Ticker

6/recent/ticker-posts

চোখের যত্ন কিভাবে নিতে হয়



 চোখের যত্ন কিভাবে নিতে হয়

চোখ মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গের প্রধান অংশ।  চোখ সম্পর্কিত সঠিক যত্ন নেওয়া প্রতিটি মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চোখের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে চোখে দৃষ্টি শক্তি  ভালো থাকে। চোখের সামান্যতম প্রবলেমের কারণে আমরা নানারকম জটিলতা সম্মুখীন হই। তাই আমাদের ব্যক্তি জীবনে চোখের সুস্থতা এর জন্য নিয়মিত চোখের যত্ন নেওয়া উচিত।

মনে রাখা উচিত মানুষের সবচেয়ে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মধ্যে একটি প্রধান অংশ হচ্ছে চোখ। যেহেতু চোখ হচ্ছে আমাদের খুবই মূল্যবান ইন্দ্রিয়।  সেহেতু  যদি আমাদের চোখ না থাকে বা চোখ খারাপ হয় তাহলে আমরা কিছুই দেখতে পাবো না।  তাই আমাদের চোখে যত্ন নেওয়া খুবই জরুরী। চোখের যত্ন আমরা যেভাবে নিতে পারি তা সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

সূচিপত্র

  • চোখের যত্ন কিভাবে নিতে হয়
  • চোখের যত্নে করণীয়
  • কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের চোখের যত্ন
  • চোখের যত্নে খাবার

চোখের যত্নে করণীয়


মানুষের বয়স যখন বাড়ে তখন তার দৃষ্টি শক্তি যেমন কমতে থাকে ঠিক তেমনি ভাবে চোখের প্রতি যদি সঠিক যত্নশীল না হওয়া না নেওয়া হয় তাহলে দৃষ্টিশক্তি কমতে পারে। কিছু কাজ নিয়মিত করলে চোখ দুটোকে ভালো রাখা যায় আরো অনেক বেশি দিন এবং দৃষ্টিশক্তিও বাড়ানো যায়। চলুন চোখের দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখতে করণীয় সমূহ সম্পর্কে জানা যাক।


আরো পড়ুন চোখের ছানি কেন হয়

  1. জলের ঝাপটা দেওয়া :আমাদের চোখে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে বায়ু দূষণ। আমাদের চারপাশের বায়ুমণ্ডলের ক্ষুদ্র ধূলিকণা, বিষাক্ত ধোঁয়া ,চোখে চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে , জল আসার সমস্যা সহ দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দিতে পারে। তাই আপনি যখন বাহির থেকে বাসায় আসবেন তখন অবশ্যই চোখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন। তাছাড়া প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেও জলের ঝাপটা দিতে পারেন। এটা রেগুলার করার ফলে আপনার চোখের দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ হবে এবং চোখের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পাবে। 
  2. চোখের ব্যায়াম : চোখের স্বাস্থ্য সঠিক রাখার জন্য চোখের কিছু সহজ ব্যায়াম রয়েছে। এই ব্যায়ামগুলো আপনি যেকোনো সময়ই করতে পারেন। আপনি সোজা হয়ে বসে ঘড়ির কাটার দিকে এবং ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে চোখ ঘুরাতে পারেন।  এভাবে পাঁচ থেকে দশ মিনিট করতে থাকুন। তারপর চোখ বন্ধ রেখে বিশ্রাম নিন। তাছাড়া আরেকটি সহজে ব্যায়াম হচ্ছে চোখ থেকে ১২ ইঞ্চি দূরে এবং চোখ বরাবর একটি বস্তু রেখে সেটার দিকে অনবরত তাকিয়ে থাকুন। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার চোখের পাতা পড়ে না যায়। কিছুক্ষন বিরতি নেওয়ার পর আবার পুনরায়  ব্যায়ামটা করুন। এরকম দিনে দুই থেকে তিনবার করতে পারেন। 
  3. বিশ্রাম নেওয়া: যখন আমরা ইলেকট্রনিক ডিভাইস দেখি বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে কাজ করি তখন বেশ কয়েকবার বিরতি নেওয়া যেতে পারে। কেননা একাধারে এসব স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম তৈরি হয়। তাছাড়া আপনি আপনার চোখের সতেজতার জন্য আপনার ডেস্কে  বা স্ক্রিনের পাশে কিছু ফুল রাখতে পারেন।  আর যদি আপনি জানালার পাশে বসে থাকেন তাহলে বাহিরের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারেন। এতে করে আপনার চোখের উপর অনেক চাপ কমে যাবে। 
  4. চোখকে সুরক্ষিত রাখা: আপনি যখন বাহিরে যাবেন তখন অবশ্যই সানগ্লাস পড়তে পারেন। সুইমিং পুলে সাঁতার কাটার সময় গিয়ার পড়ে নিন যাতে ক্লোরিন যুক্ত জলের সংস্পর্শ থেকে আপনার চোখ সুরক্ষিত থাকে।


কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের চোখের যত্ন


কম্পিউটার অথবা মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক একটি ঘটনা। চোখের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আমাদেরকে অনেকেই সাবধান করে থাকে। বর্তমান সময়ের মানুষ যতটা সময় জেগে থাকে তার প্রায় সবটুকু সময়ই দেখা যায় তারা কোনো না কোনো ডিভাইসের দিকে তাকিয়ে থাকে।

গেম খেলা, ভিডিও দেখা, অফিসের কাজ করা, অনলাইন মিটিং করা ,আত্মীয়দের সঙ্গে আলাপ করা সবই এখন মোবাইল কম্পিউটারের মাধ্যমে হয়ে থাকে। দেখা যায় সব মিলিয়ে চোখের উপর দিয়ে প্রতিদিন অনেক ধকল যাচ্ছে। আবার বর্তমান সময়ে সেগুলো বাদ দিয়ে সময় কাটানো যেন অনেক মুশকিল একটা ব্যাপার। এরকম পরিস্থিতিতে আমাদের চোখের উপর কিভাবে চাপ কমানো যায় বা কিভাবে চোখের যত্ন নেওয়া যায় তা নিয়েই আমাদের এই লেখা।


আরো পড়ুন চোখ ওঠা রোগের লক্ষণ, প্রতিকার ও করণীয় সমূহ

  1. বিরতি নেওয়া: আমরা একটানা লম্বা সময় যখন কোন পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকি তখন চোখের উপর চাপ পড়ে এবং চোখ শুকিয়ে যায়। তাই প্রতি ২০ মিনিট পর বিশ ফিট দূরত্বে কোন কিছুর দিকে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকার একটা অভ্যাস করতে হবে। এই নিয়মটি কে বলা হয় ২০-২০-২০ এটা করার ফলে আপনার চোখ বিশ্রাম পাবে যার ফলে চোখের উপর চাপ অনেক কমে যাবে।  
  2. পলক ফেলা : আমরা যখন একটানা বৈদ্যুতিক পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকি তখন চোখের পলক ফেলার মাত্রা অনেক কমে যায়। যার ফলে আমাদের চোখ শুস্ক  হয়ে যায়। কম্পিউটার দেখার সময় পলক ফেলার মাধ্যমে চোখের আদ্রতা ফিরে পায়। সুস্থতা ও জ্বালাপোড়া অনেক কমে যায়। তাই কম্পিউটার বা যেকোনো ডিভাইসের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার সময় নিজ চেষ্টায়পলক  ফেলার পরিমাণ বাড়িয়ে নিন। 
  3. ফন্ট বাড়ানো: মোবাইল বা কম্পিউটার যখন আমরা কোন কিছু দেখবো সেই সময় সেগুলোর ফন্ট বাড়িয়ে লেখাগুলো বড় করে নিতে হবে। এতে করে আমাদের ডিভাইসটি চোখের কাছে আনতে হবেনা। অথবা ভালোভাবে দেখার জন্য চোখ কুঁচকে তাকাতে হবে না।  যার ফলে চোখের উপর অনেক চাপ কমে যাবে তেমনি ডিভাইস থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকার কারণে চোখের ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হবে। 
  4. চোখের জন্য সহায়ক পর্দা :বৈদ্যুতিক পর্দার ব্রাইটনেস ,রেজুলেশন ,কনট্রাস্ট এগুলোর মাত্রা পরিবর্তন করার মাধ্যমে চোখের জন্য সহায়ক হয় এমন সিস্টেম করা জানতে হবে। অতিরিক্ত রোধের মধ্যে  ডিভাইস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। দিনে কমপক্ষে একবার হলেও আপনার ডিভাইসের স্কিন পরিষ্কার করে নিতে হবে যাতে করে স্কিন সহজেই দেখা যায়।
  5. ডিভাইস পরীক্ষা :মনিটরের বা ডিভাইসের সেটিং পরিবর্তন করে যেভাবে উজ্জ্বলতা কমানো যায় সেটার উপর মনোযোগ দিতে হবে। আর লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে মনিটরের উচ্চতা হওয়া উচিত চোখের সমান্তরালে। এর ফলেও চোখের উপর চাপ অনেক কমে যাবে। 
  6. প্রতিফলন কমানো : আমাদের ডিভাইসের মনিটর বা স্ক্রিন জানালা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকা উচিত। জানালার দিকে মুখোমুখি বসে কম্পিউটার বা যেকোনো ধরনের ডিভাইস চালানো থেকেও আমাদের বিরক্ত থাকা উচিত। আপনার চোখে সমস্যা থাকুক অথবা না থাকুক এন্টি রিফ্লেকশন কিংবা ব্লু কোটিং দেওয়া চশমা ব্যবহার করা সবচেয়ে উত্তম  কম্পিউটার চালানোর সময়। কেননা সকল এলইডি ডিভাইস থেকে চোখের জন্য এক ধরনের নীল আলো নিঃসৃত হয় যার সংস্পর্শে অতিরিক্ত মাত্রায় চলে আসলে বোরো ধরণের  ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

চোখের যত্নে খাবার


শরীরের মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ হচ্ছে চোখ। গরমে এবং বর্ষার  সময় চোখের সমস্যা গুলো অনেক বেশি দেখা দেয়।  তাছাড়া চোখ উঠার প্রকোপ  রয়েছে। তাই এই সময় চোখে সুস্থতায় আপনি কোন খাবারগুলো আপনার খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন তা নিয়ে আলোচনা করব। 


আরো পড়ুন চোখের নিচের কালো দাগ কেন হয় এবং দাগ দূর করার উপায়

  1. জিংক সমৃদ্ধ খাবার :আমাদের শরীরের লিভার থেকে চোখের রেটিনায় ভিটামিন এ পৌঁছে দেওয়ার জন্য জিঙ্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যার ফলে দৃষ্টিশক্তি অনেক বেশি ভালো থাকে। আমরা যেসব  খাবারগুলোতে জিঙ্ক পাব তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কলিজা ,পালং শাক, লাল মাংস, মিষ্টি কুমড়ার বিচি ,ডার্ক চকোলেট ,মাশরুম ইত্যাদি। 
  2. ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার :চোখের পানি পড়া ,ঝাপসা দেখা ইত্যাদি রোগ  সমূহকে প্রতিরোধ করার জন্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। ভিটামিন সি তে রয়েছে খুব ভালো এন্টিঅক্সিডেন্ট। এই এন্টিঅক্সিডেন্ট গুলো চোখের কোষ নষ্ট হওয়া থেকে রোধ  করে থাকে।কমলালেবু ,লেবু, পেয়ারা, টমেটো, পেঁপে, সবজি, স্ট্রবেরিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি।
  3. ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার :চোখের পানি পড়া সহ অন্যান্য অসুখ রোধ করতে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবারগুলো খাওয়া অনেক বেশি জরুরী। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার গুলো হচ্ছে পালং শাক ,বাদাম, চিংড়ি ,অলিভ অয়েল ইত্যাদি। 
  4. ড্রাই ফ্রুইটস : ড্রাইফুডসে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পলিফেনলস যা শরীর থেকে ফ্রি র‌্যাডিকেলস দূর করে চোখের মাসেলের উন্নতিতে অনেক বেশি সাহায্য করে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এপ্রিকট, কিশমিশ ইত্যাদি।
  5. ত্রিফলা: ত্রিফলা হচ্ছে তিনটা ফলের মিশ্রণ। তিনটা ফল আমলকি, হরিতকি ও বহেড়া থাকে এই ত্রিফলার মাঝে। আর এই  ত্রিফলা আমাদের চোখকে সুস্থ রাখার জন্য খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে থাকে। 
  6. দুধ ও মধু :মধুর মধ্যে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট ,এন্টিফাঙ্গাল। এটা আমাদের যেকোনো ধরনের ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে। তাছাড়া দুধের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ডি এবং এ আছে লেক্টিক এসিড ,ক্যালসিয়াম। যার ফলে যখন এই দুই উপাদান আমাদের শরীরের ভিতর যাচ্ছে তখন দৃষ্টিশক্তি যেমন অনেক ভালো করে তেমনি চোখের পেশির কার্যক্ষমতা কেউ অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

Post a Comment

1 Comments