Ticker

6/recent/ticker-posts

পালং শাক চাষ পদ্ধতি



 পালং শাক চাষ পদ্ধতি

পালং শাক আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয় পুষ্টিকর ও সুস্বাদু সবজি হিসেবে খুবই পরিচিত। পালং শাক দেশের প্রায় সকল স্থানে চাষ করা যায়। সাধারণত পালং শাক চাষের জন্য উর্বর দোআঁশ  মাটি বেশ উপযোগী। তাছাড়া এটেল কিংবা বেলে দোআঁশমাটিতেও পালন শাক  খুব ভালো চাষ হয়। 

চলুন পালং শাক চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। 


পালং শাকের জাত আমাদের দেশে পালং শাকের বেশ কিছু জাত খুবই পরিচিত। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পুষা জয়ন্তী, কপি পালং, গ্রিন, সবুজ বাংলা ও টকপালং। এছাড়াও আরো কিছু পালং শাকের জাত রয়েছে যেগুলো হচ্ছে নবেল জায়েন্ট, ব্যানার্জি জায়েন্ট, পুষ্প জ্যোতি ইত্যাদি। এই কয়েকটা জাত আমাদের দেশে বেশ পরিচিত।


আল নির্বাচন ও জমির তৈরি আগেই বলেছি পালং শাক চাষ করার জন্য সবচেয়ে উর্বর মাটি হচ্ছে দোআঁশ  মাটি। সেই ক্ষেত্রে দোআঁশ মাটি নির্বাচন করে জমিতে ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটিগুলোকে মিহি করে নিতে হবে। তারপর জমিতে আল  তৈরি করার মাধ্যমে উঁচু আলের  উপর পালং শাক বীজ বপন করার জন্য নির্বাচন করতে হবে। সাধারণত উঁচু আলে কিছুটা আগাম পালং শাকের বীজ বপন করা হয়ে থাকে।


স্যারের নাম, প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী ও শতক প্রতি পরিমাণ সাধারণত পালং শাকের জমিতে নিয়ম অনুযায়ী গোবর ,ইউরিয়া, টিএসপিও এমপি সাত সার প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। ইউরিয়া ছাড়া সব সার জমির শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। তবে শুধুমাত্র গোবর সার জমি তৈরির প্রথম থেকে প্রয়োগ করা উত্তম। আর ইউরিয়া সার গুলো যারা গজানোর ৮ থেকে ১০ দিন পর অথবা ১০ থেকে ১২ দিন পর দুই তিন কিস্তিতে উপরি  প্রয়োগ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়। শতক প্রতি গোবর সার এর পরিমাণ ৪০ কেজি ,ইউরিয়া সার দিতে হয় ১ কেজি ,টিএসপি সার দিতে হয় ৫০০ গ্রাম এবং এমপি সার দিতে হয় ৫০০ গ্রাম।


বীজ বপন এর নিয়মাবলী সাধারণত আমাদের দেশে সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত বীজ বপন করা হয়ে থাকে। বীজ বপণের ক্ষেত্রে ১০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে বীজ বপন  করতে হয়। তবে অনেকে ছিটিয়েও বীজ  বপন করে থাকে। বীজ বপন করার প্রায় ৭ থেকে ৮ দিন পর  অঙ্কুরোদগম হয়। বীজ বপনের ক্ষেত্রে প্রথমে জমিতে আলে সরাসরি বিচ ছিটিয়ে বা গর্ত তৈরি করে মাদায় বপন  করা হয়ে থাকে।  অথবা বীজ  তলায় চারা তৈরি করে সেই চারা রোপন করেও পালং শাক জমিতে চাষ করা যায়। বীজ বপন করার পূর্বে সর্বপ্রথম২৪ ঘন্টা বীজ  পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।  বীজ বপনের ক্ষেত্রে সাধারণত দুই থেকে তিনটি করে বীজ নির্দিষ্ট দূরত্বে গোপন করতে হয়। সাধারণত প্রতিটি আলে ৩৫ থেকে ৪০ গ্রাম বীজ বপন করা হয়। আর প্রতি শতকের ক্ষেত্রে ১১৭ গ্রাম বীজ বপন করা যায়। প্রতি একরে এর পরিমাণ হলো ৯ থেকে ১১ কেজি এবং প্রতি হেক্টরে বীজ বপণের হার হল ২৫ থেকে ৩০ কেজি।


আগাছা রোগ ও পোকা দমন ব্যবস্থাপনা পালং চাষ জমিতে যেন আগাছা না জমে সেদিকে অনেক বেশি পরিমাণে খেয়াল রাখতে হবে। আগাছা গাছের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাধা দেয় এবং গাছের সকল পুষ্টি শোষণ করে থাকে। তাই আগাছা জন্মানোর সাথে সাথে তা পরিষ্কার করে দিতে হবে।পালং শাকের যেসব রোগ হয়ে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গোরা পচা রোগ ,পাতায় রোগ ,পাতার ধসা রোগ ইত্যাদি। তবে এগুলোতে প্রয়োজন অনুসারে জৈব সার ও কীটনাশক ব্যবহার করলে তার দ্রুতই ভালো হয়ে যায় ,তবে পাতায় বা ডালে এইসব রোগ দেখা দিলে তা তুলে ফেলে দিতে হবে। বীজ সংগ্রহ করার সময় এমন এলাকা থেকে বীজ  সংগ্রহ করতে হবে যে এলাকায় রোগ  মুক্ত। পালংশাকে মাঝে মাঝে পিঁপড়া উরচুঙ্গা ,উইপোকা ইত্যাদি আক্রমণ করে থাকে। সেই ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বালাইনাশক দিতে হবে।


সেচ ও পরিচর্যা পালং শাক চাষ করার জমিতে রস কম থাকলে অবশ্যই সেখানে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। মাটির রসের অবস্থা বুঝে জমিতে সেচ দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন জমিতে পানি না জমে তার জন্য নিষ্কাশন এর ব্যবস্থা করে দিতে হবে। প্রয়োজন হলে চারা রোপন করার পর হালকা সেচ দেওয়া ভালো। নিড়ানির ক্ষেত্রে জমির ঘাস সময়মতো বাছাই করতে হবে। বীজ বপনের ১৫ থেকে ২০ দিন পর গাছ উঠিয়ে তা পাতলা করে দিতে হবে এবং মাঝে মাঝে মাটিগুলোকে ঝুরঝুর করে দিতে হবে। গাছের বৃদ্ধি ও  দ্রুত ফলন ভালো হওয়ার জন্য মাটিকে আলগা করে দেওয়া উত্তম।


ফসল সংগ্রহ বীজ বপন করার পর থেকে ৩০ থেকে ৪০ দিন পর পালং শাক সাধারণত সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। একটি গাছে ফুল না আসা পর্যন্ত এর ফলন সংগ্রহ করা যায়। প্রতি বিঘা জমে থেকে পায় ২.৫ টন পালন শাক পাওয়া যায়।


টবে পালং শাক চাষ পদ্ধতি

পালং শাক জমিতে চাষ করার পাশাপাশি ছাদ বাগানে বা টবে চাষ করা যায়। চলুন টবে বাগান করার পদ্ধতি গুলো জেনে নেওয়া যাক। 

  • প্রথমে ছাদে প্লাস্টিকের বড় গামলা অথবা টব নির্বাচন করুন। 
  • বীজ বপন করার পূর্বে প্রতিটি ডাম বা টবের মধ্যে দোঁ-আশ মাটি ১০-১২কেজি, পচা আবর্জনা সার ৫কেজি, পচা গোবর ৫ কেজি, ছাই ৫ কেজি, টিএসপি ও এমপি যথাক্রমে ১০০ ও ১২০গ্রাম এবং ১০০-১১০গ্রাম পরিমাণ সরিষার খৈল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। 
  • লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে সার ও মাটি ভালোভাবে মিশিয়ে নেওয়ার আগে দেখতে হবে এটা হালকা ধরনের শুকনো আছে কিনা। 
  • যদি মাটি ও সার ভেজা থাকে তাহলে এটা হালকা রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। 
  • তারপর ড্রাম বা টপ সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে ভরাট করে নিতে হবে 
  • মাটি দিয়ে টপ বা ড্রাম্প ভরার করার পর সেখানে বীজ বপন করতে হবে। 
  • বীজ বপন করার পর যদি মনে হয় পানির দিতে হবে তাহলে হালকা পরিমাণ পানি দিতে হবে। 
  • বীজ বপন করার পর থেকে সকাল বিকাল দুইবার পানি দিতে হবে। 
  • খেয়াল রাখতে হবে টবে  যেন অতিরিক্ত পানি জমে না থাকে। 
  • টবে  যদি কোন আগাছা জন্মে তাহলে সেটা পরিষ্কার করে দিতে হবে। 
  • চারা গজানোর ১৫-২০ দিন পর ঘন জায়গার গাছ উঠিয়ে তা হালকা করে দিতে হবে। 
  • গামলা, ড্রাম বা টব প্রতি ১০-১৫গ্রাম ইউরিয়া সার ১৫, ২৫ ও ৩৫দিন পরপর দিতে হবে।
পালং শাক হচ্ছে খুবই উপকারী একটি সবুজ পাতা সবজি। এটার চাষ ভালোভাবে করলে এর ফলন অনেক বেশি পাওয়া যায়।

Post a Comment

0 Comments