Ticker

6/recent/ticker-posts

ইবোলা ভাইরাস কি ,কেন হয় ,এর লক্ষণ এবং উৎপত্তিস্থল



ইবোলা ভাইরাস কি ,কেন হয় ,এর লক্ষণ এবং উৎপত্তিস্থল

আফ্রিকার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোরএকটি প্রাণঘাতী অসুখের নাম হচ্ছে ইবোলা ভাইরাস। ইবোলা ভাইরাস একপ্রকার আরএনএ ভাইরাসের সাধারণ নাম। আজকে আমরা ইবোলা ভাইরাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। চলুন ইবোলা ভাইরাস কেন হয় ,ইবোলা ভাইরাস কি, এর লক্ষণ গুলো কি কি এবং এর উৎপত্তিস্থল কোথায় এই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

সূচিপত্র :

  • ইবোলা ভাইরাস কি ,কেন হয় ,এর লক্ষণ এবং উৎপত্তিস্থল 
  • ইবোলা ভাইরাস কি এবং উৎপত্তিস্থল 
  • ইবোলা ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়
  • ইবোলা ভাইরাস এর লক্ষণ সমূহ 
  • ইবোলা ভাইরাসের চিকিৎসা
  • ইবোলা ভাইরাস এর প্রতিরোধ সমূহ


ইবোলা ভাইরাস কি এবং উৎপত্তিস্থল 

আর এন এ ভাইরাসের একটি সাধারণ নাম হচ্ছে ইবোলা বা এবোল ভাইরাস। এই ভাইরাস সর্বপ্রথম ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে সুদানের জায়ার এবং আফ্রিকার কঙ্গোতে প্রথম শনাক্ত করা হয়। পরে এই রোগ কঙ্গোর ইবোলা  নদীর তীরবর্তী গ্রামে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় নদীর নাম অনুসারে এই রোগের নামকরণ করা হয় ইবোলা  Ebola hemorrhagic fever (EHF)। বর্তমানে এই রোগের নাম হচ্ছে Ebola virus disease (EVD) । সংক্ষেপে এই রোগকে বলা হয় এবোলা বা ইবোলা। 

১৯৭৬ সালে ইবোলা রোগের অনুসন্ধান করতে গিয়ে গবেষকরা এই ভাইরাসের সন্ধান পান। তাই এই সালকে ইবোলা ভাইরাসের আবিষ্কার বৎসর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই আফ্রিকায় এই রোগের কিছু না কিছু মানুষ মারা যায়। বর্তমানে এই রোগ  স্থল সীমানা পেরিয়ে সিয়েরা  লিওন ও লাইবেরিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে।  কতিপয় বিমান যাত্রীর মাধ্যমে নাইজেরিয়া এবং স্থলজাতির মাধ্যমে সেনেগালে ছড়িয়ে পড়ে। তবে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্বলতার কারণে ছড়িয়ে পড়ে ইবোলা ভাইরাস।


ইবোলা ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়

গবেষকদের মতে ইবোলা ভাইরাস এর প্রাথমিক গ্রাহক হিসেবে Pteropodidae গোত্রের ফল ভক্ষক পাখিদেরকে তুলে ধরা হয়েছে। এই সকল পাখির আংশিক ভক্ষিত ফল খাওয়ার মাধ্যমে অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী আক্রান্ত হয়। তারপর আক্রান্ত প্রাণীর রক্ত ,লালা, কাশি, ঘাম , চোখের পানি, বীর্য এর মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে থাকে। যে সমস্ত এলাকায় এই রোগের লক্ষণ মানুষদের মধ্যে দেখা যায় সেই সমস্ত এলাকায় যেসব প্রাণী মারা গিয়েছে তাদের মধ্যেও এই ভাইরাসের লক্ষণ দেখা গিয়েছে।

এবোলা ভাইরাস পাখির অর্ধেক খাওয়া ফল এবং যে সমস্ত প্রাণী ইবোলা ভাইরাস আক্রান্ত তাদের মাংস ভালো করে সিদ্ধ করে না খাওয়ার ফলে এই রোগ  সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কোন এলাকায় একজন এই রোগে আক্রান্ত হয় তাহলে ক্রমাগত তা মহামারীতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই ভাইরাসের সাধারণত শরীরের ঘা, চোখ, নাসারন্ধ, মুখ ,গলা ও প্রজনন তন্ত্রের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য একটি শরীরেও ছড়িয়ে যেতে পারে। এই ভাইরাস শুস্ক  আবহাওয়া বেশ কয়েক ঘন্টা বেচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


ইবোলা ভাইরাস এর লক্ষণ সমূহ 

ইবোলা ভাইরাস খুবই মারাত্মক একটি রোগ। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাথমিক যে সকল উপসর্গ রয়েছে তা অন্যান্য রোগের লক্ষণ এর সাথে একই রকম মনে হতে পারে। তাই অনেক সময় সংক্রমণিত লোক বেশ কয়েকদিন ধরে এই রোগ সম্পর্কে অনেকটাই অজ্ঞ থাকতে পারে। চলুন এগুলা ভাইরাসের লক্ষণগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। 

  1. জ্বর হওয়া 
  2. শরীর ব্যথা করা 
  3. শ্বাসকষ্ট হওয়া 
  4. মাথা ব্যথা করা 
  5. ক্ষুধা মন্দ হওয়া 
  6. ঠান্ডা ও কাশি হওয়া 
  7. নাক ও দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্তক্ষরণ হওয়া 
  8. পাতলা পায়খানা হওয়া 
  9. কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকা 
  10. শরীরের দুর্বলতা বাড়তে থাকা 
  11. ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের দেখা দেওয়া 
  12. পেট ব্যথা 
  13. অবর্ণনীয় রক্তপাত এবং ক্ষত হওয়া 
  14. পেশী সমতল হয়ে যাওয়া 
  15. বমি বমি ভাব হওয়া

ইবোলা  ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে এই উপসর্গ দেখা দিতে ০২-২১দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে গড়ে ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি দেহে এই রোগের লক্ষণগুলো ফুটে ওঠে। তবে কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এর ভিন্নতা দেখা যায় অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ভেঙে পড়ে।


ইবোলা ভাইরাসের চিকিৎসা

সংক্রমিত ব্যক্তির মাঝে লক্ষণগুলো দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবন যাপন করতে হবে।  একজন চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা ছাড়াও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ এর মাধ্যমে রোগীর সমস্যা ধরতে সক্ষম হয়। যেহেতু ইবোলা এক্সপোজারের তিন সপ্তাহের  মধ্যেই সংক্রমিত হতে পারে সেহেতু যে কেউ তিন সপ্তাহের মধ্যে  অনুভব করতে পারে। তবে যদি ২১ দিনের পরে  কোন উপসর্গ দেখা না যায় তাহলে ইবোলা  বাতিল হয়ে যাবে। এই সময় ইবোলা  ভাইরাসের জন্য কোন প্রতিকার নেওয়ার প্রয়োজন নেই। 

ইবোলা ভাইরাসের সংক্রামিত হইলে আপনার রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ঔষধ গ্রহণ করতে পারেন। তাছাড়া শরীরের ইলেকট্রোলাইট স্তরের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। অতিরিক্ত অক্সিজেন প্রয়োজনে শিরায় ও মৌখিক তরল ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধের জন্য এবং সহাবস্থানের সংক্রমণের জন্য এর চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন।


ইবোলা ভাইরাস এর প্রতিরোধ সমূহ 

  • ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে 
  • আক্রান্ত ব্যক্তির জিনিসপত্র যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে 
  • যদি কোন ব্যক্তি এমন জায়গায় বাস করে যেখানে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের  ঝুঁকি বেশি সেই সমস্ত জায়গায় মানুষগুলোকে ঘন ঘন কাপড় এবং হাত সেনিটাইস করে নিতে হবে 
  • যেসব মাংস প্রক্রিয়াজাত করা না সেইসব মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে 
  • যথাসম্ভব চেষ্টা করতে হবে বাদুড়ে খাওয়া কোন ফল যেন না খাওয়া হয় 
  • এবং যথাসম্ভব জনসংযোগ কমিয়ে দিতে হবে


ইবোলা ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক আজ পর্যন্ত তৈরি হয়নি। তাই আমাদের যথাসম্ভব সর্বোচ্চ সর্তকতা মেনে চলতে হবে এবং এর প্রতিরোধ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

Post a Comment

0 Comments