Ticker

6/recent/ticker-posts

কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা



 কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

কালোজিরা প্রাচীনকাল থেকেই নানা কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। আমাদের সকলের কাছেই এটি খুবই পরিচিত হচ্ছে মসলা হিসেবে। তবে মসলার পাশাপাশি এটা আয়ুর্বেদিক,ইউনানী ও কবিরাজি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ব্যবহার হয়ে আসছে। কালোজিরা গাছ মাঝারি আকৃতির হয়ে থাকে। এটা শুধুমাত্র একবারই ফুল ও ফল দেয়। একটি গাছ থেকে ২০-২৫টি  বীজ পাওয়া যায়। যদিও কালোজিরার বীজগুলো অনেক ছোট ছোট তবুও এর  স্বাস্থ্য গুনাগুন অনেক বেশি।

কালোজিরার স্বাস্থ্য উপকারিতা বা স্বাস্থ্য গুণাগুণার বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। যার কারণে কালোজিরা কে বলা হয় সকল রোগের মহা ঔষধ। প্রতিটি মানব দেহের জন্য কালোজিরার গুনাগুন বা কালোজিরার উপকারিতা অপরিহার্য। আজকে আমরা কালোজিরার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

সূচিপত্র:

কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা
খালি পেটে কালোজিরার উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা
দুধের সাথে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা
চুলে কালোজিরা তেলের উপকারিতা
ওজন কমাতে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম
কালোজিরা মধু খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা 
কালোজিরা খাওয়ার অপকারিতা


নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা


  1. স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে : এক চা চামচ পুদিনা পাতার রস বা কমলার রস বা এক কাপ রংয়ের চায়ের সাথে এক চা চামচ কালোজিরার তেল একসাথে মিশিয়ে দিনে তিনবার নিয়মিত খাওয়ার ফলে আপনার সকল দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে। তাছাড়া কালোজিরা নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে আপনার মেধাবিকাশ দ্বিগুণ হারে হবে। কালোজিরা হচ্ছে একটি এন্টিবায়োটিক বা অ্যান্টি সেফটিক। এটা নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির মাধ্যমে আপনার স্মরণ শক্তিকে অনেক বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে। 
  2. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ: রাখতে প্রতিদিন সকালবেলা নিয়ম করে দুই কোয়া রসুন চিবিয়ে খেয়ে সারা শরীরে কালোজিরার তেল মাখিয়ে রোদের তাপে আধঘন্টা থাকার মাধ্যমে আপনার ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আসতে সাহায্য করে। তাছাড়া কালোজিরার তেল বহুমূত্র রোগীদের জন্য খুবই উপকারী কারণ কালোজিরার বহুমূত্র রোগীদের শর্করা পরিমান কমিয়ে দেয় ,পাশাপাশি শরীরের নিম্ন রক্তচাপকে উচ্চ রক্তচাপে এবং উচ্চ রক্তচাপকে নিম্ন রক্তচাপে হ্রাস করতে অনেক সহায়তা করে। 
  3. অর্শ রোগ নিরাময়ে: প্রতিদিন খালি পেটে এক চা চামচ মাখন ও সমপরিমাণ তিলের তেল সাথে এক চা চামচ কালোজিরা তেল সপ্তাহে তিন চার বার খাওয়ার ফলে  অর্শ রোগ ধীরে ধীরে ভালো হয়ে যায়। 
  4. ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণে: যেসব মানুষের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের জন্য কালোজিরা উত্তম একটি খাবার। এক চিমটি পরিমাণ কালোজিরা এক গ্লাস পানির সাথে প্রতিদিন সকালে খাওয়ার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাছাড়া এক চা চামচ কালোজিরা তেল এক কাপ রং চা বা গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে দৈনিক দুইবার খাওয়ার ফলে ডায়বেটিকস খুব তাড়াতাড়ি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
  5. তারুণ্য ধরে রাখতে: আমাদের দেহের গঠনের উন্নতি ও ত্বকের প্রভাব বৃদ্ধির জন্য কালোজিরা খুবই ভালো একটি উপাদান। এতে লিনোলেইক ও লিনোলেনিক নামের এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড থাকে  যা আমাদের চারপাশের  প্রখরতা ,স্ট্রেস  ইত্যাদি থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং দেহের সৌন্দর্য কে ধরে রাখে। তাছাড়া ত্বককে উজ্জ্বল করার জন্য কালোজিরা ও মধু একসাথে পেস্ট বানিয়ে শরীরে লাগিয়ে এক ঘন্টার মত রেখে ধুয়ে ফেলুন।  তাছাড়া যদি আপনার ব্রণের সমস্যা থাকে তাহলে কালোজিরা ও আপেল সাইডার ভিনেগার একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন।  নিয়মিত লাগালে ব্রণের সমস্যা খুব দ্রুত দূর হয়ে যাবে। 
  6. শিশুর মানসিক ও দৈহিক বৃদ্ধিতে: যেসব শিশুদের বয়স ২ বছরের বেশি তাদের দৈনিক কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস করার মাধ্যমে তাদের দৈহিক ও মানসিক দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। তাছাড়া শিশুর মস্তিষ্ক এর  সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে কালোজিরা খুবই উপকারী। তবে দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের কালোজিরার তেল সেবন করা উচিত নয়। সেই ক্ষেত্রে বাহ্যিকভাবে শিশুদের এই তেল ব্যবহার করা যাবে। 
  7. হজমের সমস্যায় কালোজিরা: প্রতিদিন এক থেকে দুই চা চামচ কালোজিরা বেটে পানির সাথে মিক্সড করে খেতে থাকুন। এরকম করে দিনে দুই থেকে তিনবার এক মাস খেলে হজম শক্তি অনেক বেড়ে যাবে। পাশাপাশি যদি আপনার পেট ফাঁপা ভাব থাকে সেটাও দূর হয়ে যাবে। 
  8. চুল পড়া রোধে: আপনার যদি চুল পড়া সমস্যা থাকে তাহলে আপনি নিয়মিত কালিজিরা খেতে পারেন। নিয়মিত কালিজিরা খাওয়ার মাধ্যমে চুল পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি পায়। যার ফলে চুল পড়া বন্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া আরো বেশি ফল পাওয়ার জন্যে  আপনি চুলের গোড়ায় রেগুলার তেল মালিশ করতে পারেন।
  9. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে: আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার জন্য কালোজিরা খুবই ভালো একটি উপাদান।  নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকে অনেক বেশি সতেজ। যার ফলে যে কোন ধরনের জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে  দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। প্রতিদিন এক চা চামচ কালোজিরা অথবা কয়েকটা কালোজিরা তেল ও এক চামচ মধু  একসাথে সেবন করার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা  অনেক বেড়ে যায়। 
  10. দুগ্ধদানকারী মায়েদের বুকের দুধ বৃদ্ধির জন্য: যেসব মায়েরা শিশুদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বুকের দুধের অভাবে দুধ খাওয়াতে পারেন না তাদের জন্য মহা ঔষধ হচ্ছে কালোজিরা।  প্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে ৫ থেকে ১০ গ্রাম কালোজিরা মিহি করে দুধের সাথে মিক্সড করে রেগুলার খেতে থাকুন। ১০ থেকে ১৫ দিনের মাঝে বুকে দুধের প্রবাহ অনেক বেড়ে যাবে। তাছাড়া এই সমস্যা দূর করার জন্য কালোজিরা ভর্তা করে ভাতের সাথে খেতে পারেন।


খালি পেটে কালোজিরার উপকারিতা

কালোজিরা খাওয়ার সর্বোচ্চ উত্তম সময় হচ্ছে সকাল বেলা খালি পেটে খাবার খাওয়ার আগে। কারন এই সময় এটি তার পুষ্টির শোষণ বাড়াতে  অনেক বেশি সাহায্য করতে পারে। বিভিন্ন কারণে খালি পেটে কালিজিরা খাওয়া যে উপকারী তা প্রমাণিত হয়েছে। খালি পেটে কালিজিরা খাওয়ার মাধ্যমে শরীরকে আরও দক্ষতার সাথে পুষ্টি শোষণ করতে সাহায্য করে।

তাছাড়া নিয়মিত খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার মাধ্যমে আপনার পেটের হজমের অনেক উন্নতি করতে সাহায্য করে। কারণ কালোজিরা পাকস্থলীর এসিড উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে। এছাড়াও খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার মাধ্যমে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। কারণ কালোজিরাতে থাকা প্রয়োজন ফ্যাটি এসিড পেটের প্রদাহ কে কমিয়ে দেয়।


গর্ভাবস্থায় কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি। আমরা অনেকেই মনে করে থাকি যে গর্ভাবস্থায় কালোজিরা বা কালোজিরা তেল খাওয়ার  ফলে দ্রুত গর্ভপাত ঘটায়। এই ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। কালোজিরা প্রতিটি গর্ভবতী মায়ের জন্য খুবই উপকারী। এটা একজন গর্ভবতী মায়ের শরীরের মেটাবলিজম ঘটায় এবং হজম শক্তিতে অনেক বেশি উপকার করে। তাছাড়া প্রেগনেন্সি এর সময় গর্ভবতী মায়েদের নানা ধরনের ব্যথা থাকে এবং হজম শক্তিতেও অনেক বেশি সমস্যায় ভোগে। সেই ক্ষেত্রে কালিজিরা কিন্তু সেই কাজটি করে থাকে। তাই আপনি যদি গর্ভবতী হন তাহলে নিয়মিত কালোজিরা ভর্তা অথবা বিভিন্ন খাবারের পাশাপাশি  সবজি অথবা কালোজিরা দিয়ে বিভিন্ন খাবার তৈরি করে খেতে পারেন।


দুধের সাথে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা

নিয়মিত দুধের সাথে কালোজিরা খাওয়ার  উপকারিতা অনেক বেশি। আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অথবা ইমিউনিটি বাড়াতে অত্যন্ত উপযোগী হল কালোজিরা ও দুধ। আমাদের বিভিন্ন ধরনের মৌসুমী রোগের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করার জন্য কালোজিরা অনেক বেশি উপকারী। কালোজিরাতে এমন সব এন্টি এক্সিডেন্ট রয়েছে যা আমাদের এইসব রোগ  থেকে রক্ষা করে থাকে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর পাশাপাশি রয়েছে জিংক। এই জিংক আমাদের শরীরের ইমিউন সেলকোষগুলোকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে থাকে। পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ঘটিত যেসব রোগ রয়েছে সেগুলোর মোকাবেলা করার জন্য দেহকে দ্রুত প্রস্তুত করে এই কালোজিরা ও দুধের পানীয়।  অনেক বিশেষজ্ঞ রায় বলে থাকেন যে ঠান্ডা লাগলে অথবা সর্দি হলে কালোজিরা ও দুধ একসাথে পান করতে। তাহলে দ্রুত সর্দি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।


চুলে কালোজিরা তেলের উপকারিতা

আমাদের অনেকেরই মাথার চুল ভেঙে যায়। তাই সুন্দর ও ঝলমলে চুলের জন্য নিয়মিত কালোজিরার তেল ব্যবহার করতে পারেন। এটি চুল পড়া রোধ করতে অনেক বেশি কার্যকর। কালোজিরার তেল ব্যবহার করার ফলে আপনার চুল পড়া বন্ধ হবে। যাদের চুলে ভেঙে যায় ,তাদের চুল ভেঙে যাওয়া রোধ  হবে। অনেক সময় অনেকের চুল রুক্ষ হয়ে যায় , সেইসব চুলের রুক্ষতা দূর করে চুলের ঝলমলে ভাব এনে দেয় কালোজিরা তেল। অনেকের চুল অকালে পেকে যায় ,অকালে পেকে যাওয়া থেকে রক্ষা করে কালোজিরার তেল। তাছাড়া নিয়মিত কালোজিরার তেল ব্যবহার করার ফলে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে, যার ফলে দ্রুত চুল বাড়ে।


ওজন কমাতে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম

কালোজিরাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ওজন কমাতে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম যেগুলো ঔষধ প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী। কালোজিরা শুধু আয়ুর্বেদে  নয় এটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অনেক বেশি জনপ্রিয়। কালোজিরার মধ্যে ভিটামিন এ, সি ,কে ,আয়রন ,ফসফরাস এবং পটাশিয়াম জাতীয় পুষ্টি বিদ্যমান। এতে ফাইটোস্টেরলস সহ ফাইটোকেমিক্যালস নামে একটি সক্রিয় যৌগ রয়েছে যা মানবদেহের ওজন কমাতে সহায়তা করে থাকে। এই সক্রিয় ফাইটোকেমিক্যাল আমাদের দেহের খুদা ও মেদ নিয়ন্ত্রণ কারী জিনের অভিব্যক্তি পরিবর্তন করে ওজন কমানোর পক্রিয়া কে অনেক বেশি গতি এনে দেয়।  চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক যেভাবে কালিজিরা খাওয়ার মাধ্যমে আমাদের দেহের ওজন দ্রুত কমবে। 

  • মধু ও লেবুর দ্বারা প্রথমে এক চিমটি কালোজিরা খুব ভালো করে গুড়ো করে নিন। তারপর এটা এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে কালোজিরার গুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিক্সড করা পানির মধ্যে এক চা চামচ মধু এবং এক চা চামচ লেবুর রস দিয়ে দিন। তারপর এটাকে খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন এবং খালি পেটে পান করুন। এটা রেগুলার পান করার কারণে আপনার দেহের বাড়তি ওজন  দূর করতে অনেক বেশি সহায়তা করবে। 
  • লেবুর রসের মাধ্যমে প্রথমে ৮ থেকে ১০ টি কালোজিরা নিয়ে সেটা একটা লেবুর অর্ধেক পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে রোদের মধ্যে দুই তিন দিন শুকিয়ে নিন। তারপর সেইখান থেকে প্রতিদিন দুই থেকে চারটি করে কালোজিরা নিয়মিত খান, এতে করে আপনার ওজন অনেক কমে যাবে। 
  • এক গ্লাস গরম পানিতে কয়েকটি কালোজিরা নিয়ে মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। অথবা ৮ থেকে ১০ টি কালোজিরা এক গ্লাস পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালবেলা পানিটুকু ছেকে খেয়ে ফেলুন ,এতে করে আপনার ওজন দ্রুতই কমে যাবে।


কালোজিরা মধু খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা 

কালোজিরা ও মধুতে রয়েছে অনেক বেশি পরিমাণ পুষ্টিগুণ। ইসলামে  হাদিসে বলা হয়েছে যে মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের মহা ঔষধ  হচ্ছে কালোজিরা। কালোজিরা পুষ্টি গুণের কথা বলে শেষ করা যাবেনা। কালোজিরা ও মধু বিভিন্ন উপকারের জন্য ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে খাওয়া  যেতে পারে।  চলুন আজকে আমরা জানবো কি কি উপকারের জন্য মধু কি কি উপায়ে খাওয়া যেতে পারে তার সম্পর্কে। 

  • নিদ্রাহীনতা আমরা অনেকেই অনিদ্রা নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত থাকি।  তাই আমাদের এই অনিদ্রা কাটানোর জন্য নিচের  উপায়টি অনুসরণ করতে পারি।  যেমন এক গ্লাস গরম দুধের সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে পাশাপাশি এক চামচ কালোজিরা ভালোভাবে মিশিয়ে ঘুমের পূর্বে একবার খেয়ে দেখতে পারেন। সারারাত বিভোর ঘুম হবে ২-১ দিন খাওয়ার পরেই বুঝবেন যে কালোজিরা ও মধু একসাথে খাওয়ার পর অনিদ্রা  দূর করার জন্য এটা কতটা উপকারী। 
  • দাঁতের ব্যথায় মধু ও কালোজিরা দাঁতের ব্যথার জন্য মধু ও কালোজিরা খুবই উপকারী একটি উপাদান। মধু ও কালোজিরা একসাথে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে নিয়মিত সেভেন করার ফলে আপনার দাঁতের ব্যথা খুব দ্রুত ভালো হয়ে যাবে। 
  • শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে প্রতিদিন সকালে মধু ও কালোজিরা একসাথে মিশিয়ে খাওয়ার মাধ্যমে আপনার শরীরের দুর্বলতা কেটে যাবে এবং আপনার শরীরকে করে তুলবে সতেজ। এছাড়া মধু ও কালোজিরা প্রতিদিন সেবন করার মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়।


কালোজিরা খাওয়ার অপকারিতা

আমরা উপরে লেখা থেকে বুঝলাম কালোজিরার অনেক উপকারিতা হয়েছে। কালোজিরা যেমন অনেক বেশি উপকারিতা রয়েছে ঠিক এর পাশাপাশি কিছু অপকারিতা বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অতিরিক্ত কালোজিরা সেবন করার ফলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে কালোজিরা খাওয়ার ফলে কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে তার নিচে আলোচনা করা হলো। 

  • কালোজিরার তেল যদি অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরে লাগানো হয় তাহলে এলার্জির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কালোজিরা তেল পরিমাণ মতো ব্যবহার করতে হবে এবং যাদের এলার্জির মত প্রবলেম রয়েছে তাদের কম পরিমাণ ব্যবহার করাই উচিত। 
  • অতিরিক্ত পরিমাণে কালোজিরা সেবন করার ফলে আমাদের শরীরের রক্ত জমাট কমে বাধা যেতে পারে। তাই সে ক্ষেত্রে রক্তপাত হওয়ার মতো সম্ভাবনা থাকে। ফলে আমাদের সব সময় পরিমাণ মতো কালোজিরা সেবন করতে হবে, অতিরিক্ত পরিমাণে কালোজিরা না খাওয়াই উত্তম। 
  • বেশি পরিমাণে কালোজিরা খাওয়ার ফলে শরীরে শর্করার পরিমাণ কমে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে। তাই যাদের ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই শরীরের শর্করা চেকআপ করে নিবেন এবং শরীরের শর্করা চেকআপ করার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কালোজিরা খেতে পারেন।


পরিশেষে আমরা আমাদের উপরের লেখাতে কালোজিরার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে এবং কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে অনেক কথাই লিখেছি। যদি আমাদের লেখাটি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনি আপনার প্রিয়জনদের বা বন্ধুবান্ধবদের সাথে লেখাটি শেয়ার করতে পারেন বা আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আপনাদের ভালো লাগাই আমাদের লিখার সার্থকতা।

Post a Comment

0 Comments