Ticker

6/recent/ticker-posts

শিশুদের ডায়রিয়ার লক্ষণ ও ডায়রিয়া হলে যেসব খাবার খাওয়ানো উচিত


 

শিশুদের ডায়রিয়ার লক্ষণ ও ডায়রিয়া হলে যেসব খাবার খাওয়ানো উচিত

সাধারণত কম বয়সী শিশুদের প্রায় সময়ই ডায়রিয়া হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। এটা শিশুদের জটিল কোন রোগ নয় ,এটি একটি সাধারণ রোগ।  তবে সময় মত এর ব্যবস্থা না নিলে অনেক জটিল আকার ধারণ করে থাকে। সাধারণত ডায়রিয়া খাবারের বিষক্রিয়ার  মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে হয়ে থাকে। এছাড়াও শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার কারণেও শিশুর ডায়রিয়া হতে পারে।


একটি শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে অভিভাবকরা অনেক বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এই সময় তার শিশুকে কি খাওয়াতে হবে বা কি খাওয়ানো যাবে না সেই সম্পর্কে অনেকেই ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একটি শিশু ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়ার পর বিশেষ কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খাওয়ানোর ফলে এটা ভালো ফল মেলে। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক ডায়রিয়া হওয়ার কারণ এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে শিশুদেরকে যেসব খাবার খাওয়ানো যাবে। 


সূচিপত্র:

শিশুদের ডায়রিয়ার লক্ষণ ও ডায়রিয়া হলে যেসব খাবার খাওয়ানো উচিত

শিশুর ডায়রিয়া হওয়ার লক্ষণ বা উপসর্গ সমূহ

যেসব ডায়রিয়ার উপসর্গ দেখে বুঝবেন শিশুর অবস্থা বিপদজনক

শিশুর ডায়রিয়া হলে যেসব খাবার খাওয়ানো উচিত

শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে যেসব খাবার খাওয়ানো উচিত নয়

শিশুদের ডায়রিয়া নিরাময়ের ঘরোয়া উপায়


শিশুর ডায়রিয়া হওয়ার লক্ষণ বা উপসর্গ সমূহ


সদ্য জন্মগ্রহণকৃত ছোট শিশুরা সাধারণত কিছুক্ষণ পরপর নরম মলত্যাগ করে থাকে। তাই এই নরম এবং ঘন ঘন মলত্যাগ নিয়ে ভয় পাওয়ার তেমন কিছু নেই। তবে আপনার শিশু ডায়রিয়া হয়েছে কিনা তার কিছু বিশেষ লক্ষণ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :


  • শিশুরা এই সময় ঘন ঘন পাতলা পায়খানা করে থাকে 
  • তাদের পায়খানা অনেক বেশি দুর্গন্ধযুক্ত এবং প্রচুর মিউকাস থাকে 
  • পাতলা পায়খানার সাথে শিশুর জ্বর থাকতে পারে ,সেই সাথে তার ওজন কমে যেতে থাকবে। 
  • এই সময় শিশুর মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং অনেক বেশি কান্নাকাটি করে। 
  • শিশুর খাবারের প্রতি চাহিদা কমে যায়। 
  • ডায়রিয়া হওয়ার কারণে শিশুর মধ্যে পানি শূন্যতার লক্ষণ দেখা দেয়। 
  • সাথে শিশুর ঘন ঘন বমি হতে পারে। 


যেসব ডায়রিয়ার উপসর্গ দেখে বুঝবেন শিশুর অবস্থা বিপদজনক


যদি আপনার সন্তানের বয়স ৩ মাসের কম হয় এবং সেই সময় যদি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া যদি দেখেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার শিশুর অবস্থার কোন উন্নতি হচ্ছে না তাহলে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। চলুন এবার কিছু বিপদজনক উপসর্গ জেনে নেওয়া যাক। 

  • শিশুর অনেক বেশি পরিমাণ বমি হবে 
  • তীব্র পানি শূন্যতা দেখা যাবে 
  • শিশু ছয় ঘন্টার ভিতর একবারও প্রসব না করিলে 
  • শিশুর মাথার সামনের যে নরম অংশ রয়েছে তা যদি বসে যায় 
  • পায়খানার সাথে যদি রক্ত পড়ে 
  • শিশুর পেট যদি ফুলে যায় 
  • এবং যদি তার ২৪ ঘন্টার বেশি জ্বর থাকে। 

উপরের সবগুলো লক্ষণই বিপদের নির্দেশ করে তাই এসব লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই শিশুকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। 


শিশুর ডায়রিয়া হলে যেসব খাবার খাওয়ানো উচিত


কলা আমরা সবাই কলার  স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানি।  কলাতে অনেক বেশি ফাইবার থাকে এবং বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি ও খনিজ পদার্থ থাকে। যা শিশুর শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী। কলা শিশুদের পাশাপাশি বড়দের ক্ষেত্রেও অনেক বেশি কার্যকরী। 


নুডুলস বা পাস্তা আমরা অনেকেই নুডুলস বা পাস্তা খেতে  খুব পছন্দ করি।  বিষয়টা অবাক লাগলেও সত্যি যে নুডুলস বা পাস্তা খেলে ডায়রিয়ার সমস্যা খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। আর বিশেষ করে সুপি নুডুলস বা পাস্তা শিশু হজম ক্ষমতাকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। 


আপেল অনেক বিশেষজ্ঞরাই বলে থাকেন যে দৈনিক একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার তেমন একটা প্রয়োজন হয় না। আপেল আমাদের শারীরিক অনেক ধরনের সমস্যা সমাধান করে থাকে। ঠিক তেমনি ভাবে আপনার শিশু যদি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় তাহলে শিশুকে ডায়রিয়া থেকে নিরাময়ের জন্য আপেলের সুদি বা রস খাওয়াতে পারেনা।  আপেলের রস বা সুদি তাৎক্ষণিকভাবে শিশুর ডায়রিয়ার প্রতিরোধ করে। 


ভাত অনেকেই ভাতের কথা শুনে হয়তো অবাক হচ্ছেন। কিন্তু শিশুর ডায়রিয়া চিকিৎসায় ভাত খুবই দুর্দান্ত কাজ করে থাকে। ভাত  হলো ব্রেট ডায়েটের একটি অংশ। তাই আপনার শিশু যদি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় তাহলে আপনার শিশুকে নির্দ্বিধায় ভাত খাওয়াতে পারেন। 


ওটমিল একটা মানুষের ওজন কমানো থেকে শুরু করে শরীর সুস্থ রাখা পর্যন্ত ওটমিলের বিকল্প নেই।  ওটমিলে  থাকে অনেক বেশি পরিমাণ দ্রবণীয় ফাইবার।  যা ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুর ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে অনেক সহায়তা করে থাকে। 


ডাবের পানি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি নিঃসৃত  হয়ে যায়। যার কারণে পানি শূন্যতা দেখা যায়। আর এই পানি শূন্যতার অভাবের জন্য ডাবের পানি খুবই উপকারী। তাই আপনার শিশু যদি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় তাহলে আপনি আপনার শিশুকে ডাবের পানি খাওয়াতে পারেন। 


দই ডায়রিয়ার জন্য ঘরের পাতা দই অনেক বেশি উপকারী। তাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে আপনি আপনার শিশুকে ঘরে পাতানো দই খাওয়াতে পারেন। এতে শিশু অনেক উপকার পাবে। 


লেবু আপনার শিশুর ডায়রিয়া নিরাময়ের জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হল লেবু পানি। কেননা লেবু জীবাণু ও জ্বালার হাত থেকে মুক্তি দিয়ে থাকে। তাই সামান্য একটু পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে দিনে  চার চামচ আপনার ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুকে খাওয়াতে পারেন। 


আরো পড়ুন নবজাতকের পাতলা পায়খানা হলে করণীয়


শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে যেসব খাবার খাওয়ানো উচিত নয়


যে সমস্ত খাবার খাওয়ার ফলে এলার্জি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সেই খাবারগুলো পরিহার করা উচিত। যেমন গরুর দুধ এবং চিজ বাটার। যে সমস্ত খাবার খাওয়ার ফলে হজম হতে অনেক দেরি হয় এই সমস্ত খাবারও পরিহার করা উচিত যেমন ক্রিম বিস্কুট এবং পেস্টিং ইত্যাদি। আবার যে ফল ও সবজিতে শিশুর গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যেমন শাক ,ছোলা , ব্রকলি ইত্যাদি এবং বিভিন্ন ধরনের ফলের রস। 


শিশুদের ডায়রিয়া নিরাময়ের ঘরোয়া উপায়


ডায়রিয়া হচ্ছে বাচ্চাদের শরীর থেকে জীবাণু বের করে দেওয়ার একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। তবে যদি ডায়রিয়ার আকার অনেক বেশি হয় তাহলে দেরি না করে তা নিরাময়ের চেষ্টা করতে হবে। তবে সেই ক্ষেত্রে ছোট শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়াই উত্তম। ঘরোয়া কিছু উপায় অবলম্বন করে ডায়রিয়ার সমস্যা সহজেই সারিয়ে তোলা যায়। ডায়রিয়া হলে বড়দের তুলনায় শিশুদের শরীর থেকে বেশি পরিমাণ জল বের হয়ে যায়। যার ফলে তারা খুব তাড়াতাড়ি ডিহাইড্রেশন শিকার হয়ে পড়ে।


এই বয়সে শিশুদের স্তন পান বেশি করাতে হবে। কখনোই গরুর দুধ দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি শিশুকে অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া থেকে দূরে রাখতে হবে। কেননা অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার ফলে ডায়রিয়া আরো বেড়ে যায়। 


এই সময় মায়েদের নিজের খাবার-দাবারের প্রতি একটু নজর দিতে হবে। যদি মায়েরা সয়াবিন, দুধ, গম  ও চিনা বাদাম খায় তাহলে শিশুদের ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এই সময় কয়েকদিন এই ধরনের খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে। যার ফলে বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে। 


আরেকটি ঘরোয়া উপায় হচ্ছে যে উৎস খুঁজে বের করা অর্থাৎ কি কারনে শিশুদের ডায়রিয়া হচ্ছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে। ডায়রিয়া হওয়ার জন্য বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম হলো দাঁত ওঠা। সাধারণত মনে করা হয় যে দাঁত ওঠার সময় শিশুদের অধিক লালা ঝরে ,যার কারণে ডায়রিয়া হতে পারে। 


তাছাড়া বাচ্চাদের ব্যবহারিত জিনিসপত্র ,খেলনা ,জামা কাপড় ও যে কোন বস্তুকে সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কারণ বাচ্চারা যে কোন জিনিস হাতের কাছে পেলেই সেটা মুখে দিয়ে দেয়। আর যার ফলে সেই জিনিসে লেগে থাকা জীবাণু তাদের শরীরে সহজেই প্রবেশ করতে পারে। আর এই জীবাণু গুলো ডায়রিয়া হওয়ার জন্য অন্যতম কারণ। 


তবে বলা হয়ে থাকে শিশুর ডায়রিয়া প্রতিরোধের জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। শিশুকে কোলে  নেওয়ার আগে অবশ্যই হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। যেহেতু শিশুরা ঘন ঘন মুখে হাত দেয় তাই তাদের হাতও  পরিষ্কার রাখা জরুরি। সবচেয়ে মূল কথা হলো আমাদের সচেতনতাই পারে শিশুকে ডায়রিয়া থেকে নিরাপদ রাখতে। তাই আমরা অনেক বেশি সচেতন থাকবো নিজেদের  শিশুর  সুরক্ষা নিশ্চিত করব। 


Post a Comment

0 Comments