Ticker

6/recent/ticker-posts

ড্রাগন ফল এর স্বাস্থ্য উপকারিতা



 ড্রাগন ফল এর স্বাস্থ্য উপকারিতা

ড্রাগন ফল এটি হচ্ছে একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফল, যেটা বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বহু পূর্বে বাংলাদেশে এই ফলের তেমন কোন পরিচিতি ছিল না। বাজারে গেলে শোনা যেত এই ফলটি থাইল্যান্ড থেকে এসেছে। তবে বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ফলের চাষ ব্যাপক হারে হচ্ছে এবং আমাদের দেশের চাষ করার ড্রাগন ফল সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ড্রাগন ফল দেখতেও অনেকটা ভিন্ন ধর্মী এবং খেতেও কিছুটা ভিন্নধর্মী হওয়ায় অনেকের কাছেই এটা খুবই প্রিয় একটি ফল।

তবে গবেষণায় উঠে এসেছে যে শুধু স্বাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং এর অনেকগুলো স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। আজকে আমরা আমাদের এই ব্লগে ড্রাগন ফলের অসাধারণ পুষ্টিগুণ, এর উপকারিতা এবং এটা কিভাবে খেতে হয় তা নিয়ে আলোচনা করব। তাছাড়া এই ফল খাওয়ার ফলে আমাদের কোন সমস্যা হতে পারে কিনা সেই সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করব।

সূচিপত্র:

  • ড্রাগন ফল এর স্বাস্থ্য উপকারিতা 
  • ড্রাগন ফল কি
  • ড্রাগন ফল এর উপকারিতা কি
  • গর্ভাবস্থায় ড্রাগন ফলের উপকারিতা
  • বাচ্চাদের জন্য ড্রাগন ফলের উপকারিতা
  • ড্রাগন ফল কিভাবে খেতে হয়
  • ড্রাগন ফলে কি কি পুষ্টিগুণ রয়েছে
  • ড্রাগন ফল দিয়ে রূপচর্চা
  • ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি
  • ড্রাগন ফল এর অপকারিতা


ড্রাগন ফল কি


ড্রাগন ফলের গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম হল হাইলোসেরিয়াস ক্যাকটাস। এটা হনো লুলু রানি নামেও অনেক পরিচিত। ড্রাগন ফলের ক্যাকটাস এই গাছটি দক্ষিণ মেক্সিকো এবং মধ্য আমেরিকার স্থানীয়। তবে বর্তমান সময়ে এটি সারাবিশ বিশ্বে চাষ করা হচ্ছে। এই গাছের ফুল কেবলমাত্র রাতে ফোটে। এই ফলের পরিচিত জাত  হচ্ছে উজ্জ্বল লাল ত্বক সবুজ পাতা যা আঁশ যুক্ত।

এই ফলের নাম ড্রাগন হওয়ার কারণ হলো এটা দেখতে অনেকটা কাল্পনিক ড্রাগনের মতো। এই ফলের দুটি জাত বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বে অনেক বেশি পরিচিত।  একটি হচ্ছে ভিতরে সাদা এবং কালো বীজ এবং অন্যটি হলো ভেতরের লাল এবং কালো বীজ। এছাড়ও এর আরেকটি জাত রয়েছে যেটা বাংলাদেশ এ সচারচর দেখা যায় না। তবে এর চাষ ও খুব শিগ্রই শুরু হবে।


ড্রাগন ফল এর উপকারিতা কি

  • ড্রাগন ফলে রয়েছে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় এন্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের সুস্থতার জন্য অনেক অপরিহার্য। 
  • এই ফল ফাইবার সমৃদ্ধ এবং এটাতে কোন ধরনের ফ্যাট নেই। যার ফলে আপনি আপনার ডায়েট লিস্টে নিশ্চিন্তে ড্রাগন ফল রাখতে পারেন। 
  • ড্রাগন ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। এটা নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পায়। 
  • আমাদের শরীরের যেসব ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে তার সঠিক নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ড্রাগন ফল। 
  • আয়রনের উৎস বলা হয় রঙিন ড্রাগন ফলকে। রক্তশূন্যতার সমস্যা দূর করার জন্য প্রতিদিন ড্রাগন ফল খাওয়া হতে পারে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। 
  • আমাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর জন্য উপকারী ফল হচ্ছে ড্রাগন। 
  • আমাদের শরীরের উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য নিয়মিত ড্রাগন ফল খেতে পারেন। 
  • আমাদের শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমিয়ে থাকে ড্রাগন ফলটি। 
  • নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে দৃষ্টি  শক্তি ভালো রাখা ও ছানি পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়। 
  • তাছাড়া ড্রাগন ফলে যে কালো বীজ রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ওমেগা থ্রী ও  ওমেগা নাইন ফ্যাটি এসিড।  যা আমাদের হার্ড কে অনেক সুস্থ রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।


গর্ভাবস্থায় ড্রাগন ফলের উপকারিতা

আমাদের অনেক মায়েরায় রয়েছে যারা ড্রাগন ফল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে তেমন একটা জানেন না।  যার ফলে এই ফলটি সহজে কোথায় পাওয়া যায় এবং এই ফলের চাহিদা ও গর্ভের ভ্রূণের  জন্য পুষ্টি সমৃদ্ধ সম্পর্কে তারা অজ্ঞ। চলুন গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ড্রাগন ফলের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। 

  1. ড্রাগন ফলের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি ওয়ান  ,যা নারীদের ভ্রূণের  বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী, প্রোটিন শোষণকে অনেক বেশি উদ্দীপিত করে এবং কার্বোহাইড্রেট পোড়ানোর জন্য শক্তি তৈরিতে সহায়তা করে থাকে। 
  2. অন্য সকল ধরনের ফলের চেয়ে ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ অনেক ভালো। এতে রয়েছে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি ,ফাইটো কেমিক্যাল ,প্রোটিন এবং পটাশিয়াম। 
  3. গর্ভাবস্থায় অনেক সময়ই মহিলারা কোষ্ঠকাঠিন্যের মত পাচতন্ত্রের সমস্যায় ভুগে থাকেন। আর এই সমস্যা দূর করার জন্য আপনাকে সর্বোচ্চ পরিমাণে ফাইবার সমৃদ্ধ ফল খাওয়া জরুরি। আর ফাইবার সমৃদ্ধ ফলের মধ্যে অন্যতম ফল হচ্ছে ড্রাগন ফল।  কারণ ড্রাগন ফলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অনেক বেশি উপযুক্ত। 
  4. ড্রাগন ফলের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট ,আর এইসব কার্বোহাইড্রেট মাতৃ স্বাস্থ্য এবং শিশু বৃদ্ধিতে অনেক বেশি সহায়তা করে থাকে। গর্ভাবস্থায় কার্বোহাইড্রেট এর প্রয়োজনীয়তা ও অনেক বেশি বাড়িয়ে থাকে ড্রাগন ফল। 
  5. একটি ড্রাগন ফলে 0.1 গ্রাম থেকে 0.6 গ্রাম পর্যন্ত ফ্যাট  থাকে। এই ফ্যাট আপনার শরীরের উৎস শক্তির যোগান দেওয়ার পাশাপাশি বাচ্চার মস্তিষ্কের বৃদ্ধি করতে অনেক সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত চিন্তা করার কিছু নেই ড্রাগন ফল খাওয়ার ফলে আপনাকে এটা মোটা করে তুলবে না। 
  6. গর্ভাবস্থায় একজন নারীর শরীরের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে ফলিক এসিড। ফলিক এসিড গর্ভাবস্থায় অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে।  যার মধ্যে একটি হচ্ছে শিশুর নিউট্রাল টিউব ত্রুটি বা অকাল জন্ম হওয়া থেকে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। যার ফলে আপনি নিয়মিত ড্রাগন ফল খাওয়ার মাধ্যমে গর্ভবতী নারীর শরীরের ফলিক এসিডের চাহিদা মেটাতে পারবে। 


বাচ্চাদের জন্য ড্রাগন ফলের উপকারিতা


ড্রাগন ফল হচ্ছে গ্রীষ্মমন্ডলী ও উপনিবেশিও অঞ্চলে এক ধরনের ক্যাকটাস ফল। এগুলো উচ্চ পুষ্টিকর সমৃদ্ধ ফল।এই ফল গুলো বাচ্চাদের জন্যে খুবই ভালো একটি খাবার।  এসব খেলে বাচ্চাদের কি কি উপকার হতে পারে তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। 

  1. ড্রাগন ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট, যা আপনার শিশুর কোষ  গুলোকে সুরক্ষা দেয় এবং দেহের ক্ষতি এড়াতে অনেক বেশি সহায়তা প্রদান করে। পাশাপাশি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। 
  2. ড্রাগন ফলের মধ্যে অনেক বেশি পুষ্টি থাকে ,যার ফলে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের হার্টের অনেক উন্নতি সাধন করে থাকে। যার অর্থ হচ্ছে আপনার শিশু সুস্থ হয়ে উঠবে এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে তার হৃদরোগের সম্ভাবনা কম থাকবে। 
  3. ড্রাগন ফল আপনার শিশুর হাড়ের বিকাশের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ,কেননা ড্রাগন ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস।  ফিন্যালিক এবং ফ্ল্যাভোনয়েড যৌগ  মিশ্রিত ফসফরাস শিশুদের হাড়ের ঘনত্বকে শক্তিশালী করতে অনেক সাহায্য করে। তাছাড়া এটা খাওয়ার মাধ্যমে শিশুদের রিকেট এবং আর্থাইটিসের মতো রোগগুলো থেকেও মুক্তি দেয়। 
  4. ড্রাগন ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। আর এই ফাইবার আপনার শিশুর অন্ত্রের  সুস্থ চলাচল এবং পাচনতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য অনেক বেশি সহায়তা করে থাকে। তাছাড়া এটা আপনার শিশুর স্বাস্থ্যকর ওজন এবং স্থুলতা  এড়াতে অনেক সহায়তা করে থাকে। 
  5. আমাদের চোখ এর স্বাস্থ্য ও ভালো ত্বকের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি হচ্ছে ভিটামিন এ। আর ড্রাগন ফল রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। যার ফলে ড্রাগন ফল খাওয়ার মাধ্যমে আপনার শিশুর দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ করে তুলতে অনেক বেশি সাহায্য করে।


ড্রাগন ফল কিভাবে খেতে হয়


প্রথমে আপনি একটি পাকা ড্রাগন ফল নির্বাচন করে নিন।  ড্রাগন ফল সাধারণত উজ্জ্বল লাল বা গোলাপি রঙের হয়ে থাকে। আর এটা সবচেয়ে ভালো স্বাদ  হয় যখন এটি সম্পূর্ণরূপে পেকে যায়। ড্রাগন ফলের উপর আলতো করে চাপ দিন, যদি তা আঙ্গুলের চাপে উপরের অংশ ঢুকে যায় তাহলে বুঝবেন যে এটা পেকে গেছে। আর যদি এটা বেশি নরম হয় তাহলে তার মানে এটা অতিরিক্ত পেকে গিয়েছে। 


তাছাড়া যদি কঠিন হয় তাহলে বুঝতে হবে এটা আর কিছুদিন পর খেতে হবে। প্রথমে আপনি ড্রাগন ফলটিকে একটি ধারালো ছুরি দিয়ে অর্ধেক করে কেটে নিন। অর্ধেক করে কাটার পর আপনি ভিতরে উজ্জ্বল সাদা মাংস দেখতে পাবেন ,যা সাধারণত কালো বীজের ভরা থাকে। তারপর একটি চামচ দিয়ে মাংসগুলোকে বের করে নিন। এটা আপনি ড্রাগন ফলের চামড়ার প্রান্ত বরাবর চামচ দিয়ে মাংসগুলোকে আলগা করে নিন।


যদি ড্রাগন ফল পাকা হয় তাহলে খোসা থেকে মাংস সহজেই আলাদা হয়ে যাবে। এরপর আপনি ড্রাগন ফল খেতে পারেন। সাধারণত ড্রাগন ফলের স্বাদ ঠান্ডা হয়। তবে যদি আপনি এটা ফ্রিজে রেখে তারপর কেটে খান তাহলে এর স্বাদ  অনেক বেশি  পাওয়া যায়। আপনি চাইলে ড্রাগন ফলটিকে আপেলের মত করে চার ভাগেও ভাগ করে খেতে পারেন।


ড্রাগন ফলে কি কি পুষ্টিগুণ রয়েছে

  • ড্রাগন ফল হচ্ছে ভিটামিন এবং খনিজ  সমৃদ্ধ একটি ফল। এটা ক্যালরির মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম। তবে এতে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে ডায়েট্রি ফাইবার। এক কাপ ড্রাগন ফলে ক্যালোরির মাত্রা হচ্ছে ১৩৬ ,প্রোটিনের মাত্রা তিন গ্রাম ,ফ্যাটের মাত্রা ০,ফাইবারের মাত্রা ৭ গ্রাম, আইরন ৮শতাংশ , ম্যাগনেসিয়াম ১৮ শতাংশ ,ভিটামিন সি এর মাত্রা ৯ শতাংশ ,ভিটামিন ই ৪ শতাংশ। 
  • তাছাড়া ড্রাগন ফলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট। পাশাপাশি ড্রাগন ফলে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা আপনার ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও অনেক কমায়। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে ড্রাগন ফল খুবই উপকারী। ড্রাগন ফল হচ্ছে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অনেক বাড়িয়ে দেয়। আর এটা ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় আপনার হজমের জন্যও এই ফল অনেক বেশি উপকারী। ফলের ক্ষুদ্র কালো বীজ ওমেগা-৩ এবং ওমেগা -৯ যা আপনার হার্টকে অনেক বেশি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে থাকে। 
  • ড্রাগন ফলে  ১৮ শতাংশ ম্যাগনেসিয়াম থাকার ফলে আপনার হারের জন্য খুবই ভালো একটি খাবার হচ্ছে এটা। চোখের ক্ষেত্রেও অনেক বেশি উপকারী হচ্ছে ড্রাগন ফল। এতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন যা আপনার  চোখের দৃষ্টি শক্তিকে তীক্ষ্ণ করে তুলতে সহায়তা করে।


ড্রাগন ফল দিয়ে রূপচর্চা


আপনার ত্বকের পুনরুদ্ধার করার জন্য ড্রাগন ফলের ফেসপ্যাক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ড্রাগন ফল প্রাকৃতিগতভাবে আপনার ত্বককে মশ্চারাইজ করে। একটি ড্রাগন ফলে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ, ভিটামিন এবং স্বাস্থ্যকর ফেটি এসিড।  আর এইসব উপাদান ত্বককে রেডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে থাকে। তাছাড়া ড্রাগন ফলে রয়েছে এন্টি -এজিং এর বৈশিষ্ট্য।


আপনার ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে ড্রাগন ফল। তাছাড়া ব্রণ প্রবন ত্বকের জন্যেও ড্রাগন ফল খুবই উপকারী। আপনি ড্রাগন ফলের ফেসপ্যাক বানানোর জন্য প্রথমে একটি পাকা ড্রাগন ফল নিয়ে অর্ধেক করে কেটে নিন। তারপর এটির খোসা ছাড়িয়ে একটি বাটিতে নিন। কাটা চামচ দিয়ে ড্রাগন ফলটিকে ম্যাশ করুন। এবার এই পাক টি আপনার মুখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর আপনার মুখকে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।


এবার আপনার মুখে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।  আপনি চাইলে এই ফেসপ্যাকটির সাথে এক চামচ মধু, অল্প গোলাপজল এবং নারিকেল তেল মিশিয়ে নিতে পারেন। এটা সপ্তাহের কমপক্ষে দুইবার ব্যবহার করুন। এটা ব্যবহার এর ফলে আপনার ত্বককে অনেক পার্থক্য দেখতে পারবেন।


ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি

  1. প্রথমে আপনি এমন একটি জমি নির্বাচন করে নিন যেখানে পানি জমে না উঁচু ও মাঝারি উর্বর জমি। তারপর জমিতে দুই তিনটি চাষ  দিয়ে ভালোভাবে মই দিয়ে সমান করে নিন। 
  2. সমতল ভূমির জন্য বর্গাকার এবং পাহাড়ি আকার ভূমির জন্য কন্টুর পদ্ধতিতে ড্রাগন ফলের কাটিং রোপন করতে হবে। তবে ড্রাগন ফলের চারা রোপণের জন্য উপযোগী সময় হলো এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। 
  3. ড্রাগন ফলের চারা রোপন করার পূর্বে ১.৫ মিটার অথবা এক মিটার আকারের গর্ত করে তা রোদে খোলা রাখতে হবে। গর্ত তৈরি করার ২০ থেকে ২৫ দিন পর প্রতিটি গর্তে  ৩০ কেজি পচা গোবর, ২৫০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০ গ্রাম এমওপি, ১৫০ গ্রাম জিপসাম এবং ৫০ গ্রাম সালফেট সার গর্তের মাটির সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে তারপর গর্তকে বরাট করে দিতে হবে। প্রয়োজনে সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। গর্ত ভরাট করার ১০ থেকে ১৫ দিন পর প্রতিটি গর্তে  ৫০ সেন্টিমিটার দূরত্বে চারটি  করে চারা সোজাভাবে মাঝখানে লাগাতে হবে। চারা রোপন করার এক মাস পর থেকে দেড় বছর পর্যন্ত প্রতিটি গর্তে তিন মাস অন্তর অন্তর ১০০ গ্রাম করে ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে।
  4. গাছ লতানো এবং ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার লম্বা হওয়ার পর এটার  সাপোর্টের জন্য চারার মাঝে একটি সিমেন্টের চার মিটার লম্বা খুঁটি দিতে হবে। চারা বড় হ’লে খড়ের বা নারিকেলের রশি দিয়ে গাছ গুলো কে বেধে দিতে হবে, যাতে কান্ড বের হ’লে খুঁটিকে আঁকড়ে ধরে গাছ খুব সহজেই বাড়তে পারে। প্রতিটি খুঁটির মাথাই একটি করে পুরাতন টায়ার মোটা তারের সাহায্যে আটকিয়ে দিতে হবে। তারপর গাছের মাথা ও অন্যন্য ডগা টায়ারের ভিতর দিয়ে  বাইরের দিকে ঝুলিয়ে দিতে হবে। কেননা ঝুলন্তভাবে ফল অনেক বেশী ধরে।
  5. গাছের বয়স যখন  ১-৩ বছরে মধ্যে মাদা প্রতি  গোবর সার ৪০-৫০ কেজি, ইউরিয়া ৩০০ গ্রাম, টিএসপি ২৫০ গ্রাম, এমওপি ২৫০ গ্রাম একসঙ্গে মিশ্রণ করে দিতে হবে। গাছের বয়স ৩-৬ বছরে মধ্যে মাদা প্রতি গোবর সার ৫০-৬০ কেজি, ইউরিয়া ৩০০ গ্রাম, টিএসপি ৩০০ গ্রাম, এমওপি ৩০০ গ্রাম দিতে হবে। গাছের বয়স ৬-৯ বছরে মধ্যে হবে তখন মাদা প্রতি গোবর সার ৬০-৭০ কেজি, ইউরিয়া ৪০০ গ্রাম, টিএসপি ৩৫০ গ্রাম, এমওপি ৩৫০ গ্রাম দিতে হবে। গাছের বয়স ১০ বছরের ঊর্ধ্বে  হ’লে মাদা প্রতি গোবর সার ৭০-৮০ কেজি, ইউরিয়া ৫০০ গ্রাম, টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমওপি ৫০০ গ্রাম দিতে হবে।
  6. ড্রাগন ফল খরা ও জলাবদ্ধতা একদম সহ্য করতে পারে না। তাই শুষ্ক মৌসুমে ১০ থেকে ১৫ দিন পর সেচের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তাছাড়া ফলান্ত গাছের তিনবার অৰ্থাৎ ফুল ফোটা অবস্থায় একবার, মটর দানা অবস্থা একবার, ১৫ দিন পর আরেকবার পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। 
  7. ড্রাগন ফলের কাটিং থেকে চারা রোপনের পর এক থেকে দেড় বছর বয়সের মধ্যেই ফল সংগ্রহ করা শুরু হয়ে যায়। ফল যখন সম্পূর্ণরূপে লাল রং ধারণ করে তখনই সংগ্রহ করতে হয় অর্থাৎ গাছে ফুল ফুটার ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে ফল খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে যায়।


ড্রাগন ফল এর অপকারিতা

আমরা উপরে ড্রাগন ফল এর  চাষ এবং উপকারিতা সম্পর্কে অনেক আলোচনা করেছি। পাশাপাশি ড্রাগন ফলের কিছু অপকারিতাও রয়েছে। যেমন অতিরিক্ত ড্রাগন ফল খাওয়ার ফলে আপনার অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া অতিরিক্ত পরিমাণ ড্রাগন ফল খাওয়ার ফলে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমাদের পরিমাণ মতো ড্রাগন ফল খাওয়া উচিত।

 

x

Post a Comment

0 Comments