Ticker

6/recent/ticker-posts

মাথা ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়



 মাথা ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

মাথা ব্যথার নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই, বিভিন্ন কারণে মাথা ব্যথা হতে পারে। তার মধ্যে অতিরিক্ত পরিশ্রম বা মানসিক চাপ ইত্যাদির কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। তাছাড়া বিভিন্ন কারণ আছে যেগুলোর জন্যে  মাথাব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে আমাদের যখন মাথাব্যথা হয় তখন আমরা মাথা ব্যথা কমানোর জন্য ব্যথা নাশক ওষুধ সেবন করে থাকি। এসব ব্যথা নাশক ওষুধে অল্প বিস্তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে, আর সাথে দীর্ঘমেয়াদী শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে থাকে।

তাই আমাদের এসব ওষুধ প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রহণ না করাই উত্তম। তবে অতিরিক্ত মাথা ব্যথা হলে ঘরোয়া কিছু উপায় অবলম্বন করে মাথাব্যথা দূর করা যায়। আজকে আমরা আমাদের এই লেখাটিতে মাথাব্যথা কমানোর ঘরোয়া কিছু উপায় নিয়ে কথা বলব। চলুন জেনে নেয়া যাক মাথা ব্যথা কমানোর ঘরোয়া কিছু উপায়।


সূচিপত্র:

  • মাথা ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
  • মাথা ব্যথার কারণ কি
  • কি খেলে মাথা ব্যথা কমে
  • মাথা ব্যথার ব্যায়াম
  • মাথা ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা


মাথা ব্যথার কারণ কি

মাথা ব্যথা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। যেসব কারণে মাথাব্যথা হয়ে থাকে সেই সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। 

  1. দুশ্চিন্তা জনিত মাথাব্যথা সবচেয়ে কমন যে মাথাব্যথা তা হল দুশ্চিন্তা জনিত কারণে মাথাব্যথা। আমাদের সবারই মোটামুটি এই ধরনের মাথাব্যথার সাথে পরিচয় রয়েছে। কাজের চাপ, বিশ্রামের অভাব, কোন কিছু নিয়ে অনেক সময় ধরে চিন্তিত থাকা ,সঠিকভাবে ঘুম না হওয়া ইত্যাদির কারণে এই ধরনের মাথাব্যথা হতে পারে। এই ব্যাথাটি সাধারণত সারা মাথা জুড়ে হয়ে থাকে। এটার আকার তীব্র না হলেও সারাক্ষণ এই ব্যথাটি থাকে। সকাল সকাল বা সকালের দিকে এই ব্যথাটি কম থাকলেও আস্তে আস্তে ব্যাথার তীব্রতা বাড়তে থাকে। 
  2. মাইগ্রেন জনিত মাথাব্যথা মাথাব্যথার মধ্যে সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করে মাইগ্রেনের কারণে মাথাব্যথা হলে। সাধারণত এই ব্যথায় মেয়েরা অনেক বেশি ভোগে থাকে। এই ব্যথা মাথার একপাশে বেশি অনুভূত হয়। সারাক্ষণ না থেকে থেমে থেমে হয় এবং তার তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে থাকে।এ ব্যথায় সাধারণত রোগীরা অন্ধকার ঘরে শুয়ে থাকতে বেশি পছন্দ করে। এই ব্যথা কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত থাকতে পারে। 
  3. এলার্জি জনিত ব্যথা  মাথা ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে এলার্জি। এলার্জির কারণে সাধারণত স্নায়ুতন্ত্রে ব্লকেজের সৃষ্টি হয়। যার ফলে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ পড়ে ,আর মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারণে মাথায় ব্যথা অনুভূত হয়। 
  1. ক্লাস্টার হেডেক ক্লাস্টার হেডেকে সাধারণত চোখের চারপাশে এই ব্যথা অনুভূত হয়।  এই ধরনের মাথাব্যথা হঠাৎ করে শুরু হয়ে এর আকার তীব্রতর হতে পারে।  মাথার যেকোনো এক পাশ থেকে এই ব্যাথা শুরু হয়ে আস্তে আস্তে চোখের দিকে অগ্রসর হয়। একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর দিনে কয়েকবার এই ব্যথা হতে পারে। স্থায়িত্ব ৫ থেকে ১০ মিনিট  থেকে শুরু করে তিন ঘন্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। ক্লাস্টার  হেডেক এর কারণে চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া ,চোখের চারপাশ ফুলে যাওয়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ,দৃষ্টিশক্তিতে ব্যাঘাত ঘটার মতো সমস্যা হতে পারে। সাধারণত এই ব্যথা দিনে কিংবা রাতে নির্দিষ্ট সময় পর পর, নির্দিষ্ট সময় নিয়ে থাকে বলে এই ব্যথাকে  ক্লাস্টার হেডেক বলে।
  2. সেকেন্ডারি হেডেক সাধারণত ব্রেনের কোন সমস্যার কারণে যেমন টিউমার, সিজার ব্রেনের রক্তনালীতে কোন ইনফেকশন ইত্যাদি কারণে এই মাথা ব্যথা হতে পারে। এ ধরনের মাথাব্যথা হলে দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কেননা এই ধরনের মাথাব্যথাতে আপনি যত দেরি করবেন ক্ষতির হার তত  ভাড়া সম্ভাবনা বেশি। 
  3. সাইনাস জনিত মাথা ব্যথা নাকের দু পাশের হার ও কপালের হাড়ের ভেতর কিছু ছোট ছোট ফাঁকা জায়গা থাকে। এগুলোকে সাধারণত সাইনাস বলে। এই ফাঁকা জায়গাগুলোতে বাতাস থাকে ,আর এই ফাঁকা জায়গার বাতাসগুলো আমাদের মস্তিষ্কের ভারের সমতা বাজায় রাখে। এইসব সাইনাসের আবরণ যখন প্রদাহ  সৃষ্টি হয়। তখন সাইনাস গুলোতে  বাতাস ও সর্দি জমে থাকে। এর ফলে সাইনাস গুলোর জায়গায় তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। 
  4. সেক্সুয়াল হেডেক সাধারণত স্বামী স্ত্রীর মিলনের পরে বা আগে এই ধরনের মাথাব্যথা হতে পারে ,এর নাম সেক্সুয়াল হেডেক বলা হয়। সাধারণত প্রচন্ড এক্সারসনে ব্রেনে রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে এই ধরনের ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই ব্যথা তেমন একটা খুব তীব্র হয় না এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। 
  5. হরমোনাল হেডেক মেয়েদের শরীরের হরমোনের তারতম্যের কারণে অনেক সময় তাদের মাথাব্যথা হয় ,এই ধরনের ব্যথাকে  হরমোনাল হেডেক বলে। সাধারণত মাসিকের সময় কিংবা এর আগে ওপরে ইস্ট্রাজেন  হরমোন কমে যায় আর যার ফলে ব্যথা হয়। এছাড়া গর্ভাবস্থায় হরমোনের তারতম্যের জন্যও মাথাব্যথা হতে পারে। 
  6. ক্রনিক ডেইলি হেডেক সাধারণত মাসের প্রায় প্রতিদিনই মাথায় চিন চিন করে ব্যথা অনুভূত হয় ,একে ক্রনিক ডেইলি হেডেক বলে। এ ব্যথা হলে দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন ,ঘুমের একটি নির্দিষ্ট সময় মেনে চলুন। এতে করে  আপনার ব্যথা ভালো হয়ে যাবে। 
  7. হজমে গন্ডগোল জনিত ব্যথা সাধারণত যখন আমরা কোন কিছু খাওয়ার পরে হজমের গন্ডগোল হয় তখন এই কারণে মাথাব্যথা অনুভূত হতে পারে। এটা সাধারণত খাবার গ্রহণের প্রভাবের কারণেই হয়ে থাকে। আবার অনেক সময় বিপরীতভাবে ক্ষুধার কারণেও মাথা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এছাড়া ফুড এলার্জির কারণে অনেক সময় মাথাব্যথা হয়ে থাকে। 
  8. ক্যাফেইনের প্রভাবে ব্যথা সাধারণত যারা রেগুলার কফি  পান করে থাকে তারা যদি সময়মতো কফি  না পায় তাহলে মাথায় এক ধরনের ব্যথার অনুভূত হয়। এ অবস্থা দেখা দিলে ধীরে ধীরে কফি  পান ছেড়ে দেওয়া উচিত। কারণ কফিতে থাকে কেফেন আসলে এক ধরনের নেশা উদ্রেককারী বস্তু রয়েছে।


কি খেলে মাথা ব্যথা কমে

শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সবার কাছেই মাথা ব্যথা শব্দটা অনেক বেশি পরিচিত। মাথা ব্যথা কমানোর জন্যে কিছু খাবার রয়েছে যে গুলো খাওয়ার মাধ্যমে মাথা ব্যথা অনেক কমে যায়। কালুন খাবার গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। 

  1. আদা আদা আমাদের জন্যে খুবই ভালো একটি খাবার। আদা মাইগ্রেন এর সমস্যা এবং মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে অনেক বেশি সহায়তা করে থাকে।  তাই আপনি আপনার মাথা ব্যথা দূর করার জন্যে আদা চা কিংবা খাবারে আদা রাখতে পারেন। 
  2. তরমুজ আমাদের মাথা ব্যথা হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে ডিহাইড্রেটেশন। তাই পানি পান করার মাদ্ধমে কিংবা পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ করার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই মাথা ব্যথা দূর করতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে তরমুজ আপনার জন্যে খুব ভালোই একটি খাবার হতে পারে। কারণ তরমুজ এ রয়েছে ৯২ ভাগ পানি। যা আপনাকে আবারো হাইড্রেট করে তুলতে অনেক বেশি সহায়তা করে। তাছাড়া তরমুজে রয়েছে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় পুষ্টি যা আপনার মাথা ব্যথা কমাতে অনেক বেশি সহায়তা করে থাকে। 
  3. পালং শাক ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় খাবার আমাদের মাথা ব্যথা কমাতে অনেক বেশি সহায়তা করে থাকে। সেই ক্ষেত্রে পালং শাক হতে পারে আপনার জন্য উপযুক্ত খাবার। কারণ  পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম। এক কাপ পালং শাকের  মধ্যে ২৪ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম থাকে। তাছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত ম্যাগনেসিয়াম সেবন করলে মাইগ্রেন হওয়ার আশঙ্কা ৪১.৮ শতাংশ কম হতে পারে। 
  4. কার্বোহাইড্রেট সঠিক পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ না করার ফলে আমাদের মাথাব্যথা হতে পারে।  কারণ অল্প পরিমাণে কার্বোহাইডেট আমাদের  গ্লাইকোজেন  এর পরিমাণ হ্রাস করে। আর এই গ্লাইকোজেন মস্তিষ্কের শক্তির প্রধান উৎস। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার আমাদের মাথা ব্যথাকে প্রশমিত করে। 
  5. দই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার আমাদের মাথাব্যথা কে প্রশমিত করতে পারে।  কারণ ক্যালসিয়ামের অভাব হলে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। দই তে  রয়েছে প্রচুর পরিমানে রাইবোফ্লাভিন যা ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের  একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর এটি মাথাব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।


মাথা ব্যথার ব্যায়াম

মাথা ব্যাথা কমানোর জন্য সবচেয়ে উত্তম একটি উপায় হচ্ছে নিয়মিত ব্যায়াম করা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে রেগুলার ব্যায়াম করার মাধ্যমে এবং হাটাহাটি করার মাধ্যমে মাথা ব্যথা তুলনামূলক ভাবে কম হয়। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক মাথাব্যথা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য কিছু ব্যায়াম সম্পর্কে। 

  • শ্বাসের ব্যায়াম প্রথমে একটি নিরিবিলি ঘর বেছে নিন ,তারপর মেঝেতে কার্পেট বিছিয়ে সুন্দর করে বসে পড়ুন। এরপর গভীরভাবে একবার 5 পর্যন্ত গুনতে গুনতে শ্বাস নিতে থাকুন তারপর আবার পাঁচ পর্যন্ত গুনতে গুনতে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে আপনার শ্বাসটা যেন পেটের ভেতর থেকে আসে। এভাবে কয়েকবার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে এক্সারসাইজ করুন। 
  • শিথিলায়ন ব্যায়াম আপনার চোখটাকে বন্ধ করে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। শুয়ে আপনার মাথা ব্যথার কেন্দ্রবিন্দুটি স্থির করে নিন। তারপর গভীরভাবে শ্বাস নিতে নিতে চেষ্টা করুন আপনার মাংসপেশিগুলোকে শিথিল করে দিতে। ঘাড়ের উপর থেকে মাথাটাকে ধীরে ধীরে চারদিকে ঘুরাতে থাকুন। তারপর কাঁধ  উঁচু নিচু  করার ব্যায়াম করতে থাকুন।  এই ব্যায়াম করার সময় মনে মনে কোন সুন্দর ভাবনা বা দৃশ্য কল্পনা করতে পারেন।  তারপর ধীরে ধীরে শ্বাসটা ছেড়ে দিন ,এইভাবে টানা ১০ মিনিট ধরে ব্যায়ামটা করবেন। 
  • যোগব্যায়াম নানা ধরনের মেডিটেশন কিংবা যোগব্যায়ামের সাহায্য নিতে পারেন মাথা ব্যথা কমানোর জন্য।  নিয়মিত ব্যায়াম করার মাধ্যমে শরীর হালকা ও ঝরঝরে হয় এবং মাংসপেশিতে রক্ত চলাচল বাড়ে। ব্যায়াম স্নায়ু থেকে এনডোরফিন নিঃসৃত করে এবং যা উত্তেজিত মাথা ব্যথা কমাতে অনেক বেশি সহায়ক। পছন্দের যেসব ব্যায়াম রয়েছে যেমন সাইকেল চালানোর, জগিং করা ,বাগান করা ,সাঁতার কাটা,নাচ করা ইত্যাদি অভ্যাস করতে পারেন।


মাথা ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা

আমরা উপরে লেখা থেকে জানতে পেরেছি যে মাথা ব্যথার কোন নির্দিষ্ট কারণ নেই।  যে কোনো কারণেই মাথাব্যথা হতে পারে। তবে মাথা ব্যাথা কমানোর জন্য ঘরোয়া কিছু উপায় অবলম্বন করলে সহজেই মাথাব্যথা কমে যায়। আজকে আমরা এখান থেকে জানতে পারবো যে কি সব উপায় অবলম্বন করলে আমাদের মাথাব্যথা সহজেই কমে যাবে। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক মাথা ব্যাথা কমানোর ঘরোয়া উপায় সমূহ সম্পর্কে। 

  1. ম্যাসাজ যখন আপনার মাথা ব্যথা শুরু হবে তখন কপালে দুই পাশ থেকে রগ বা ঘাড়ের কাছে যদি কিছুক্ষণের জন্য আঙ্গুলের ডগা দিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন তাহলে মাথাব্যথা অনেক  কমে যাবে। ক্লান্তির কারণে মাথাব্যথা ধরলে এই ম্যাসাজ অনেক বেশি কাজে দেয়। কেননা আঙ্গুলের ডগার চাপ ব্যথার উৎপত্তিস্থলে  গিয়ে কাজ করে থাকে। 
  2. হাইড্রেট রাখা অনেক সময় মাইগ্রেনের কারনেও আমাদের মাথা ব্যাথা হতে পারে। আর ইদানিং ওয়ার্ক ফ্রম হোম এর কারণে কাজের প্রেসার অনেক বেড়েছে ,যার কারণে ও মাথা ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই আপনি নিয়ম করে বেশি পরিমাণ পানি পান করতে পারেন। এছাড়া মাথা ব্যথা হলে অল্প গরম পানি পান করতে পারেন। নিজেকে হাইড্রেট রাখার জন্য ডাবের পানি,জুস ,স্যুপ  এসব বেশি বেশি খেতে পারেন। চা ,কফি যত কম খাবেন ততই আপনার জন্য ভালো। 
  3. আদা চা পান করা আমরা জানি আদা একটি প্রদাহ নাশক  মসলা জাতীয় খাবার। যখন আপনার মাথাব্যথা হবে তখন যদি আদা চিবুতে পারেন বা আদা  চা পান করতে পারেন তাহলে মাথা ব্যথা এমন কি অন্যান্য যেসব ব্যথা রয়েছে সেগুলো উপশম হয়। তাই মাথাব্যথা সময় আদা চা কিংবা আদা চিবুতে পারেন।
  4. সময়মতো ঘুমানো মাথা ব্যথার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে নিয়ম মেনে না ঘুমান। প্রতিদিন নিয়ম করে ঘুমালে মাথা ব্যথা অনেক কম হয়। রাতে কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে। আপনি যদি ঠিকমতো না ঘুমান তাহলে কিন্তু কোন সমস্যারই সমাধান হয় না। এতে করে আরো অনেক বেশি সমস্যা বাড়ে। মানুষিক  চাপ বেড়ে যায়, শরীরের অন্যান্য প্রভাব পড়ে। দিনের পর দিন মাথাব্যথার মত যদি সমস্যা গুলো থাকে তাহলে পরবর্তীতে সমস্যা থেকে জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
  5. সুষম খাবার গ্রহণ করা শরীরটা সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজন খনিজ আর ভিটামিন। আর তাই সবসময় চেষ্টা করতে হবে সুষম খাবার গ্রহণ করতে। অনেক সময় অপুষ্ট থেকেও কিন্তু আমাদের মাথা ব্যথা হয়। বেশিক্ষণ খালি পেটে থাকলে সেখান থেকেও মাথাব্যথা হতে পারে। কেননা দেরি করে খাবার খাওয়ার পরে মস্তিষ্কের গ্লুকোজ সরবরাহ কম হয়। সেখান থেকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই রোজ এমন সব খাবার খেতে হবে যেন আমাদের শরীরের বিপাক ঠিকঠাক থাকে। 
  6. কম আলোতে থাকা আপনার যখন মাথা ব্যাথা শুরু হবে বা মাথার যন্ত্রনা শুরু হবে তখন ঘরের আলো কমিয়ে দিতে পারেন। অথবা আপনি যদি কম্পিউটারের স্ক্রিন, ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোনে থাকেন তাহলে এসব থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। আর যদি বাহিরে থাকেন তাহলে অবশ্যই ভালো মানের রোদ  চশমা ব্যবহার করুন। 
  7. বিশ্রাম নেওয়া আপনি যদি মাথা ব্যথা অনুভব করেন তাহলে একটি শান্ত, অন্ধকার রুমে চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করুন।  কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পরেই দেখবেন মাথা ব্যাথা অনেক কমে গিয়েছে। 
  8. গোসল করা আপনার যদি মাথাব্যথা তীব্রতর হয়ে থাকে তাহলে আপনি দেরি না করে  গোসল করতে পারেন। কেননা মাথায় কিছুক্ষণ ঠান্ডা পানি ঢাললে মাথা ঠান্ডা থাকে।  এতে করে আপনার ভালো লাগবে। 
  9. এসেনসিয়াল অয়েল আঙ্গুলের মাথায় এসেনসিয়াল অয়েল লাগিয়ে কপালে আর ঘাড়ের রগে মাসাজ করতে পারেন। ল্যাভেন্ডার বা পিপারমিন্টের মতো কোন সুগন্ধি ফ্লেভারের তেল দিয়ে ম্যাসাজ  করার ফলে মাথার যন্ত্রণা অনেক কমে যায়।


পরিশেষে মাথাব্যথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি জটিল সমস্যা। যদি মাথা ব্যথা হঠাৎ করে হয় তাহলে এত বেশি চিন্তিত হওয়ার তেমন কিছু নেই। কিন্তু যদি রেগুলার মাথাব্যথা হয় এবং মাথা ব্যথার পরিমাণ অসহ্যনিয়  হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।


Post a Comment

0 Comments