডনির স্বাস্থ্যের শর্ত এবং ব্যক্তিগত সম্ভাব্য প্রভাবগুলির উপর ভিত্তি করে ডাক্তার প্রেসক্রিপশন করবেন।

কোমল পানীয় পরিহার করা: কোমল পানীয় পরিহার করা কিডনির জন্য অত্যন্ত উপকারী। কিডনির স্বাস্থ্য উন্নত রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশেষভাবে নিম্ন রক্তচাপ, অতিরিক্ত প্রোটিন বা ক্যালসিয়াম স্তরে সমস্যা থাকলে উপকারী।সবজি সুপ একটি উত্তেজনামুক্ত ও পৌষ্টিক পানীয় বিকল্প। এটি কিডনির বৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্ত উপাদান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। এটি প্রোটিন সহ স্বাস্থ্যকর সবজি যেমন শাকসবজি, গাজর, বাঁধাকপি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করে থাকতে পারে।নারিকেল পানি কিডনির স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। এটি ক্ষুধার্ত বৃদ্ধি এবং প্রোটিন সহায্য করতে পারে, যেটি কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

ধূমপান ত্যাগ করা: কিডনি সুস্থ রাখতে ধূমপান ত্যাগ করতে হবে কারণ ধূমপানের ক্ষতিকারক প্রভাব কিডনির স্বাস্থ্যে ভালো নয়। ধূমপানের কারনে কিডনির সমস্যা উদ্ভব হতে পারে এবং ক্রিয়াশীলতা বা ফিল্ট্রেশন প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। ধূমপান রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারে, যা কিডনির স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। উচ্চ  রক্তচাপ কিডনির সমস্যা সৃষ্টি  করতে পারে এবং কিডনির কর্মক্ষমতা  কমিয়ে দিতে পারে। ধূমপান CKD এর ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। CKD হল ক্রোনিক কিডনি রোগ, যা প্রগতিশীল ও অবসাদী হয়। এটি কিডনির কর্মক্ষমতা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার কারণে প্রভাবিত হতে পারে। ধূমপান প্রোটিনুরিয়ার একটি মৌলিক কারণ হতে পারে, যা মূত্রে প্রোটিন হারানোর মাধ্যমে  কিডনিকে প্রভাবিত করে। এটি প্রোটিনের সংকোচন উৎপন্ন  করতে পারে, কিডনির স্বাস্থ্য বা কর্মক্ষমতা সমস্যা তৈরি করতে পারে। ধূমপান কিডনির উপাদান বিশুদ্ধি প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম ক্যালসিয়াম অক্সালেটের রূপে মূত্রে  চলে যায় , যা কিডনির স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে  কিডনির স্বাস্থ্য ও সামান্য কিডনির সমস্যাগুলির ঝুঁকি কমানোর সাথে সাথে সাধারণ স্বাস্থ্য উন্নত হয়ে যায়।

নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা : নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ কিডনির স্বাস্থ্য ও কার্যক্রম পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা মূলত ভালো। নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করা কিডনির স্বাস্থ্যের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে সাহায্য করে। এটি কিডনির কাজকাম ও ক্রিয়াশীলতা পরীক্ষা করে এবং যেখানেই প্রয়োজন সেখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসা বা পরিবর্তন প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ দেয়। নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করার মাধ্যমে  সমস্যার সনাক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে। কিডনির সমস্যা যখন শুরু হয়, তখন তাত্ক্ষণিক সমাধানের জন্য প্রস্তুতি করতে সাহায্য করে।  নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করার মাধ্যমে CKD (ক্রোনিক কিডনি রোগ) এর সনাক্তকরণ সম্ভব। এটি প্রাক্তন কিডনির স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব বা ক্রিয়াশীলতা বা কোন ক্ষতির সনাক্তকরণে সাহায্য করতে পারে।নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করার মাধ্যমে ঔষধের প্রভাব নিরুপন  করা যায় এবং এর মাধ্যমে কিডনির কার্যক্ষমতা  ও স্বাস্থ্যেগত  যে কোন অনুপ্রয়োজনীয় প্রভাব সনাক্ত করা যায়।

নিয়মিত ব্যায়াম করা: কিডনির স্বাস্থ্যকে উন্নত রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম করার মাধ্যমে কিডনির স্বাস্থ্য সম্পর্কে একাধিক উপকারিতা থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম করা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের  ক্রিয়াশীলতা বৃদ্ধি করে , যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এটি কিডনির স্বাস্থ্যের উন্নতির সাথে সাথে কিডনির সামান্য কর্মক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য সহায্য করে। ব্যায়াম করার মাধ্যমে সমৃদ্ধ ব্লাড সার্কুলেশন হয় যা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এটি কিডনির উপাদান বিশুদ্ধি এবং ক্রিয়াশীলতা বৃদ্ধি করতে  সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যায়াম করা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ডায়াবেটিস ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের স্বাভাবিক ইনসুলিনের উৎপাদন এ সাহায্য  করে, যা ডায়াবেটিস ব্যাধি পরিমাণ কমাতে  এবং ডায়াবেটিস এর পরিমাণ ও কমাতে সাহায্য করে থাকে ।নিয়মিত ব্যায়াম করা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায্য করে যা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ব্যায়াম করার মাধ্যমে স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট সমর্থন হয়, যা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টে কমিয়ে আনে , কিডনির কার্যক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য সাহায্য করে।


কিডনি মানব শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং মূত্রনালী সংক্রান্ত মৌলিক কাজ করে। কিডনির প্রধান কাজ হল শরীরের অপ্রয়োজনীয় উপাদান বিষারণ করা, যেমন অপসারণের মাধ্যমে বিষারণ করা , ব্লাডে অক্সিজেন এবং উপাদান পরিষ্কার করা, রক্তে প্রক্রিয়া বা ক্রিয়াশীলতা নিয়ন্ত্রণ করা,  প্রোটিন বিষারণ করা, এবং ব্লাডের সংখ্যাগত উপাদান নিয়ন্ত্রণ করা।এছাড়াও, কিডনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হরমোন উত্পাদন করে, যা শরীরের অন্যান্য অংশের কাজ প্রভাবিত করতে সাহায্য করে। এটি ক্যালসিয়াম, ফসফেট, সবল, রেড ব্লাড সেল, এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গের কাজে মুল্যবান পদার্থ নিয়ন্ত্রণ করে।তাই আমাদের শরীরের কিডনিতে সুস্থ রাখার জন্য সব সময় সতর্ক এবং কিডনির যত্ন নেওয়ার জন্য যা যা করা দরকার সেসব উপায় অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরী।

Post a Comment

0 Comments