Ticker

6/recent/ticker-posts

চোখের ছানি কেন হয়



 চোখের ছানি কেন হয়

আমাদের মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে চোখ। চোখ ছাড়া কোন ব্যক্তি বা মানুষের কাছে আলোময় জ্বলজ্বলে  এই পুরো পৃথিবীটাই অন্ধকারাচ্ছন্ন। তাই আমাদের এই চোখের সামান্যতম অসুবিধার জন্যেও বিভিন্ন ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হয়।  চোখের যে কোন অসুবিধা জন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হচ্ছে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

চোখের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম এবং অতি পরিচিত একটি সমস্যা হলো চোখে ছানি পড়া। ছানি অনেকগুলো কারণে পড়তে পারে। তবে মানুষের সবচেয়ে বেশি ছানি  হয় বার্ধক্য জনিত কারণে। মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে যেমন মাথার চুল সাদা হয়ে যায় ঠিক তেমনি বয়স বাড়ার সাথে সাথে চোখের ভিতর ধীরে ধীরে ঘোলা হয়ে যায়।

আরো পড়ুন চোখ ওঠা রোগের লক্ষণ, প্রতিকার ও করণীয় সমূহ

এছাড়া আরো যেসব কারণে ছানি পড়তে পারে তারমধ্যে অন্যতম যেমন জন্মগত কোন সমস্যা থাকলে ,যে কোন উপায়ে চোখে আঘাত পাওয়ার ফলে ,চোখে যদি কোন প্রদাহ হয় এবং ডায়বেটিস  ইত্যাদির কারণেও চোখে ছানি পড়তে পারে।

সূচিপত্র:

  • চোখের ছানি কেন হয়
  • চোখের ছানি কি
  • চোখের ছানি দূর করার ঘরোয়া উপায়
  • চোখের ছানি অপারেশন কখন করতে হয়
  • চোখের ছানি অপারেশন করার পর সতর্কতা

চোখের ছানি কি


প্রতিটি ক্যামেরাতে যেমন একটি স্বচ্ছ লেন্স থাকে, ঠিক তেমনভাবে আমাদের চোখের ভিতরেও একটি স্বচ্ছ লেন্স থাকে। যেকোনো কারণে যদি এই স্বচ্ছ লেন্সটি অসচ্ছ হয়ে যায় ,তখন আমরা তাকে ছানি  বলি। যেটাকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় ক্যাটারাক্ট(cataract) চোখের ভিতর যে ঘোলা দেখা যায় এটা সাধারণত সাদা রঙের  হয়ে থাকে।  অনেকে এটাকে চোখের ভেতর ইলিশ মাছ বলে সম্বোধন করে।  তবে শুধুমাত্র লেন্সের যে সাদা অংশটা রয়েছে সেটাকে ছানি বলা হয়।


লেন্স হচ্ছে আমাদের চামড়া ও চুলের মত বাহিরের একটি অংশ। শুধুমাত্র এটার সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সৃষ্টিকর্তা এটাকে চোখের ভেতর ঢুকিয়ে রেখেছে।যখন আমাদের মাথার চুল পেকে যাবে, শরীরের ত্বক কুঁচকিয়ে যাবে ঠিক তখনই চোখে ছানি পড়ার একটা আশঙ্কা তৈরি হবে। আর এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সাধারণত ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়স হলে মানুষের ছানি পড়ার সম্ভাবনা থাকে। যার অন্যতম কারণ হচ্ছে বয়স বৃদ্ধি। আবার অনেক সময় যখন শিশু জন্ম গ্রহণ করে সেই অবস্থায় যদি মায়ের ছানি রোগে আক্রান্ত হয় তখন শিশুরও ছানি পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।


চোখের ছানি দূর করার ঘরোয়া উপায়


চোখের ছানি দূর করার কিছু ঘরোয়া বা প্রাকৃতিক উপায় রয়েছে যেগুলো সবার জেনে রাখা উচিত। কেননা চোখে ছানি দূর করার জন্য যেসব ঘরোয়া উপায় বা প্রাকৃতিক উপায় রয়েছে সেগুলো জানা থাকলে সহজেই এটার নিরাময় করা সম্ভব হয়। অনেক সময়ই চোখের ছানি অপারেশন করার প্রয়োজন হয় ,তবে অপারেশনের আগে কিছু কিছু ক্ষেত্রে চোখের ছানি দূর করার জন্য ড্রপ দেওয়া হয়।

আর কিছু সহজ অভ্যাস রয়েছে যেগুলো চোখের ছানি পড়া থেকে আমাদেরকে বাঁচাতে পারে।  যেমন আমরা যখন রোদে যাই তখন রোদে চশমা ব্যবহারের অভ্যাস করা ,সবুজ শাকসবজি ও চোখের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার গ্রহণ করা। এছাড়া ধূমপান বা মদ পানের বাজে অভ্যাস যদি থেকে থাকে তাহলে সেগুলো ত্যাগ করা ইত্যাদি। এছাড়া আরো কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে চোখের ছানি দূর করা যায় :


  1. ভিটামিন সি: শরীরের যেসব অঙ্গ রয়েছে তার মধ্যে চোখের লেন্স ভিটামিন সি অনেক বেশি ধারণ করে থাকে। আপনার চোখের ছানি  যদি প্রাথমিক পর্যায়ে থেকে থাকে তাহলে চক্ষু বিশেষজ্ঞ বা ডাক্তারের সাথে কথা বলে সম্পূরক ভিটামিন সি গ্রহণ করতে পারেন। এটা আপনার চোখের ছানি দূর করতে অনেক সাহায্য করে থাকে। 
  2. পেঁপে পেঁপে খাওয়ার মাধ্যমে আমাদের প্রোটিন জাতীয় খাবারগুলোকে হজম করতে অনেক সহায়তা করে। যাদের চোখে ছানি আছে এদের অনেকের মাঝেই দেখা যায় যে তাদের প্রোটিন জাতীয় খাবার গুলো হজম করতে অনেক বেশি সমস্যা হয়ে থাকে। আর এইসব অতিরিক্ত প্রোটিন মানুষের চোখের লেন্সে গিয়ে জমা হয় যার ফলে ছানি তৈরি হতে পারে। তাই আপনার চোখের ছানি প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত পেঁপে খেতে পারেন। 
  3. রসুন রসুন আমাদের চোখের ছানি দূর করার জন্যে অনেক উপকারী একটা খাবার। আপনার চোখে পানি দিয়ে ধোয়ার পর দৃষ্টি  যেমন পরিষ্কার মনে হবে রসুন খাওয়ার মাধ্যমে ঠিক সেই কাজটি করে থাকে। তাই দৈনিক দুই থেকে তিন কুয়া রসুন খাওয়ার ফলে অনেক বেশি উপকার পাওয়া যায়।
  4. গম ঘাস  গম ঘাস বা গমের কচি চারা এগুলো আপনার চোখের ছানি দূর করতে অনেক বেশি সহায়তা করে। তাই আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন গম ঘাসের  জুস রাখতে পারেন বা সম্পূরক খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। 
  5. দুধ ও কাজুবাদাম চোখের ছানি পড়লে আমাদের চোখে সাধারণত অনেক বেশি জ্বালা করে এবং চোখ লাল হয়ে যায়। সেই ক্ষেত্রে যদি আপনি দুধের মধ্যে সারারাত কাজুবাদাম ভিজিয়ে রাখুন এবং সেই দুধ যদি আপনার চোখের পাতায় লাগানো যায় তাহলে চোখের জালা অনেক কমে যায় এবং লাল হওয়াও অনেক বেশি কমে যায়। 
  6. গ্রিন টি আমাদের চোখে স্বাস্থ্যকে ভালো রাখার জন্য গ্রিন টি অনেক ভালো কাজ করে থাকে। গ্রিনটিতে রয়েছে এক ধরনের এন্টিঅক্সিডেন্ট। আর এই এন্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের চোখে সজীবতা প্রদান করে। 
  7. শাক মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী শাকের মধ্যে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন ও এন্টিঅক্সিডেন্ট। আর এইসব চোখের ছানি প্রতিরোধ করতে অনেক বেশি সহায়তা করে। তাই আপনি আপনার খাবার তালিকায় প্রতিদিনই শাক রাখতে পারেন। 
  8. কাঁচা শাকসবজি একাধিক মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী কাঁচা শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ। আর এসবের রয়েছে বিটা ক্যারোটিন ও এন্টিঅক্সিডেন্ট যা চোখের ছানি দূর করতে অনেক বেশি সাহায্য করে। আপনার খাবারে কাঁচা শাকসবজি রেগুলার রাখতে পারেন।

আরো পড়ুন চোখের নিচের কালো দাগ কেন হয় এবং দাগ দূর করার উপায়

চোখের ছানি অপারেশন কখন করতে হয়

আমরা উপরের অংশে ছানি দূর করার ঘরোয়া বা প্রাকৃতিক উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। অনেক সময় ঘরোয়া-উপায়ের মাধ্যমেও ছানি দূর করা সম্ভব হয় না। তখন একটা পর্যায়ে দেখা যায় চোখের ছানি অপারেশন করার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু আমাদের অনেকেরই সমস্যা হয় বুঝতে যে আমরা চোখে ছানি কোন সময়ে অপারেশন করব। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক চোখের ছানি কখন অপারেশন করা উত্তম।


যদি আপনি আপনার চোখ দিয়ে দৈনন্দিন কাজকর্ম যেমন ড্রাইভিং করা ,পড়াশোনা করা ,টেলিভিশন দেখা ইত্যাদি  কাজ করতে গিয়ে যদি বাধার সম্মুখীন হন বা ঠিক মতো দেখতে না পারেন  তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে অপারেশন করতে পারেন।  চোখের ছানি অপারেশনের মাধ্যমে আপনার চোখে আইওএল দিয়ে কৃত্তিম লেন্স প্রতিস্থাপন করে দেয়।


চোখের ছানি অপারেশন করার পর সতর্কতা


আমাদের চোখের সানি অপারেশন করার পর কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। চলুন এবার সেসব সর্তকতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক ।সর্বপ্রথম আমাদেরকে কালো চশমা ব্যবহার করতে হবে। ডাক্তার যদি আপনাকে কাছে জিনিস দেখার জন্য চশমা দেয় তাহলে তা অবশ্যই নিয়মমাফিক ব্যবহার করতে হবে। সবচেয়ে সতর্কতার বিষয় হচ্ছে কমপক্ষে ৭ দিন চোখে সরাসরি যেন পানি না দেওয়া হয়। ডাক্তার যেসব ওষুধের পরামর্শ দিবেন তা নিয়মিত গ্রহণ করা। অপারেশন হওয়ার পর সপ্তম তম দিন এবং একমাস হওয়ার পর ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া। যদি কোন অসুবিধা মনে হয় তাহলে অবশ্যই দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা।


উপসংহার আপনি যদি আমাদের পুরো লেখাটি  পড়ে থাকেন তাহলে এতক্ষণে ছানি  সম্পর্কে একটি বিশেষ ধারণা পেয়েছেন।  চোখের ছানি পড়লে  অবহেলা না করে দ্রুত এর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না হলে আমাদের চোখের বড় একটি ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাই চোখের যে কোন সমস্যা দেখা দিলেই দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞ বা ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। মনে রাখবেন চোখ আমাদের জন্য খুবই স্পর্শকাতর একটি অঙ্গ।

Post a Comment

0 Comments